বকাঝকা না করে কীভাবে বন্ধু হবেন সন্তানের? মানুন এই টিপস - 24 Ghanta Bangla News
Home

বকাঝকা না করে কীভাবে বন্ধু হবেন সন্তানের? মানুন এই টিপস

Spread the love

বকাঝকা না করে কীভাবে বন্ধু হবেন সন্তানের? মানুন এই টিপস

শৈশব পেরিয়ে কৈশোরে পা রাখা মানেই বিশাল বদল। এই সময় ছেলে-মেয়েরা না বড়, না ছোট—এক অদ্ভুত দোলাচলের মধ্যে দিয়ে যায়। হরমোনের পরিবর্তন আর বাইরের জগতের হাতছানি তাদের মেজাজকে যেমন খিটখিটে করে তোলে, তেমনই বাবা-মায়ের সঙ্গে তৈরি হয় দূরত্ব। অনেক সময় কড়া শাসন হিতে বিপরীত হয়ে দাঁড়ায়। আজকের ডিজিটাল যুগে দাঁড়িয়ে কেবল শাসন দিয়ে নয়, বরং কৌশলে আর ভালোবাসায় তাদের মনের কাছাকাছি যাওয়া উচিত। আপনার সন্তান কি ক্রমেই আপনার থেকে দূরে সরে যাচ্ছে? জেনে নিন কী ভাবে গড়ে তুলবেন সুন্দর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক।

অনেকেই অনেক সময় সন্তানের সামনে নিজেদের এমন ভাবে উপস্থাপন করেন যেন নিজেরা কোনওদিন কোনও ভুলই করেননি। এতে সন্তান ভয় না পেয়ে আপনার সঙ্গে কোনও কথাই ভাগ করে নেবে না। বরং আপনি যদি আপনার সন্তানকে আপনার অতীতে করা কোনও ভুলের গল্প শোনান তাহলে আপনিও যে একজন রক্ত-মাংসের মানুষ এবং আপনারও যে খারাপ লাগা বা দ্বিধা থাকতে পারে, সেটা আপনার সন্তান বুঝতে পারবে। এতে সে আপনাকে ‘কর্তৃপক্ষ’ না ভেবে ‘সহযোদ্ধা’ ভাবতে শুরু করবে।

আজকালকার কিশোর-কিশোরীদের জগতের একটা বড় অংশ জুড়ে আছে সোশ্যাল মিডিয়া বা গেমিং। আপনি যদি সারাক্ষণ ফোন নিয়ে বকাবকি করেন, তবে দূরত্ব বাড়বে। বরং মাঝেমধ্যে তার পছন্দের কোনও গেম তার সঙ্গে খেলুন বা সে কোন ধরনের রিলস পছন্দ করছে তা নিয়ে আগ্রহ দেখান। তার ডিজিটাল জগতকে ঘৃণা না করে সেটাকে বোঝার চেষ্টা করলে, সে-ও আপনাকে তার ব্যক্তিগত পরিসরে জায়গা দিতে কুণ্ঠা বোধ করবে না।

কথায় কথায় ‘আমাদের সময় এমন হতো’— বললে আপনার সন্তান বিরক্ত হয়ে যাবে। তাদের কোনও ভুল ধরিয়ে দিতে হলে সরাসরি উপদেশ না দিয়ে গল্পের ছলে কোনও অভিজ্ঞতার কথা বলুন। সিদ্ধান্তটা তার ওপরেই ছাড়ুন। যখন সে দেখবে আপনি তাকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছেন না, তখন সে নিজে থেকেই আপনার মতামতের গুরুত্ব দিতে শুরু করবে।

সব বিষয়ে বাগড়া দিলে সন্তান বিদ্রোহী হয়ে ওঠে। জামাকাপড় পরা, চুল কাটা বা ঘর অগোছালো রাখার মতো ছোটখাটো বিষয়ে তাকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিন। যখন আপনি ছোট বিষয়ে ছাড় দেবেন, তখন পড়াশোনা বা ড্রাগসের মতো বড় ও স্পর্শকাতর বিষয়ে যখন আপনি কড়া হবেন, তখন সে আপনার গুরুত্ব বুঝবে। সব বিষয়ে বাধা দিলে সে আপনার আসল উদ্বেগগুলোকেও কেবল ‘ঘ্যানঘ্যানানি’ বলে উড়িয়ে দেবে।

সব সময় কথা বলেই মনের ভাব প্রকাশ করতে হবে এমন নয়। কখনও কখনও পাশাপাশি বসে চুপচাপ সিনেমা দেখা বা বৃষ্টি ভেজা বিকেলের চা-ও অনেক না বলা কথা বলে দেয়। সন্তান কথা বলতে না চাইলে তাকে জোরাজুরি করবেন না। শুধু তাকে এইটুকু বুঝিয়ে রাখুন যে, সে যখনই কথা বলতে চাইবে, আপনি তার জন্য আছেন। এই নিঃশর্ত আশ্রয়টুকুই একজন কিশোরের কাছে সবথেকে বড় পাওনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *