TMC: শাসকদলের জেলা কমিটির সদস্যকে বহিষ্কার ব্লক সভাপতির, খোঁচা দিলেন বহিষ্কৃত নেতা – Bengali News | Internal conflicts in TMC, block President takes steps against leader and his aides in Purba Bardhaman
কী বলছেন শাসকদলের দুই নেতা?Image Credit: TV9 Bangla
পূর্ব বর্ধমান: দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নিয়ে একাধিকবার কড়া বার্তা দিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আর মাস সাতেক পর বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন। গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব মেটাতে বার্তা দিয়েছেন তিনি। এরই মধ্যে পুজো মিটতে না মিটতেই পূর্ব বর্ধমানে শাসকদলে বিশৃঙ্খলা। দলবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগ তুলে দলেরই পূর্ব বর্ধমানের বৈকুণ্ঠপুর ১ পঞ্চায়েতের উপপ্রধান জয়দেব বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ ছয়জনকে বহিষ্কার করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের বর্ধমান ২ নম্বর ব্লকের সভাপতি পরমেশ্বর কোনার।
সাংবাদিক বৈঠক করে উপপ্রধান-সহ ৬ জনকে বহিষ্কারের কথা জানান ব্লক সভাপতি পরমেশ্বর কোনার। তিনি বলেন, জয়দেব বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ওই তৃণমূল কর্মীরা দলের শৃঙ্খলা ভেঙেছেন। দলের কাজ করছেন না। উপরন্তু দল এবং প্রশাসনের বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় লাগাতার পোস্ট করে চলেছেন। তাই ব্লক কমিটির সিদ্ধান্তে তাঁদের তিন বছরের জন্য বহিষ্কার করা হল।
জয়দেব বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূলের ব্লকের প্রাক্তন সহ সভাপতি। তিনি ছাড়া বাকি বহিষ্কৃতরা হলেন লবকুমার দাস, সব্যসাচী চৌধুরী, তুষার সামন্ত, অম্বিকা দাস এবং জরু আলম। এই ৬ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগও তোলেন ব্লক সভাপতি। পরমেশ্বর কোনার জানান, দলের জেলা সভাপতির সঙ্গে এই নিয়ে কথা বলেছেন তিনি।
অন্যদিকে, তাঁকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়ে উপপ্রধান জয়দেব বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমার বিরুদ্ধে যা উনি বলেছেন, তা কেন বলেছেন আমি জানি না। উনি এখনও আমাকে কিছু বলেননি। আমাকে শোকজও করেননি। উনি সাংবাদিকদের বলেছেন। এই বিষয়ে যা বলার দলের কাছে বলব। দলকে সব তথ্য দেব।”
এরপরই উপপ্রধান বলেন, “২০২৪ সালে প্রথমবার ব্লক সভাপতি হন পরমেশ্বর কোনার। এবারও হয়েছেন। ২০২৪ সালে আমি তাঁকে প্রথম সংবর্ধনা দিয়েছিলাম। এবারও ফোন করে শুভেচ্ছা জানিয়েছিলাম। বলেছিলাম, দলের লড়াই, সংগ্রামে যা প্রয়োজন হবে, তাতে আমি আপনার সঙ্গে রয়েছি। তারপরও কেন এমন বলছেন, জানি না।”
ব্লক সভাপতিকে কটাক্ষ করে তাঁর আরও বক্তব্য, “আমি দলের জেলা কমিটির সদস্য। একজন জেলা কমিটির সদস্যকে ব্লক সভাপতি হয়তো বহিষ্কার করতে পারেন, তাই তিনি করেছেন। আর দুর্নীতির কথা বললে আমি বলব, প্রমাণ দিতে।” ভোটের আগে তৃণমূলের দুই নেতার দ্বন্দ্বের জল কতদূর গড়ায়, সেটাই এখন দেখার।