Malda: ধড় থেকে মাথা আলাদা, পড়ে আছে পচাগলা দেহ, ফোনে মিলল বিবাহিত মহিলার ছবি – Bengali News | Body and head of a labour found in Malda, police started investigation
মালদা: উদ্ধার হল এক পরিযায়ী শ্রমিকের মুণ্ডহীন দেহ। গত ২৫ জুলাই তাঁর বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগে থেকেই নিখোঁজ ছিলেন তিনি। অবশেষে নিখোঁজ হওয়ার পাঁচ দিন পর সেই পরিযায়ী শ্রমিকের মুণ্ডহীন দেহ উদ্ধার করল পুলিশ। দেহের পাশেই পড়েছিল মাথা।
মালদহের চাঁচল থানার ভাকরি গ্রাম পঞ্চায়েতের গোরখপুর এলাকার ঘটনা। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শ্রমিকের সারা শরীর জুড়ে ধারাল অস্ত্রের আঘাতের ক্ষত দেখা যাচ্ছে। তাঁর বাড়ি থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দূরে একটি বাঁশবাগান লাগায়ো জঙ্গলের মধ্যেই ওই যুবকের দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মৃতদেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে মালদহ মেডিক্যাল কলেজের মর্গে।
মৃতের নাম নাহারুল আলি(২৮)। চাঁচলের গোরখপুর গ্রামের বাসিন্দা তিনি। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, গত ২৫ জুলাই ওই যুবকের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল চাঁচলেরই মোবারকপুর গ্রামের এক তরুণীর সঙ্গে। বিয়ের আয়োজন সব সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু গত সপ্তাহে শুক্রবার থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যান ওই যুবক। ওইদিন রাতেই বাড়ির লোকেরা চাঁচল থানায় নাহারুলের নিখোঁজ ডায়েরি করে তার পরিবার। তারপর থেকে চলছিল খোঁজ।
বুধবার গোরখপুর এলাকার বাঁশবাগান লাগোয়া জঙ্গলে কয়েকজন নাবালক শৌচকর্ম করতে গিয়েছিল। তখনই তাঁদের নাকে যায় দুর্গন্ধ। এরপর ওই যুবকের পচাগলা এবং গলাকাটা দেহ নজরে আসে তাঁদের। অত্যন্ত নৃশংসভাবে ওই যুবককে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ। মাথাকাটার পাশাপাশি শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত রয়েছে। মৃতদেহর অবস্থা দেখে পুলিশের অনুমান, বেশ কয়েকদিন আগেই ওই যুবককে দুষ্কৃতীরা খুন করে ফেলে রেখে গিয়েছে।
এদিকে মৃত যুবকের পরিবারের অভিযোগ, বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের জেরে তাঁদের বাড়ির ছেলেকে দুষ্কৃতী দিয়ে করিয়েছে কোনও এক মহিলা! মৃতের এক আত্মীয় আতাউর রহমান বলেন, নিখোঁজ হওয়ার পর জানা যায় নাহারুল তাঁর মোবাইলটি সঙ্গে নিয়ে যায়নি। নিখোঁজ থাকার জন্যে মেকানিককে দিয়ে মোবাইলের লক খোলানো হয়েছিল। ওই আত্মীয়ের দাবি, মোবাইলে এক বিবাহিত মহিলার ছবি পাওয়া যায়, যাঁর সঙ্গে প্রায় ১০০-র বেশি ফোনকলের রেকর্ড রয়েছে। একটি কল রেকর্ডে শোনা গিয়েছে, নাহারুলকে ওই মহিলা বারবার ডাকছেন।
এরপরই গত ২৫ জুলাই দুপুরে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান নাহারুল। নিখোঁজ হয়ে যান রহস্যজনকভাবে। ওই যুবকের পরিবারকে গ্রাম্য সালিসিতে অভিযোগের মুখে পড়তে হয়। যে যুবতীর সঙ্গে বিয়ে ঠিক হয়ে গিয়েছিল, তাঁর পরিবারকে জরিমানাও দিতে হয় নাহারুলের পরিবারকে। পুলিশ পুরো ঘটনার তদন্ত করছে। এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।