তারাতলাকাণ্ডে কালীর বাড়িতে গিয়ে তল্লাশি সিটের - 24 Ghanta Bangla News
Home

তারাতলাকাণ্ডে কালীর বাড়িতে গিয়ে তল্লাশি সিটের

Spread the love

এই সময়: তারাতলা বিপর্যয়ে কলকাতা পুলিশের হাতে ধৃত প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি (ওএসডি) কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে হাওড়ার বাড়িতে তল্লাশি চালাল স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (সিট)। পুলিশ সূত্রের খবর, জেরায় কালীচরণ একাধিক প্রসঙ্গ এড়িয়ে গিয়েছেন। এ দিকে, তারাতলায় গোডাউন বিপর্যয়ের পরে পাঁচ দিন কেটে যাওয়ার পরে এখনও কেউ ভিতরে রয়েছেন কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারছেন না উদ্ধারকারীরা। তবে তাঁদের আশঙ্কা, কেউ ভিতরে থাকলেও তাঁর জীবিত থাকার সম্ভাবনা ক্ষীণ।

গোয়েন্দা বিভাগ সূত্রের খবর, প্ল‍্যানের অনুমোদন, সে বিষয়ে আর্থিক লেনদেন, এই প্রক্রিয়ায় কার কী ভূমিকা ছিল, তাতে প্রভাবশালীদের কতটা প্রভাব ছিল বা তিনি কার ছত্রচ্ছায়ায় কাজ করছিলেন — এ সব নিয়ে দফায় দফায় জেরা করা হয় কালীচরণকে। তাঁর সুপারিশে এ ধরনের কতগুলি প্ল্যানে অনুমোদন দিয়েছিল পুরসভা, তা জানতে চাওয়া হয় ধৃত এই অফিসারের কাছে।

তারাতলার প্ল্যান অনুমোদনের জ‍ন্য কলকাতা পুরসভাকে ২০ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেছেন সরকারি আইনজীবী। সূত্রের দাবি, কালীচরণকে প্রশ্ন করা হয়, এই আর্থিক লেনদেনের কতটা তাঁর পকেটে এসেছিল? সরাসরি না কোনও সিন্ডিকেট মারফত — ওই টাকা কী ভাবেই বা তাঁর হাতে যেত, তা–ও জানতে চাওয়া হয় কালীচরণের কাছে। জানতে চাওয়া হয়, প্রভাবশালীরাও সেই টাকার অংশ পেতেন কি না।

গোয়েন্দা সূত্রে দাবি, একাধিক প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গিয়েছেন কালীচরণ। তদন্তের কিনারা করতে রবিবার দুপুরে হাওড়ার বাড়িতে কালীচরণকে নিয়ে যান সিটের সদস্যরা। সেখানে দীর্ঘক্ষণ তল্লাশি চলে। ওই বাড়িতে এই মামলা সংক্রান্ত নথি বা ডিজিটাল এভিডেন্স মিলতে পারে বলে মনে করছেন গোয়েন্দারা। তারাতলার গোডাউনের প্ল্যান–সহ একাধিক নথি তথ্য পেতে ইতিমধ্যেই পুরসভাকে চিঠি দিয়েছে পুলিশ। সূত্রের খবর, সেই সব নথি হাতে এলেই প্রয়োজনমতো পুর–আধিকারিকদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এ দিন তৃণমূলের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘শুধু কালীকে ধরলে হবে? কালীর পরে পেন, দোয়াতদেরও তো ধরতে হবে।’

তারাতলার ঘটনায় গুরুতর আহত রাজেশ রুইদাস এসএসকেএমের ক্রিটিকাল কেয়ারে এখনও চিকিৎসাধীন। রবিবার অস্ত্রোপচার করে তাঁর একটি পা কেটে বাদ দেওয়া হয়েছে। তাঁর সঙ্গে ক্রিটিকাল কেয়ারে ভর্তি আছেন বোদন মুন্ডা। এইচডিইউ-তে চিকিৎসাধীন বিশ্ব প্রকাশ এবং জেনারেল ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন আরও এক আহত।

এ দিকে তারাতলার ধ্বংসস্তূপ রবিবারও পুরোপুরি সরানো যায়নি। এ দিনও ওই চত্বরে ছিলেন পুলিশ এবং সেনাবাহিনীর জওয়ানরা। তবে ঘটনাস্থলের উল্টো দিকে তৈরি সেনার অস্থায়ী মেডিক্যাল ক্যাম্প সরিয়ে ফেলা হয়েছে। নতুন করে কারও নিখোঁজ থাকার অভিযোগ নেই। তবে অনেকেই ভিন রাজ্য থেকে এসেছিলেন কাজে। ফলে এখানে কারও পরিবার না–ও থাকতে পারে। এ দিকে বিপর্যয়স্থলের ছবি তোলার জন্য এ দিনও ভিড় ছিল উৎসাহী মানুষজনের। অনেকে মোবাইলে ছবি ও ভিডিয়ো করার চেষ্টা করেন। যদিও তাঁদের সরিয়ে দেয় পুলিশ।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *