দিল্লিগামী নথিবাহী ট্রাক ছিনতাইয়ের চেষ্টা? ঋতব্রত শিবিরের অভিযোগ
কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দলের দুই শিবিরের সংঘাত নতুন মোড় নিল। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়ার জন্য হলফনামা ও অন্যান্য নথি নিয়ে কলকাতা থেকে দিল্লির…
কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দলের দুই শিবিরের সংঘাত নতুন মোড় নিল। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়ার জন্য হলফনামা ও অন্যান্য নথি নিয়ে কলকাতা থেকে দিল্লির পথে রওনা হওয়া একটি ট্রাক ছিনতাইয়ের চেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগ করলেন ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee)। তাঁর দাবি, হরিয়ানা সীমান্তের কাছে কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি ট্রাকটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার এবং তার ভিতরে থাকা নথি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে সঙ্গে থাকা কর্মীরা সেই প্রচেষ্টা প্রতিরোধ করেছেন বলে দাবি ঋতব্রতর। অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
ঋতব্রতর বক্তব্য অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে দলের দাবির সমর্থনে প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার জন্য গত ২৪ অক্টোবর সকালে কলকাতা থেকে সড়কপথে যাত্রা শুরু করেন তাঁদের কর্মীরা। সোমবার সমাজমাধ্যমে একটি পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, নথিবাহী ট্রাকটি দখলে নেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। যদিও এই ঘটনার স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য প্রতিবেদনে নেই।
চার্টার্ড বিমানে এক শিবির, সড়কপথে অন্য পক্ষ
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর পোস্টে দুই শিবিরের নথি দিল্লিতে পাঠানোর পদ্ধতির তুলনা করেন। তাঁর দাবি, কালিঘাটের শিবির ২৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় চার্টার্ড বিমানে হলফনামা দিল্লিতে পাঠিয়েছে। অন্যদিকে, তাঁর গোষ্ঠীর কর্মীরা ২৪ অক্টোবর সকাল থেকেই সড়কপথে নথি নিয়ে দিল্লির উদ্দেশে রওনা হন।
পরবর্তী পোস্টে ঋতব্রত অভিযোগ করেন, ট্রাকটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া এবং নথি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। তাঁর দাবি, কর্মীরা সাহসের সঙ্গে সেই প্রচেষ্টা প্রতিরোধ করেছেন। এই ঘটনাকে তিনি চার্টার্ড বিমানে যাতায়াতের সংস্কৃতির সঙ্গে তৃণমূল স্তরের কর্মীদের লড়াইয়ের তুলনা করে তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য, এই লড়াই চলবে।
অভিযোগ খারিজ মমতা শিবিরের
ঋতব্রতর অভিযোগ মানতে নারাজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল শিবির। রাজ্যসভার সাংসদ দোলা সেন এই দাবিকে খারিজ করে দিয়ে বলেন, শেষ পর্যন্ত মানুষই এই বিরোধের নিষ্পত্তি করবে।
তৃণমূলের লোকসভার সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, ঋতব্রতর নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা পাচ্ছে বলে দাবি করা হয়। সে ক্ষেত্রে CRPF জওয়ানদের নিরাপত্তায় থাকা একটি ট্রাক কীভাবে ছিনতাইয়ের চেষ্টার মুখে পড়তে পারে, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি।
এ ছাড়াও কলকাতা থেকে দিল্লি যাওয়ার পথে ট্রাকটি কেন হরিয়ানার দিকে ঘুরবে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কল্যাণ। তাঁর অভিযোগ, গোটা ঘটনাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ঋতব্রতর গোষ্ঠী বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সমর্থন পাচ্ছে। তিনি এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন।
তৃণমূলের আসল নিয়ন্ত্রণ কার হাতে, কমিশনের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা
এই সংঘাতের সূত্র ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূল কংগ্রেসের পরিচয় ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তৈরি হওয়া বিরোধ। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীর দাবি, দলের নির্বাচিত বিধায়কদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ তাদের পাশে রয়েছে। সেই ভিত্তিতে তারা নির্বাচন কমিশনের কাছে নিজেদের ‘আসল’ তৃণমূল কংগ্রেস হিসেবে স্বীকৃতি চেয়েছে।
অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরও দলের পরিচয় ও নিয়ন্ত্রণের দাবিতে নিজেদের অবস্থান বজায় রেখেছে। দুই পক্ষের পরস্পরবিরোধী দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন দলের নাম ও নির্বাচনী প্রতীক স্থগিত রেখেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নিজেদের দাবির পক্ষে প্রমাণ হিসেবে দুই শিবিরই কমিশনের কাছে নথি ও হলফনামা জমা দিচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে নথিবাহী ট্রাক ছিনতাইয়ের চেষ্টার অভিযোগ দুই শিবিরের সংঘাতকে আরও তীব্র করেছে। তবে অভিযোগের সত্যতা, ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত এবং ট্রাকটির যাত্রাপথ নিয়ে ওঠা প্রশ্নের উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়। নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা পড়া নথি খতিয়ে দেখে দলের পরিচয় ও নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত বিরোধে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।