Bhagwant Mann | মুখ্যমন্ত্রীর ক্যাম্প অফিসে সিবিআই তল্লাশি, ওএসডি-সহ ৬ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর - 24 Ghanta Bangla News
Home

Bhagwant Mann | মুখ্যমন্ত্রীর ক্যাম্প অফিসে সিবিআই তল্লাশি, ওএসডি-সহ ৬ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর

Spread the love

চণ্ডিগড়: পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানের (Bhagwant Mann) অফিস ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তে বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রীর অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি বা ওএসডি রাজবীর সিং ঘুমন-সহ ছয়জনের বিরুদ্ধে এফআইআর করেছে সিবিআই। এরপর চণ্ডীগড়ে মুখ্যমন্ত্রীর ক্যাম্প অফিস-সহ মোট আটটি জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়।

তল্লাশির তালিকায় ছিল ঘুমনের বাড়ি এবং অভিযুক্তদের সঙ্গে যুক্ত একাধিক জায়গা। সিবিআই জানিয়েছে, তল্লাশির সময় ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন এবং আর্থিক নথি সংগ্রহ করা হয়েছে। বর্তমানে ওই সামগ্রীগুলির ফরেনসিক পরীক্ষা চলছে।

কেন সিবিআই তদন্ত শুরু হল?

পঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টের নির্দেশের পরই সিবিআই এই মামলা শুরু করে। এর আগে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি পঞ্জাবের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় দুর্নীতি এবং প্রভাব খাটানোর অভিযোগ তুলেছিল। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন রাজবীর ঘুমন। সিবিআইয়ের এফআইআর অনুযায়ী, ঘুমন এবং তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে সরকারি আধিকারিকদের বদলি ও পদায়ন, দফতরের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত, নীতি তৈরির প্রক্রিয়া, প্রশাসনিক অনুমোদন এবং টেন্ডারের শর্তে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে।অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে সরকারি সিদ্ধান্তে প্রভাব খাটানো হতে পারে। তবে এগুলি তদন্তাধীন অভিযোগ এবং এখনও আদালতে প্রমাণিত হয়নি।

ALSO READ |

মুখ্যমন্ত্রীর ক্যাম্প অফিসেও তল্লাশি

চণ্ডীগড়ের সেক্টর ২-এর হাউস নম্বর ৫০-এ থাকা ভগবন্ত মানের ক্যাম্প অফিসে সন্ধ্যা প্রায় ৬টা নাগাদ সিবিআইয়ের দল পৌঁছয়। এই অফিসেই ঘুমন অভিযুক্ত অন্য ব্যক্তিদের সঙ্গে দেখা করতেন বলে সিবিআই সূত্রের দাবি।এর পাশাপাশি সিবিআই ঘুমনের নিজের গ্রাম সাঙ্গরুর ঘরাচোঁতেও তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালায়। চণ্ডীগড়, মোহালি, গুরুদাসপুর, লুধিয়ানা, পাতিয়ালা, সাঙ্গরুর এবং জলন্ধরের বিভিন্ন জায়গাতেও অভিযান চালানো হয়।

এফআইআরে কারা রয়েছেন?

সিবিআইয়ের এফআইআরে রাজবীর ঘুমন ছাড়াও নিতিন গোয়াল, জিতিন গোয়াল ওরফে রাজা, রোমি রাজা মহাজন, বীর দেবিন্দর এবং আরএস নাগরার নাম রয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাত সরকারি কর্মী এবং বেসরকারি ব্যক্তিদেরও মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

সিবিআইয়ের অভিযোগ অনুযায়ী, নিতিন গোয়ালকে ‘লিয়াজোঁ’ হিসেবে ব্যবহার করা হত এবং ঘুমনের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল। তাঁর ভাই জিতিনও ঘুমন এবং রোমি মহাজনের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে প্রবেশাধিকার পেয়েছিলেন বলে অভিযোগ।

রোমি মহাজনকে ঘুমনের সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করেছে সিবিআই। তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন নিয়োগ ও সাক্ষাতের বিষয় সমন্বয় করার অভিযোগ রয়েছে। বীর দেবিন্দরকে আম আদমি পার্টির যুবকর্মী এবং আরএস নাগরাকে বেসরকারি সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ALSO READ |

গোপন নথি ব্যবহারের অভিযোগ

সিবিআই জানিয়েছে, অভিযুক্তরা আধিকারিকদের বদলি ও পদায়নের পাশাপাশি আইএএস এবং আইপিএস আধিকারিকদের নিয়েও প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়াও দফতরের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা, নীতি তৈরির বিষয়, প্রশাসনিক অনুমোদন, টেন্ডার, লাইসেন্স, জমির ব্যবহার পরিবর্তন, সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধ এবং রাজস্ব ও জমি সংক্রান্ত বিষয়েও আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ রয়েছে।

সিবিআই আরও দাবি করেছে, কিছু অভিযুক্ত সরকারি সিদ্ধান্ত বা নীতি প্রকাশের আগেই তার খসড়া বেসরকারি ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছে দিতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

হাইকোর্টের নির্দেশের পরেই এফআইআর

ইডি পঞ্জাবে ৭ মে থেকে ১০ মে পর্যন্ত একটি অর্থপাচার মামলায় তল্লাশি চালিয়েছিল। এরপর ৩০ জুলাই পঞ্জাবের ডিজিপিকে চিঠি দিয়ে মামলা করার অনুরোধ জানায়।

অভিযোগ ছিল, ইডির পক্ষ থেকে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হলেও পঞ্জাব পুলিশ এফআইআর করেনি। এই পরিস্থিতিতে আইনজীবী নিখিল সারাফ পঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা করেন।

সোমবার প্রধান বিচারপতি অশ্বিনী কুমার মিশ্র এবং বিচারপতি রোহিত কাপুরের ডিভিশন বেঞ্চ বিষয়টি শুনে তদন্ত সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দেয়। আদালত পঞ্জাব পুলিশের আগের পদক্ষেপ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে সিবিআইকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়।

সুপ্রিম কোর্টে গেল পঞ্জাব সরকার

হাইকোর্টের নির্দেশের পর পঞ্জাব সরকার সুপ্রিম কোর্টে যায়। সরকার হাইকোর্টের সিবিআই তদন্তের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেছে। ৬ অক্টোবর সরকার এই বিষয়ে বিশেষ অনুমতিপ্রার্থনা পিটিশন বা এসএলপি দাখিল করে।

অন্যদিকে, সিবিআইয়ের তল্লাশি এবং এফআইআর নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান রাজনৈতিক অভিযোগ তুলেছেন। এক্স-এ পঞ্জাবি ভাষায় পোস্ট করে তিনি দাবি করেন, বিজেপি পঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে এবং সিবিআই ও ইডিকে ব্যবহার করে তাঁর সরকার এবং তাঁকে বদনাম করার চেষ্টা হচ্ছে।

মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য রাজনৈতিক অভিযোগ হিসেবে এসেছে। অন্যদিকে সিবিআই বলেছে, আদালতের নির্দেশ এবং ইডির রিপোর্টের ভিত্তিতেই তারা মামলা করে তদন্ত শুরু করেছে।

এখন নজর তদন্তের দিকে

সিবিআইয়ের হাতে থাকা ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন এবং আর্থিক নথি এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এসব সামগ্রী থেকে কথোপকথন, নথি এবং আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য খতিয়ে দেখা হবে।

তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগগুলির সত্যতা কতটা, সরকারি সিদ্ধান্তে কোনও বেআইনি প্রভাব খাটানো হয়েছিল কি না এবং আর্থিক লেনদেনের কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা স্পষ্ট হতে পারে। এই মুহূর্তে মামলায় ওঠা অভিযোগগুলি তদন্তাধীন এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অপরাধ আদালতে প্রমাণিত হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *