মাত্র ৩০ মাইল চলেছে Buick GNX, ২ বছরে দাম ২.২৭ কোটি টাকা থেকে ৩.৭৭ কোটি
কিছু গাড়ি বয়স বাড়ার সঙ্গে পুরনো হয়ে যায়, আবার কিছু গাড়ি সময়ের সঙ্গে আরও দুর্লভ এবং মূল্যবান হয়ে ওঠে। ১৯৮৭ সালের Buick GNX-এর একটি অত্যন্ত সংরক্ষিত উদাহরণ সেই দ্বিতীয় শ্রেণিরই নজির তৈরি করেছে।
মাত্র ৩০ মাইল চলা এই কালো পারফরম্যান্স কুপটি সম্প্রতি ৪২৭,০০০ ডলারে বিক্রি হয়েছে। ভারতীয় মুদ্রায় হিসাব করলে, ১ ডলার প্রায় ৮৮ টাকা ধরলে এর দাম দাঁড়ায় প্রায় ৩.৭৬ কোটি টাকা।
অবাক করার মতো বিষয় হল, মাত্র দুই বছর আগে একই গাড়িটি ২০০,০০০ ডলারে, অর্থাৎ প্রায় ১.৭৬ কোটি টাকায় বিক্রি হয়েছিল। সেই সময় ওডোমিটারে ছিল মাত্র ২৬ মাইল। এরপর গাড়িটি মাত্র আরও চার মাইল চলেছে, অথচ পরবর্তী বিক্রিতে দাম বেড়েছে ২২৭,০০০ ডলার বা প্রায় ১.৯৯ কোটি টাকা। অনলাইন নিলাম প্ল্যাটফর্ম ব্রিং আ ট্রেলার-এর প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
২ বছরে দাম দ্বিগুণেরও বেশি
২০২৪ সালের জুলাই মাসে ব্রিং আ ট্রেলারে গাড়িটি যখন বিক্রি হয়েছিল, তখন ওডোমিটারে ছিল ২৬ মাইল। পরবর্তীতে টেক্সাসের এক ডিলারের হাতে যায় গাড়িটি। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাড়িটির মাইলেজ তখন মাত্র ৩০ মাইল। অর্থাৎ আগের মালিকানা বদলের পর গাড়িটি মাত্র ৪ মাইল চলেছে। তবুও নতুন লেনদেনে দাম পৌঁছে যায় ৪২৭,০০০ ডলারে। আগের ২০০,০০০ ডলারের তুলনায় এটি ২.১৩৫ গুণেরও বেশি। গাড়িটির সঙ্গে রয়েছে প্রস্তুতকারকের দেওয়া বিভিন্ন নথি ও সাহিত্য, স্মারক সামগ্রী, আসল উইন্ডো স্টিকারের কপি, পরিষ্কার কারফ্যাক্স রিপোর্ট এবং পরিষ্কার ক্যালিফোর্নিয়া টাইটেল।
মাত্র ৫৪৭টি Buick GNX তৈরি হয়েছিল
এই গাড়িটির বিশেষত্ব শুধু কম মাইলেজে নয়। এটি ১৯৮৭ সালের Buick GNX-এর ৪৫০ নম্বর গাড়ি, আর গোটা মডেলটির মাত্র ৫৪৭টি ইউনিট তৈরি হয়েছিল। GNX-এর পুরো নাম Grand National Experimental। Buick-এর Grand National উৎপাদন যুগের শেষদিকে তৈরি করা হয়েছিল এই বিশেষ সংস্করণকে। Buick এই গাড়ি তৈরির জন্য McLaren Performance Technologies এবং ASC-এর সঙ্গে কাজ করেছিল। সাধারণ Grand National-এর তুলনায় GNX-এ একাধিক যান্ত্রিক এবং ডিজাইন আপগ্রেড করা হয়। মাত্র ৫৪৭টি গাড়িই তৈরি হয়েছিল এবং প্রতিটি গাড়ি কালো রঙে বাজারে এসেছিল।
ডিজাইনেও ছিল আলাদা পরিচয়
GNX-এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল এর আক্রমণাত্মক চেহারা। গাড়িটিতে ছিল:
- কম্পোজিট হুইল-আর্চ ফ্লেয়ার
- ফেন্ডারে তাপ বের করার ভেন্ট
- বিশেষ GNX ব্যাজিং
- স্পোর্ট মিরর
- ডুয়াল এক্সহস্ট
- তিন-পিস রিয়ার স্পয়লার
- ১৬ ইঞ্চি ক্রস-লেস হুইল
- লিমিটেড-স্লিপ ডিফারেনশিয়াল
এর পাশাপাশি এয়ার কন্ডিশনিং এবং ক্রুজ কন্ট্রোলের মতো ফিচারও ছিল।
৩.৮ লিটার টার্বো V6 ইঞ্জিন
গাড়িটির আসল আকর্ষণ ছিল হুডের নিচে থাকা ৩.৮ লিটার টার্বোচার্জড V6 ইঞ্জিন। ASC এবং McLaren এই ইঞ্জিনে বেশ কিছু পরিবর্তন করেছিল। ইঞ্জিনে ছিল:
- গ্যারেট টি৩ টার্বোচার্জার
- বড় এয়ার-টু-এয়ার ইন্টারকুলার
- কম রেস্ট্রিকশনের এক্সহস্ট সিস্টেম
- ২৭৬ হর্সপাওয়ার
- ৩৬০ পাউন্ড-ফুট টর্ক
ইঞ্জিনের শক্তি পিছনের চাকায় পৌঁছত ২০০আর৪ চার-স্পিড অটোমেটিক গিয়ারবক্সের মাধ্যমে। এতে আপগ্রেডেড অয়েল কুলারও ছিল। পিছনে থাকা লিমিটেড-স্লিপ ডিফারেনশিয়ালে বিশেষ GNX-ব্র্যান্ডেড অ্যালুমিনিয়াম কভার ব্যবহার করা হয়েছিল।
সাসপেনশনেও ছিল বিশেষ পরিবর্তন
শুধু ইঞ্জিন নয়, GNX-এর সাসপেনশনও Grand National-এর তুলনায় পরিবর্তন করা হয়েছিল। সামনে সমসাময়িক Grand National-এর সাসপেনশন উপাদান ব্যবহার করা হলেও পিছনের দিকে যুক্ত হয়েছিল উন্নত হার্ডওয়্যার। এর মধ্যে ছিল প্যানহার্ড রড, টর্ক আর্ম এবং অতিরিক্ত ফ্রেম ক্রস-মেম্বার। ব্রেকিংয়ের দায়িত্বে ছিল পাওয়ার-অ্যাসিস্টেড সামনের ডিস্ক ব্রেক এবং পিছনের ড্রাম ব্রেক।
৩০ মাইলেই যেন সময় থেমে আছে
গাড়িটির ভিতরেও ১৯৮০-এর দশকের সেই সময়ের ছাপ স্পষ্ট। এতে রয়েছে তিন-স্পোক লেদার-র্যাপড স্টিয়ারিং হুইল এবং GNX-নির্দিষ্ট স্টুয়ার্ট-ওয়ার্নার ইন্সট্রুমেন্টেশন। ইন্সট্রুমেন্ট ক্লাস্টারে রয়েছে:
- ১৬০ মাইল প্রতি ঘণ্টা পর্যন্ত স্পিডোমিটার
- ৮,০০০ আরপিএম ট্যাকোমিটার
- টার্বো বুস্ট গেজ
- অয়েল প্রেসার গেজ
- কুল্যান্ট টেম্পারেচার গেজ
- ফুয়েল লেভেল গেজ
আর এখন ওডোমিটারে মাত্র ৩০ মাইল।
কেন এত দাম Buick GNX-এর?
১৯৮০-এর দশকে GNX এমন এক সময়ে এসেছিল, যখন টার্বোচার্জড আমেরিকান গাড়ি প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করতে শুরু করেছিল। বড়সড় আমেরিকান কুপ হয়েও GNX-এর পারফরম্যান্স এবং প্রযুক্তিগত পরিবর্তন তাকে আলাদা পরিচয় দেয়।
মাত্র ৫৪৭টি গাড়ি তৈরি হওয়া, McLaren-এর সঙ্গে উন্নয়ন, শক্তিশালী টার্বো V6 এবং স্বতন্ত্র ডিজাইন মিলিয়ে GNX এখন সংগ্রাহকদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মডেল।
আর এই নির্দিষ্ট গাড়িটির ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও বিশেষ। ২০২৪ সালে ২৬ মাইল চলা অবস্থায় ২ লাখ ডলার থেকে ২০২৬ সালে মাত্র ৩০ মাইল চলা অবস্থায় ৪.২৭ লাখ ডলার। অর্থাৎ মাত্র চার মাইল অতিরিক্ত চলার পর দুই বছরে এর বিক্রিমূল্য বেড়েছে ২.২৭ লাখ ডলার।
এটি শুধু একটি পুরনো গাড়ির বিক্রির গল্প নয়, বরং অত্যন্ত দুর্লভ এবং প্রায় নতুন অবস্থায় সংরক্ষিত ক্লাসিক পারফরম্যান্স গাড়ির প্রতি সংগ্রাহকদের চাহিদা কতটা বাড়তে পারে, তারও একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।
Essential Business Intelligence, Sharp Market Insights, Practical Personal Finance Advice, Daily Fuel, Gold and Silver Prices and Latest Stories – On Kolkata24x7 Business