‘কষ্ট হলেও একটাই প্রার্থনা…’, ৬ মাসের ব্যবধানে অভিভাবকহীন, বিশেষ দিনে সম্পূর্ণা লিখলেন…
এক বছরের মধ্যে বাবা-মা দু’জনকেই হারিয়েছেন অভিনেত্রী সম্পূর্ণা লাহিড়ী। যে যন্ত্রণা প্রতি মুহূর্তে কুড়েকুড়ে খাচ্ছে তাঁকে। গুরুতর অসুস্থ ছিলেন অভিনেত্রীর বাবা নীলাদ্রি লাহিড়ী। হার্টের সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। মায়ের মৃত্যুটাও অত্যন্ত আকস্মিক। বাবা-মায়ের বাৎসরিক পারলৌকিক ক্রিয়া সেরে মনের কথা তুলে ধরলেন সম্পূর্ণা।
৬ মাসের ব্যবধানে অভিভাবকহীন সম্পূর্ণা

২০২৫ সাল তাঁর জীবনের অন্যতম কঠিন একটি বছর। ৬ মাসের ব্যবধানে বাবা-মাকে হারিয়েছিলেন অভিনেত্রী সম্পূর্ণা লাহিড়ী। অভিভাবকহীন জীবনে প্রতি মুহূর্তে নানা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হচ্ছে তাঁকে। মাঝেমধ্যে ভেঙে পড়েন। তার পরে আবারও মন শক্ত করে নিজেকে সামলে নেন।
দায়িত্ব পালনের সাহস দিও…

কিছু দিন আগে বাবার মৃত্যুদিনে তাঁর কাছে আবদার করে সম্পূর্ণা লিখেছিলেন, ‘তুমি যেখানেই থাকো না কেন, দয়া করে আমার হাতটা ধরে রেখো। আমায় এমন শক্তি দিও যেন আমি তোমাকে ও মাকে গর্বিত করতে পারি। সততা, মমতা ও ভালোবাসার সঙ্গে প্রতিটি দায়িত্ব পালনের সাহস দিও। আর জীবনে যেমন পরিস্থিতিই আসুক না কেন, আমাকে একজন ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার শক্তি দিও।’
পাশাপাশি থেকো, শান্তিতে থেকো…

কাছের মানুষকে একসঙ্গে হারানোর যে যন্ত্রণা, তা শুধু যে হারিয়েছে, সে-ই বোঝে। সেই সময়ের কথা মনে করে সম্পূর্ণা লেখেন, ‘দুনিয়ার এই পথে তোমরা দু’জনেই আজ আর নেই। দেখতে দেখতে একটা বছর পেরিয়ে গেল বাবা তুমি নেই। আর মা তুমি ছ’মাস হলো নেই। তবু মনে হয়, এই তো সেদিন তোমাদের হাত ধরে পথ চলতে শিখেছিলাম। একসঙ্গে দু’জনকে হারানোর শূন্যতা যে কত গভীর, তা শুধু আমার হৃদয় জানে। সেই কষ্টের মাঝেও একটাই প্রার্থনা— জীবনের অন্য কোনও প্রান্তে তোমরা দু’জন পাশাপাশি থেকো, শান্তিতে থেকো।’
মুখ উজ্জ্বল করার চেষ্টা করব…

আত্মা যদি সত্যিই অবিনশ্বর হয়, তবে বাবা-মা তাঁর চোখের আড়ালে আছেন, কিন্তু তাঁর জীবন থেকে দূরে নয়। নিঃশব্দে, অদৃশ্য আশীর্বাদের মতো প্রতিটি মুহূর্তে তাঁদের উপস্থিতি জড়িয়ে রেখেছে সম্পূর্ণাকে। তিনি লিখেছেন, ‘যে ভাবে হাত ধরে আমাকে বড় করেছ, কথা দিচ্ছি ভবিষ্যতের প্রতিটি সাফল্যে তোমাদের মুখ উজ্জ্বল করার চেষ্টা করব। তোমরা তোমাদের মেয়েকে যেখানে দেখতে চেয়েছিলে, সেই স্বপ্নের ঠিকানায় পৌঁছানোটাই আজ আমার সবচেয়ে বড় লক্ষ্য।’
দু’জন একসঙ্গে ভালো থেকো…

চোখের সামনে না থেকেও বাবা-মায়ের আশীর্বাদই তাঁর চলার পথের আলো। তবে মাঝে মাঝে সম্পূর্ণার খুব ইচ্ছে হয় একবার তাঁদের ছুঁয়ে দেখার। বললেন, ‘একবার গলা জড়িয়ে ধরি, আর একবার বলি— মা, বাবা, তোমাদের মেয়ে এখনও তোমাদের হাত ধরেই হাঁটে। তোমরা দু’জন একসঙ্গে ভালো থেকো। আমার প্রতিটি প্রার্থনায়, প্রতিটি নিঃশ্বাসে, প্রতিটি সাফল্যের আড়ালে তোমরা বেঁচে থেকো।’