‘কষ্ট হলেও একটাই প্রার্থনা...’, ৬ মাসের ব্যবধানে অভিভাবকহীন, বিশেষ দিনে সম্পূর্ণা লিখলেন... - 24 Ghanta Bangla News
Home

‘কষ্ট হলেও একটাই প্রার্থনা…’, ৬ মাসের ব্যবধানে অভিভাবকহীন, বিশেষ দিনে সম্পূর্ণা লিখলেন…

Spread the love

এক বছরের মধ্যে বাবা-মা দু’জনকেই হারিয়েছেন অভিনেত্রী সম্পূর্ণা লাহিড়ী। যে যন্ত্রণা প্রতি মুহূর্তে কুড়েকুড়ে খাচ্ছে তাঁকে। গুরুতর অসুস্থ ছিলেন অভিনেত্রীর বাবা নীলাদ্রি লাহিড়ী। হার্টের সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। মায়ের মৃত্যুটাও অত্যন্ত আকস্মিক। বাবা-মায়ের বাৎসরিক পারলৌকিক ক্রিয়া সেরে মনের কথা তুলে ধরলেন সম্পূর্ণা।

৬ মাসের ব্যবধানে অভিভাবকহীন সম্পূর্ণা

বাবা-মায়ের সঙ্গে হাসি মুখে পোজ় দিচ্ছেন অভিনেত্রী সম্পূর্ণা লাহিড়ী।
বাবা-মায়ের সঙ্গে সম্পূর্ণা

২০২৫ সাল তাঁর জীবনের অন্যতম কঠিন একটি বছর। ৬ মাসের ব্যবধানে বাবা-মাকে হারিয়েছিলেন অভিনেত্রী সম্পূর্ণা লাহিড়ী। অভিভাবকহীন জীবনে প্রতি মুহূর্তে নানা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হচ্ছে তাঁকে। মাঝেমধ্যে ভেঙে পড়েন। তার পরে আবারও মন শক্ত করে নিজেকে সামলে নেন।

দায়িত্ব পালনের সাহস দিও…

হলুদ শাড়ি পরে পুজোয় হাতজোড় করে প্রার্থনা করছেন সম্পূর্ণা লাহিড়ী।
বাবা-মায়ের পারলৌকিক ক্রিয়া সারছেন সম্পূর্ণা

কিছু দিন আগে বাবার মৃত্যুদিনে তাঁর কাছে আবদার করে সম্পূর্ণা লিখেছিলেন, ‘তুমি যেখানেই থাকো না কেন, দয়া করে আমার হাতটা ধরে রেখো। আমায় এমন শক্তি দিও যেন আমি তোমাকে ও মাকে গর্বিত করতে পারি। সততা, মমতা ও ভালোবাসার সঙ্গে প্রতিটি দায়িত্ব পালনের সাহস দিও। আর জীবনে যেমন পরিস্থিতিই আসুক না কেন, আমাকে একজন ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার শক্তি দিও।’

পাশাপাশি থেকো, শান্তিতে থেকো…

রজনীগন্ধার মালা পরানো সম্পূর্ণা লাহিড়ীর প্রয়াত বাবা ও মায়ের ছবি।
সম্পূর্ণার বাবা-মায়ের ছবি

কাছের মানুষকে একসঙ্গে হারানোর যে যন্ত্রণা, তা শুধু যে হারিয়েছে, সে-ই বোঝে। সেই সময়ের কথা মনে করে সম্পূর্ণা লেখেন, ‘দুনিয়ার এই পথে তোমরা দু’জনেই আজ আর নেই। দেখতে দেখতে একটা বছর পেরিয়ে গেল বাবা তুমি নেই। আর মা তুমি ছ’মাস হলো নেই। তবু মনে হয়, এই তো সেদিন তোমাদের হাত ধরে পথ চলতে শিখেছিলাম। একসঙ্গে দু’জনকে হারানোর শূন্যতা যে কত গভীর, তা শুধু আমার হৃদয় জানে। সেই কষ্টের মাঝেও একটাই প্রার্থনা— জীবনের অন্য কোনও প্রান্তে তোমরা দু’জন পাশাপাশি থেকো, শান্তিতে থেকো।’

মুখ উজ্জ্বল করার চেষ্টা করব…

সম্পূর্ণা লাহিড়ী তাঁর বাবার গালে চুমু দিচ্ছেন এবং মায়ের সঙ্গে পোজ় দিচ্ছেন।
বাবা-মায়ের সঙ্গে সম্পূর্ণা

আত্মা যদি সত্যিই অবিনশ্বর হয়, তবে বাবা-মা তাঁর চোখের আড়ালে আছেন, কিন্তু তাঁর জীবন থেকে দূরে নয়। নিঃশব্দে, অদৃশ্য আশীর্বাদের মতো প্রতিটি মুহূর্তে তাঁদের উপস্থিতি জড়িয়ে রেখেছে সম্পূর্ণাকে। তিনি লিখেছেন, ‘যে ভাবে হাত ধরে আমাকে বড় করেছ, কথা দিচ্ছি ভবিষ্যতের প্রতিটি সাফল্যে তোমাদের মুখ উজ্জ্বল করার চেষ্টা করব। তোমরা তোমাদের মেয়েকে যেখানে দেখতে চেয়েছিলে, সেই স্বপ্নের ঠিকানায় পৌঁছানোটাই আজ আমার সবচেয়ে বড় লক্ষ্য।’

দু’জন একসঙ্গে ভালো থেকো…

নদীর ধারে বাবা-মায়ের সঙ্গে বসে ছবি তুলছেন অভিনেত্রী সম্পূর্ণা লাহিড়ী।
বাবা-মায়ের সঙ্গে সম্পূর্ণা

চোখের সামনে না থেকেও বাবা-মায়ের আশীর্বাদই তাঁর চলার পথের আলো। তবে মাঝে মাঝে সম্পূর্ণার খুব ইচ্ছে হয় একবার তাঁদের ছুঁয়ে দেখার। বললেন, ‘একবার গলা জড়িয়ে ধরি, আর একবার বলি— মা, বাবা, তোমাদের মেয়ে এখনও তোমাদের হাত ধরেই হাঁটে। তোমরা দু’জন একসঙ্গে ভালো থেকো। আমার প্রতিটি প্রার্থনায়, প্রতিটি নিঃশ্বাসে, প্রতিটি সাফল্যের আড়ালে তোমরা বেঁচে থেকো।’

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *