আরশোলাদের প্রতিবাদে সরাসরি টাকা দেবে খালিস্তানি জঙ্গিরা! ঘোষণা জঙ্গি পান্নুনের
আমেরিকা ও কানাডাভিত্তিক নিষিদ্ধ খালিস্তানি (Pannun)সংগঠন সিখস ফর জাস্টিসের (এসএফজে) সাধারণ পরামর্শদাতা গুরপতবন্ত সিং পান্নুন সম্প্রতি কানাডার এডমন্টনে অনুষ্ঠিত খালিস্তান গণভোট অনুষ্ঠানে এক বিস্ফোরক ঘোষণা…
আমেরিকা ও কানাডাভিত্তিক নিষিদ্ধ খালিস্তানি (Pannun)সংগঠন সিখস ফর জাস্টিসের (এসএফজে) সাধারণ পরামর্শদাতা গুরপতবন্ত সিং পান্নুন সম্প্রতি কানাডার এডমন্টনে অনুষ্ঠিত খালিস্তান গণভোট অনুষ্ঠানে এক বিস্ফোরক ঘোষণা করেছেন।
তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন যে ভারতের অভ্যন্তরে চলতে থাকা সিজেপি বা ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিবাদ কর্মসূচি এবং যুব আন্দোলনগুলোকে পুরোপুরি সমর্থন ও অর্থায়ন করবে এসএফজে। এই পদক্ষেপকে তিনি পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধ বা ফিফথ-জেনারেশন ওয়ারফেয়ারের অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যার লক্ষ্য ভারত সরকারকে উৎখাত করা এবং শেষ পর্যন্ত পঞ্জাবের ‘স্বাধীনতা’ অর্জন।
আরও দেখুনঃ মোদীর ডাকে ফের ভারত সফরে পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী! হবে কৌশলগত অংশীদারিত্বের আলোচনা
এডমন্টনের সেই সমাবেশে হাজার হাজার শ্রোতার সামনে পান্নুন (Pannun)বলেন, মোদীর রাজনৈতিক ক্যারিয়ার পঞ্জাব থেকে শুরু হয়েছিল এবং তারা মোদীকে রাজনৈতিকভাবে পঞ্জাবেই পুঁতে ফেলবে। তিনি অভিযোগ করেন যে হরদীপ সিং নিজ্জর হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে ভারত সরকার গুলি চালিয়ে খালিস্তান গণভোট বন্ধ করার চেষ্টা করেছে। এর জবাব হিসেবে তিনি নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ, এস জয়শংকর, অজিত দোভাল এবং সমন্ত গোয়েলসহ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার জবাবদিহিতা দাবি করেন। পান্নুনের ভাষায়, মোদীর শাসন উৎখাত করা পাঞ্জাবের মুক্তির দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
তিনি এসএফজের পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধ কৌশলের তিনটি প্রধান ফ্রন্ট তুলে ধরেন। প্রথমটি হলো বৈশ্বিক খালিস্তান গণভোট। এর মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে শিখদের নিজ নিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রয়োগের জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে। নভেম্বরের এক তারিখ থেকে শিখ গণহত্যা স্মরণ দিবসকে কেন্দ্র করে দুই মিলিয়ন ভোটার নিবন্ধনের নতুন অভিযান শুরু হবে বলে তিনি ঘোষণা করেন।
দ্বিতীয় ফ্রন্ট হিসেবে তিনি সিজেপি এবং ভারতের অভ্যন্তরীণ যুব আন্দোলনগুলোর অর্থায়ন ও সমর্থনের কথা বলেন। (Pannun)‘প্রথমবারের মত হিন্দুস্তানি বনাম হিন্দুস্তানি’ এমন স্লোগান দিয়ে তিনি দাবি করেন যে ভারতের ভিতর থেকেই সরকারকে চ্যালেঞ্জ জানানো হচ্ছে। তৃতীয় ফ্রন্ট হল ভারতীয় বাজার পরিত্যাগ করে অর্থনৈতিকভাবে মোদীর ভারতকে ক্ষতিগ্রস্ত করা। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ভারতীয় বাজার থেকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির কথা বলেন।
পান্নুন আরও হুঁশিয়ারি দেন যে ডিসেম্বরে মোদীর কানাডা ও আমেরিকা সফরের সময় বিমান অবতরণ থেকে উড্ডয়ন পর্যন্ত খালিস্তান চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে তাকে। এসএফজে দীর্ঘদিন ধরে ভারতে নিষিদ্ধ এবং পান্নুনকে ভারত সরকার জঙ্গি ঘোষণা করেছে। (Pannun)এর আগে জুলাই মাসেও তিনি সিজেপির প্রতিবাদে এক মিলিয়ন ডলার সহায়তার কথা বলেছিলেন, যদিও পরে কিছু অংশ স্থগিত করার কথাও উঠেছিল। এবারের ঘোষণায় তিনি সিজেপিকে সরাসরি তাদের কৌশলের অংশ হিসেবে তুলে ধরেছেন।
ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলো এ ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপ ও অর্থায়নের দাবিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। সিজেপির প্রতিবাদ কর্মসূচি নিয়ে ইতিমধ্যেই বিদেশি অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং কয়েক হাজার সামাজিক মাধ্যমের পোস্ট তদন্তাধীন রয়েছে।
পান্নুনের এই ঘোষণা সেই উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। তিনি বারবার বলে আসছেন যে কেবল সরকার পরিবর্তন যথেষ্ট নয়, ভারতের বিভাজন ও বলকানাইজেশনই প্রকৃত সমাধান। এই বক্তব্যকে অনেকেই দেশের অখণ্ডতার বিরুদ্ধে সরাসরি হুমকি হিসেবে দেখছেন।