ডার্বিতে যুবভারতীতে থাকবেন ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ, টিকিটের চাহিদা তুঙ্গে
মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গল মহারণ ঘিরে শহরে উন্মাদনা চরমে। ডার্বির দিন যুবভারতীতে উপস্থিত থাকবেন নতুন ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক।
আইএসএল ডার্বিকে ঘিরে উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। তার মাঝেই বড় খবর, ১৭ মে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে অনুষ্ঠিত ডার্বি ম্যাচে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন রাজ্যের নতুন ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক। শুধু ডার্বি নয়, আইএসএল ট্রফি প্রদান অনুষ্ঠানেও তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। যদিও ২২ মে চ্যাম্পিয়ন দলের হাতে ট্রফি তুলে দেওয়ার অনুষ্ঠানে তিনি থাকতে পারবেন কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে ডার্বির দিন যে তিনি মাঠে থাকবেন এবং ফুটবলারদের সঙ্গে দেখা করবেন, তা একপ্রকার চূড়ান্ত।
এবারের ডার্বি আরও বিশেষ কারণ, মোহনবাগান এবং ইস্টবেঙ্গল যৌথভাবে ম্যাচ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দুই ক্লাবই সমানভাবে টিকিট ভাগ করে নিয়েছে। মোট ৬২ হাজার টিকিটের চাহিদা এতটাই বেশি যে দুই ক্লাবের কর্তাদের সমর্থকদের আবদার সামলাতে রীতিমতো সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। দীর্ঘদিন পর কলকাতার ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে এমন উন্মাদনা চোখে পড়ছে। এই মরশুমের আইএসএল শিরোপা নির্ধারণেও ডার্বির গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি।
২১ মে আইএসএলের শেষ দিনে কলকাতার দুই প্রধান দলই মাঠে নামবে। কিশোরভারতী স্টেডিয়ামে ইস্টবেঙ্গল খেলবে ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে এবং যুবভারতীতে মোহনবাগানের প্রতিপক্ষ এসসি দিল্লি। কাগজে-কলমে দু’টি ম্যাচই তুলনামূলক সহজ বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে অনেকটাই ধরে নেওয়া হচ্ছে, ডার্বির ফলই ঠিক করে দিতে পারে শেষ পর্যন্ত কোন দল আইএসএল চ্যাম্পিয়ন হবে।
অন্যদিকে, ২৩ মে কলকাতায় অনুষ্ঠিত হবে ফেডারেশনের স্পেশাল জেনারেল মিটিং। সেই কারণে দেশের ফুটবল প্রশাসনের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ কর্তারাই তখন শহরে উপস্থিত থাকবেন। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ২২ মে কলকাতাতেই আইএসএল ট্রফি প্রদান অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে ফেডারেশন। তাদের ইচ্ছা, নতুন ক্রীড়ামন্ত্রীর হাত দিয়েই চ্যাম্পিয়ন দলের হাতে ট্রফি তুলে দেওয়া হোক। তবে আগেই নির্ধারিত ব্যক্তিগত কর্মসূচির কারণে নিশীথ প্রামাণিক ওই অনুষ্ঠানে থাকতে পারবেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
সব মিলিয়ে কলকাতার ফুটবল আবহ এখন ডার্বিময়। শহরের চায়ের আড্ডা থেকে সামাজিক মাধ্যম— সর্বত্র আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু মোহনবাগান বনাম ইস্টবেঙ্গল। শুধু একটি ম্যাচ নয়, মরশুমের ভাগ্য নির্ধারণ করতে চলেছে এই মহারণ। আর সেই ম্যাচে রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রীর উপস্থিতি নিঃসন্দেহে বাড়িয়ে দিচ্ছে বাড়তি আকর্ষণ।