ডার্বির জ্বরে কাঁপছে কলকাতা, টিকিটের খোঁজে রাতজাগা সমর্থকেরা
যুবভারতীতে মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গল মহারণের আগে শহরজুড়ে উন্মাদনা। টিকিটের চাহিদা তুঙ্গে, কাউন্টারের সামনে ভোর থেকেই লম্বা লাইন।
বিট্টু দত্ত, কলকাতা: কলকাতার ফুটবল মানেই আবেগ। আর সেই আবেগ যখন ডার্বিকে ঘিরে তৈরি হয়, তখন শহরের হাওয়া পর্যন্ত বদলে যায়। মোহনবাগান বনাম ইস্টবেঙ্গল ম্যাচের আগে এবারও তার ব্যতিক্রম হল না। আগামীকাল যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে দুই প্রধানের মহারণ ঘিরে ইতিমধ্যেই উন্মাদনায় ফুটছে গোটা শহর। শুধু তিন পয়েন্টের লড়াই নয়, এই ম্যাচের উপর অনেকটাই নির্ভর করছে আইএসএল শিরোপার ভাগ্যও।
তাই ডার্বির উত্তাপ এবার আরও কয়েক গুণ বেশি। ম্যাচের টিকিট বিক্রি শুরু হওয়ার পর থেকেই সমর্থকদের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অধিকাংশ টিকিট শেষ হয়ে যায়। এরপর ক্লাব তাঁবু এবং নির্দিষ্ট কাউন্টারগুলির সামনে সকাল থেকেই লম্বা লাইন চোখে পড়ে।
অনেক সমর্থক ভোরের আলো ফোটার আগেই লাইনে দাঁড়িয়ে পড়েছিলেন শুধুমাত্র একটি টিকিটের আশায়। মোহনবাগান সমর্থক সৌরভ মুখোপাধ্যায় বলেন, “এই ম্যাচ শুধু ফুটবল নয়, এটা সম্মানের লড়াই। অফিসের কাজ ফেলে রেখেছি, কিন্তু ডার্বি মিস করব না। টিকিট পাওয়ার জন্য তিন ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েছি।” অন্যদিকে ইস্টবেঙ্গল সমর্থক অর্ণব দাসের কথায়, “এবারের ডার্বির গুরুত্ব আলাদা। দল চ্যাম্পিয়নের দৌড়ে রয়েছে। মাঠে বসে খেলা না দেখলে আসল অনুভূতিটাই পাওয়া যায় না।”
৬৬ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার যুবভারতী যে প্রায় পূর্ণ হতে চলেছে, তা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে টিকিটের চাহিদা দেখেই। দুই ক্লাব সমানভাবে টিকিট ভাগ করে নিলেও সমর্থকদের চাহিদা সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তাদের। ক্লাব সূত্রের খবর, বহু সদস্য এখনও টিকিট না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অনেকে আবার পরিচিতদের মাধ্যমে শেষ মুহূর্তে টিকিট জোগাড়ের চেষ্টা চালাচ্ছেন। শহরের বিভিন্ন জায়গায় ইতিমধ্যেই ডার্বির আবহ তৈরি হয়ে গিয়েছে। চায়ের দোকান, কলেজ ক্যাম্পাস, অফিস, সর্বত্র এখন আলোচনার কেন্দ্র একটাই, কে জিতবে ডার্বি?
সামাজিক মাধ্যমেও চলছে সমর্থকদের বাকযুদ্ধ। কেউ পুরনো ডার্বির স্মৃতি তুলে আনছেন, কেউ আবার প্রতিপক্ষকে খোঁচা দিতে ব্যস্ত। যুবভারতীর আশেপাশের এলাকাতেও বাড়ছে ব্যস্ততা। জার্সি, পতাকা, স্কার্ফ বিক্রেতাদের মুখে হাসি ফুটেছে। এক দোকানদার বলছিলেন, “ডার্বির আগে ব্যবসা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। সকাল থেকে সমর্থকেরা জার্সি আর পতাকা কিনছেন।”
পুলিশ প্রশাসনও বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে। বিপুল সংখ্যক দর্শক মাঠে আসবেন বলে আগেই সতর্ক প্রশাসন। স্টেডিয়ামের বাইরে ও ভিতরে মোতায়েন থাকবেন অতিরিক্ত পুলিশকর্মী। সমর্থকদের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই এই বিশেষ ব্যবস্থা। অনেকদিন পর এমন উচ্চ ভোল্টেজ ডার্বি ঘিরে শহরের ফুটবল আবেগ যেন নতুন করে জেগে উঠেছে। প্রবীণ সমর্থকদের মতে, “পুরনো দিনের ডার্বির গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে এবার।”
তরুণ প্রজন্মও সমানভাবে মেতে উঠেছে এই মহারণে। এখন শুধু অপেক্ষা মাঠে বল গড়ানোর। নব্বই মিনিটের সেই লড়াইয়ে কে হাসবে শেষ হাসি, তা সময় বলবে। তবে ম্যাচ শুরুর আগেই একটা বিষয় পরিষ্কার— কলকাতার ডার্বি এখনও শুধু ফুটবল ম্যাচ নয়, এটা শহরের আবেগ, গর্ব আর অস্তিত্বের ।