২০৯ ওয়ার্ডে সমন্বয়ক বসাবেন শুভেন্দু, পাল্টা জবাব বিরোধীদের
এই সময়: কলকাতা হাইকোর্টে ওয়ার্ড ডিলিমিটেশন নিয়ে মামলার জেরে পিছিয়ে যাচ্ছে কলকাতা পুরভোট। ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করে উচ্চতর আদালতে যাওয়ার ইঙ্গিত শুক্রবারই দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে পুরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে কাউন্সিলার না–থাকায় পরিষেবা পেতেও ভোগান্তি হচ্ছে সাধারণ মানুষের। এই অবস্থায় ৩০ নভেম্বরের মধ্যে ২০৯টি ওয়ার্ডেই কোঅর্ডিনেটর বা সমন্বয়ক বসানো হবে বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
এ দিন একটি কালীপুজোর উদ্বোধনে বিরোধীদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দ্রুত নির্বাচিত বোর্ডের হাতে কলকাতা পুরসভা যাওয়া প্রয়োজন। কেউ কেউ ভোট আটকানোর জন্য গিয়েছেন (আদালতে)। আপনারা নির্বাচনে জিততে পারবেন না, তাই এ সব করছেন। আপনারা জানেন যে, প্রার্থী খুঁজে পাবেন না। আমি উচ্চ আদালতে লড়ে নেব।’
তাঁর ইঙ্গিতপূর্ণ সংযোজন, ‘৩০ নভেম্বরের পরে ২০৯টি ওয়ার্ডে কো–অর্ডিনেটর নিয়োগ করে দেবো। কলকাতার মানুষ পরিষেবা পাবেন না, এটা তো চলতে পারে না। আমার সঙ্গে পাঙ্গা নিয়ে লাভ নেই।’যদিও এ নিয়ে ভিন্নমত কলকাতার দুই প্রাক্তন মেয়র বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য ও ফিরহাদ হাকিম। বিকাশের প্রতিক্রিয়া, ‘মুখ্যমন্ত্রী যদি এ কথা বলে থাকেন, তিনি আদালত অবমাননা করছেন। এই সব কুবুদ্ধি যাঁরা মুখ্যমন্ত্রীকে দিচ্ছেন, তাঁরা ওঁর সর্বনাশ ডেকে আনছেন।’
ফিরহাদের কথায়, ‘মুখ্যমন্ত্রী এই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। মেয়রের জায়গায় কোনও এক জনের নেতৃত্বে বিভিন্ন ওয়ার্ডে কোঅর্ডিনেটর নিয়োগ করাই যায়। কোভিডের সময়ে আমরা এই পদ্ধতি অবলম্বন করেছিলাম।’ প্রসঙ্গত, কোভিডকালে পুর–নির্বাচন পিছিয়ে যাওয়ায় তৎকালীন রাজ্য সরকার ১৪৪টি ওয়ার্ডে কোঅর্ডিনেটর বসিয়েছিল। কিন্তু সেখানে ওয়ার্ড ডিলিমিটেশন নিয়ে বিতর্ক ছিল না। ফলে এ ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার সমন্বয়ক নিয়োগ নিয়ে কী বিজ্ঞপ্তি জারি করে, সে দিকে নজর রাখছেন আইনজ্ঞরা।