কালীপুজোর আগেই হুগলিতে নিষিদ্ধ বাজির রমরমা! রাস্তার ধারে খুলছে একের পর এক দোকান

কলকাতা: কালীপুজোর প্রাক্কালে হুগলি জেলা জুড়ে বিধি লঙ্ঘন করে যত্রতত্র নিষিদ্ধ বাজি ও আতসবাজি বিক্রির অভিযোগ তুলল ‘বাজি ও ডিজে বিরোধী মঞ্চ’। বৃহস্পতিবার জেলার বিভিন্ন…
কলকাতা: কালীপুজোর প্রাক্কালে হুগলি জেলা জুড়ে বিধি লঙ্ঘন করে যত্রতত্র নিষিদ্ধ বাজি ও আতসবাজি বিক্রির অভিযোগ তুলল ‘বাজি ও ডিজে বিরোধী মঞ্চ’। বৃহস্পতিবার জেলার বিভিন্ন প্রান্তে বাজি ও শব্দবাজির ক্ষতিকারক দিক নিয়ে প্রচার অভিযানে নেমে এই অভিযোগ করেন সংগঠনের কর্মকর্তারা। প্রশাসনের চরম নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে তাঁরা অবিলম্বে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
যত্রতত্র বেআইনি বাজির পসরা ও সচেতনতামূলক প্রচার
সংগঠনের সদস্যদের অভিযোগ, গোটা হুগলি জেলা জুড়েই এখন ছবিটা এক। রাস্তার ধারের অস্থায়ী দোকান থেকে শুরু করে পাড়ায় পাড়ায় মুদির ও স্টেশনারি দোকানেও আইনের তোয়াক্কা না করে রমরমিয়ে বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ বাজি।
কালীপুজোর আগে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে এ দিন প্রচারপত্র বিলি ও পোস্টার সাঁটানোর কাজ চালায় মঞ্চের সদস্যরা।
মঞ্চের সভাপতি সুরজিৎ সেনের অভিযোগ, বেআইনি বাজি বিক্রির ক্ষেত্রে একপ্রকার ‘অলিখিত ছাড়’ দেওয়া হচ্ছে, যার ফলে সর্বত্রই নিষিদ্ধ বাজির রমরমা চোখে পড়ছে। রিষড়া ও শ্রীরামপুরের অন্য সদস্যরাও প্রকাশ্যে এভাবে আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ লঙ্ঘন ও সরকারি নীতির সমালোচনা
মঞ্চের সহ-সম্পাদক তথা আইনজীবী শুভ্রকান্তি সামন্ত জানিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী সরকার অনুমোদিত নির্দিষ্ট বাজি বাজার ছাড়া অন্য কোথাও বাজি বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কিন্তু সেই নির্দেশ সর্বত্রই অমান্য করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে তাঁরা বিষয়টি আদালতের নজরেও আনবেন।
অপর সহ-সম্পাদক জয়ন্ত কুমার পাঁজার অভিযোগ, বাজির কিউআর (QR) কোড তুলে দিয়ে সরকার কেবল ওয়েবসাইটে কোম্পানির তালিকা ঝুলিয়ে দিয়ে নিজেদের দায়িত্ব সেরেছে। এছাড়া ফানুস উৎপাদন ও কেনাবেচায় কোনো বাধা না থাকলেও ব্যবহারের ক্ষেত্রে লাইসেন্সের মতো অদ্ভুত নিয়ম চালু করা হয়েছে বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
সার্বিক এই পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ, পুলিশ, প্রশাসন, দমকল এবং পরিবেশ কর্মীদের নিয়ে একটি ‘যৌথ সমন্বয় কমিটি’ গড়ে সারা বছর কঠোর নজরদারি চালানোর প্রস্তাব দিয়েছে ওই মঞ্চ। পরিবেশকর্মী মাবুদ আলিও শব্দ ও নিষিদ্ধ বাজি রুখতে কড়া আইন প্রণয়নের ওপর জোর দিয়েছেন।
নিউ জলপাইগুড়িতে অভিযান! পুলিশের জালে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী শামীম-জাহানারা