ট্র্যাভেলার্স গিল্ডের সহায়তায় ফিরছেন অভিযাত্রীরা
হোটেলে আগুন লাগায় অভিযাত্রীদের বেশিরভাগ সদস্যের সঙ্গে থাকা বাড়তি পোশাক, জুতো, টাকা সবই ভস্মীভূত। ১৪ জনের দলটি নেপালের লুকলা হ্যালিপ্যাড হয়ে বুধবার কাঠমান্ডুতে পৌঁছেছে। তাঁরা আজ, বৃহস্পতিবার কাঠমান্ডু থেকে নেপালের বীরগঞ্জ হয়ে বিহারের রকসোল ধরে ট্রেনে ৮ নভেম্বর শিয়ালদহ পৌঁছবেন। ১৫ জনের দলটি জনকপুর রোড ধরে সুরকি হয়ে ছোট জিপে বিহার সীমান্তের দিকে এগোচ্ছে। বুধবার সন্ধ্যায় দলটি নেপালের স্যালারি এলাকায় অবস্থান করছে। আজ, বৃহস্পতিবার বিহারের জয়নগর স্টেশন থেকে এই দলের সদস্যরা গঙ্গাসাগর এক্সপ্রেস ধরে ৭ নভেম্বর শিয়ালদহে পৌঁছবেন। অভিযাত্রীদের উদ্ধারের জন্য বসিরহাট ট্র্যাভেলার্স গিল্ডের তরফ থেকে ইন্ডিয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ফাউন্ডেশনের কাছে আবেদন জানানো হলেও কাজের কাজ হয়নি। বাধ্য হয়ে গিল্ডের তরফ থেকে চাঁদা তুলে অভিযাত্রীদের দেশে ফেরার অর্থ পাঠানো হয়েছে বলে জানান বসিরহাট ট্র্যাভেলার্স গিল্ডের সদস্যরা। তীব্র ঠান্ডায় অভিযত্রীদলের সদস্যরা সমস্যার মুখে পড়লেও সকলেই ভালো আছেন বলে জানান বসিরহাট ট্র্যাভেলার্স গিল্ডের সাধারণ সম্পাদক শান্তিকুমার রায়। প্রসঙ্গত, এভারেস্ট বেস ক্যাম্প অভিযানে ১ অক্টোবর ২৯ জনের একটি দল বসিরহাট থেকে রওনা দেয়। দলনেতার অনুমতি নিয়ে ১০ জন অভিযাত্রী অগ্রবর্তী শিবিরে লোবুচে যাত্রা করেন। বাকি ১৯ জন নেপালের ডিংবোচে এলাকায় ১৪,৪৭০ ফুট উচ্চতায় ৩০ অক্টোবর ‘গুডলাক’ হোটেলে জিনিসপত্র, লাগেজ, রেখে বাইরে ছিলেন। এঁদের মধ্যে ছিলেন সাত জন মহিলাও। এলাকায় প্রচণ্ড তুষারপাত হচ্ছিল এবং সেই সময়ে দুর্ঘটনা ঘটে। আচমকা গ্যাস সিলিন্ডার ফেটে হোটেলে আগুন লাগে। বরফের মধ্যে জ্বলতে থাকে কাঠের তৈরি ওই হোটেল। পর্যটকদের সমস্ত জিনিস পুড়ে যায়। কোনও রকমে জোড়াতালি দিয়ে প্রবল ঠান্ডা ও তুষারপাতের মধ্যেই শনিবার তাঁরা প্যাংবোচেতে নামেন। সেখান থেকে দু’টি দলে ভাগ হয়ে তাঁরা নিজেদের উদ্যোগে ও বসিরহাট ট্র্যাভেলার্স গিল্ডের সহায়তায় দেশে ফিরছেন।