এবার ভিজিল্যান্সের প্রশ্নের মুখে জ্ঞানেশ? - 24 Ghanta Bangla News
Home

এবার ভিজিল্যান্সের প্রশ্নের মুখে জ্ঞানেশ?

Spread the love

এই সময়, নয়াদিল্লি: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (সার) প্রক্রিয়ায় তাঁর অপসারণের দাবিতে উত্তাল বিরোধী শিবির৷ এই আবহে দু’দশক আগে কেরালার (বর্তমানে কেরলম) তৎকালীন পূর্তসচিব, বর্তমানে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ওঠা একটি দুর্নীতির মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরুর জন‍্য সে রাজ্যের ভিজিল্যান্স ও দুর্নীতি দমন ব্যুরোকে (ভিএসিবি) নির্দেশ দিয়েছেন কেরলমের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ চেন্নিথালা।

২০০৬–এ কেরলমের তৎকালীন পূর্ত সচিব জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে দু’কোটি টাকা ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। সেই সময়ে কেরালায় একটি যৌথ রোড প্রজেক্টে মালয়েশিয়ান ফার্মের লিডার ছিলেন লি সি বেন নামে এক সিভিল ইঞ্জিনিয়ার। প্রজেক্ট চলাকালীন মাঝপথেই মালয়েশিয়া ফিরে যান তিনি। সরকারি সূত্রে খবর, ফেরার আগে কেরালা প্রশাসনের বিরুদ্ধে একাধিক ক্ষেত্রে অসহযোগিতা ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছিলেন বেন। পরে কুয়ালালামপুরে তিনি আত্মহত্যা করেন। জ্ঞানেশকে নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্কের মধ্যে মাস খানেক আগেই এই তদন্তের ফাইল নতুন করে খোলার সিদ্ধান্ত নেয় কেরলমের কংগ্রেস সরকার। এ বার সেই ঘটনায় জ্ঞানেশকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলেও সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রের দাবি।

সিইসি ও অন্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত ২০২৩–এর আইনে নির্বাচন কমিশনারদের যে রক্ষাকবচ দেওয়া হয়েছিল, তার সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের হয়েছে। বুধবার এই সংক্রান্ত একটি জনস্বার্থ মামলায় কেন্দ্রীয় সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের কাছে এ নিয়ে জবাব তলব করেছে শীর্ষ আদালত। তবে, এখনই ওই আইনি সুরক্ষার উপরে কোনও স্থগিতাদেশ জারি হয়নি।

এই মুহূর্তে সিইসি জ্ঞানেশের আইনি রক্ষাকবচ থাকলেও দু’দশক আগের মামলায় তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ ও তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ করা যায় কি না, তা নিয়ে জল্পনা চলছে। সিইসি হিসেবে তিনি যে রক্ষাকবচ পান, তা জ্ঞানেশের পক্ষে কতটা মজবুত ঢাল হবে, সেটা নিয়ে সংশয়ে প্রবীণ আইনজ্ঞরাও৷

সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও লোকসভার প্রাক্তন সেক্রেটারি জেনারেল পিডিটি আচার্য এ দিন বলেন, ‘সিইসি হিসেবে বর্তমানে যে রক্ষাকবচ জ্ঞানেশ কুমার পান, তার গণ্ডি সীমাবদ্ধ থাকবে তাঁর সিইসি ভূমিকার পরিধিতেই৷ এর বাইরে তিনি অরক্ষিত৷ কেরালা সরকারের পূর্তসচিব হিসেবে তিনি যদি কোনও অন্যায় করে থাকেন, তা হলে এই আইন তাঁকে বাঁচাতে পারবে না৷’ তাঁর যুক্তি, এই পরিস্থিতিতে কেরালার দুর্নীতি দমন শাখা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ বা প্রয়োজনীয় আইনানুগ পদক্ষেপ করতে পারে৷

গত মাসেই কেরালা সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছিলেন কংগ্রেস নেতা মলয়নকিঝু বেণুগোপাল। তাঁর দাবি, ইঞ্জিনিয়ারের সুইসাইড নোটেও জ্ঞানেশের নাম রয়েছে। তাঁর আরও দাবি, ‘পারিপার্শ্বিক চাপের’ কারণে সেই সময়ে জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে তদন্ত বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। নতুন করে অভিযোগের পরে ভিএসিবি সে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের কাছে তদন্তের অনুমতি চায়। স্বরাষ্ট্র দপ্তর সেই অনুমতি দিয়েছে। চেন্নিথালা বলেন, ‘নতুন অভিযোগ এবং আইনি মতামত পাওয়ার পরে কেরালার ভিএসিবি–কে এই বিষয়ে প্রাথমিক তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *