Florida Crash: মাঝ আকাশেই ভেঙে টুকরো, দুর্ঘটনাস্থলের প্রায় ৪ মাইল দূরে মিলল বিমানের লেজের অংশ - 24 Ghanta Bangla News
Home

Florida Crash: মাঝ আকাশেই ভেঙে টুকরো, দুর্ঘটনাস্থলের প্রায় ৪ মাইল দূরে মিলল বিমানের লেজের অংশ

Spread the love

আমেরিকার দক্ষিণ ফ্লোরিডার জেট দুর্ঘটনার তদন্তে উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য। মাটিতে আছড়ে পড়ার আগেই মাঝআকাশে টুকরো হয়ে ভেঙে গিয়েছিল লিয়ারজেট ৬০। দুর্ঘটনাস্থল ও তৈরি হওয়া গর্তের থেকে প্রায় ৩.৮ মাইল (৬ কিলোমিটারেরও বেশি) দূর পর্যন্ত ফ্লাইটের বিভিন্ন অংশ ছড়িয়ে থাকতে দেখা গিয়েছে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারী অফিসাররা। ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (NTSB)-এর সদস্য টম চ্যাপম্যান মঙ্গলবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে জানিয়েছেন, জেটের লেজের অংশ দুর্ঘটনাস্থল থেকে এক মাইলেরও বেশি দূরে পাওয়া গিয়েছে।

চ্যাপম্যান আরও জানিয়েছেন, জেটের লেজের ‘এলিভেটর’ তিনটি টুকরো হয়ে ভেঙে গিয়েছিল। ফ্লাইটের ওঠানামা বা ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণে এই এলিভেটর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চ্যাপম্যান জানিয়েছেন, এলিভেটর অক্ষত না থাকায় পাইলটের পক্ষে কোনও ভাবেই ফ্লাইট নীচে থেকে উপরে তোলা সম্ভব ছিল না। তবে তীব্র গতির কারণেও ফ্লাইট নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন ছিল কি না তা স্পষ্ট নয়। তবে মাঝ আকাশে ফ্লাইটের এই গুরুত্বপূর্ণ অংশ ভেঙে যাওয়া তদন্তের ক্ষেত্রে বড় ক্লু হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুর্ঘটনার ঠিক আগের ছবিতেও ফ্লাইটের লেজে হরাইজন্টাল স্টেবিলাইজার বা এলিভেটর অংশটি অনুপস্থিত ছিল।

দুর্ঘটনার মাত্র কয়েক মিনিট আগে সহকারী পাইলট নাতালিয়া গাদেলহা ফিলগেইরাস এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলকে জানিয়েছেন, ফ্লাইটে বিপজ্জনক ভাবে বরফ জমছে। টার্বুলেন্সের জেরে ফ্লাইট প্রায় ৭০০ ফুট (২১০ মিটার) ওঠানামা করছিল। লিয়ারজেট নীচে পড়ার ঠিক আগে আতঙ্কে চিৎকার করে নাতালিয়া বলেছিলেন, ‘আমরা মরতে চলেছি’। এর পরই মাটিতে প্রচণ্ড শক্তিতে আছড়ে পড়ে আগুন ধরে যায় ফ্লাইটে। এমনকী তীব্র অভিঘাতে মাটিতে এক বিশাল গর্ত তৈরি হয় এবং আশেপাশের ৬০০ বাসিন্দাকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়। মাটিতে একজন সামান্য আহত হয়েছেন।

তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, টেক্সাসের অস্টিন থেকে বাহামাসগামী এই জেট বিমানে থাকা টেক উদ্যোক্তা অ্যাডাম রবিনসন, তাঁর স্ত্রী হেলেন শার্প, তাঁদের দুই সন্তান, আয়া এবং অন্য সহযাত্রীরা-সহ মোট ৯ জনেরই মৃত্যু হয়। ককপিটের দায়িত্বে ছিলেন ৫৫ বছর বয়সি অভিজ্ঞ পাইলট জেফ গ্রেগরি ও সহকারী পাইলট নাতালিয়া। ফ্লাইট যখন তীব্র গতিতে মাটির দিকে নেমে আসছিল, তখন ককপিটের রেডিয়ো বার্তায় পাইলটকে ঈশ্বরের কাছে শেষ প্রার্থনা (Lord’s Prayer) করতে শোনা যায়।

ফ্লাইট পরিচালনাকারী সংস্থা ‘আপার জেটস’-এর ডিরেক্টর টমাস নোয়েটজেল পাইলট জেফের পরিবারের জন্য তহবিল সংগ্রহ শুরু করেছেন। এদিকে, দুর্ঘটনার মিনিট দশেক আগে নাতালিয়া তাঁর প্রেমিককেও ফোনে মেসেজ করে বরফ জমা ও মারাত্মক টার্বুলেন্সের কথা লিখেছিলেন। জেট বিমানে ফোন ব্যবহারে ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FAA)-এর কোনও সরাসরি বাধা না থাকলেও, টেক অফ বা ল্যান্ডিংয়ের সময় তা নিষিদ্ধ। এনটিএসবি জানিয়েছে, খারাপ আবহাওয়াই দুর্ঘটনার মূল কারণ হতে পারে। তদন্তকারীদের দাবি, আগামী এক মাসের মধ্যে প্রাথমিক রিপোর্ট সামনে আসবে, তবে দুর্ঘটনার মূল কারণ নিশ্চিত হতে এক বছরেরও বেশি সময় লাগতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *