‘মুরাসু’, প্রকৃতির সঙ্গে পাল্লা ভারতের প্রযুক্তির
অর্ণবের ল্যান্ডফলের আগে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওডিশা থেকে প্রায় ১ লক্ষ ৮০ হাজার মানুষকে সরানো হয়েছিল। ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থার (ইসরো) উপগ্রহে নজরদারি, কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তরের (আইএমডি) সতর্কবার্তা এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর প্রস্তুতি ছিল। গত এক দশকে ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় ভারতের দক্ষতা বেড়েছে। কিন্তু একটি ঝড়ের ক্ষত মেরামতের আগেই পরেরটি এলে গোটা ব্যবস্থার উপরে চাপ বাড়ে। পূর্ব উপকূলে নজরদারির অন্যতম হাতিয়ার ডপলার ওয়েদার রেডার। আইএমডি-র ২০২৫–এর রিপোর্ট অনুযায়ী, কলকাতা, চেন্নাই, মছলিপত্তনম, বিশাখাপত্তনম, পারাদ্বীপ, গোপালপুর, শ্রীহরিকোটা ও কারাইকালে আটটি রেডার কেন্দ্র রয়েছে। সঙ্গে রয়েছে স্বয়ংক্রিয় আবহাওয়া কেন্দ্র, বৃষ্টিমাপক যন্ত্র, উপগ্রহ ও সমুদ্র পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা। এগুলির তথ্য থেকে ঝড়ের অবস্থান, গতিবেগ, বৃষ্টি ও শক্তি বৃদ্ধির গতিপ্রকৃতি বোঝা যায়। পূর্বাভাসের উন্নতির পরিসংখ্যানও উল্লেখযোগ্য।পূর্বাভাসকে প্রস্তুতিতে বদলাতে রয়েছে জাতীয় ঘূর্ণিঝড় ঝুঁকি প্রশমন প্রকল্প। প্রথম পর্যায়ে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওডিশায়, দ্বিতীয় পর্যায়ে পশ্চিমবঙ্গ-সহ ছ’টি রাজ্যে তৈরি হয়েছে আশ্রয়কেন্দ্র, রাস্তা-সেতু, নোনা জলরোধী বাঁধ, ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎ সংযোগ ও সতর্কবার্তা পৌঁছনোর ব্যবস্থা। দুই পর্যায়ে খরচ হয়েছে যথাক্রমে প্রায় ২,৫২৫ কোটি ও ১,৮০৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ, মানুষ সরানোর পাশাপাশি পরিকাঠামো মজবুত করতেও নজর দিয়েছে প্রশাসন।