গঙ্গার জল থেকে জাপান প্রকল্প, হাসিনার ফেরা! বাংলাদেশে কেন ফের বাড়ছে ভারত-বিরোধী সুর? - 24 Ghanta Bangla News
Home

গঙ্গার জল থেকে জাপান প্রকল্প, হাসিনার ফেরা! বাংলাদেশে কেন ফের বাড়ছে ভারত-বিরোধী সুর?

Spread the love


ঢাকা: বাংলাদেশে নির্বাচন পরবর্তী সময়ে ভারত-বিরোধী প্রচার কিছুটা স্তিমিত হলেও ফের উত্তপ্ত হচ্ছে রাজনৈতিক পরিস্থিতি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভের পাশাপাশি ভারতকেও নিশানা করছে বিরোধী দলগুলি। গঙ্গার জলবণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়া, জাপানের সঙ্গে যোগাযোগ প্রকল্প নিয়ে বিতর্ক, পোশাকশিল্পে শ্রমিক অসন্তোষ এবং শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা, সব মিলিয়ে নতুন করে চর্চায় ভারত-বিরোধী রাজনীতি।

গত ৩০ অক্টোবর ঢাকায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র একটি সভায় ভারত-বিরোধী স্লোগান ওঠে। বিক্ষোভকারীদের মুখে শোনা যায়, ‘দিল্লি না ঢাকা? ঢাকা, ঢাকা’। এনসিপি-র আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ভারতের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তোলেন। সীমান্তে হত্যাকাণ্ড এবং অসম ও পশ্চিমবঙ্গে মুসলিমদের উপর অত্যাচারের অভিযোগও করেন তিনি।

গঙ্গার জল নিয়ে সংঘাতের আশঙ্কা

ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গার জলবণ্টন চুক্তির মেয়াদ আগামী ১২ ডিসেম্বর শেষ হচ্ছে। শুকনো মরসুমে ফারাক্কা ব্যারাজ থেকে দুই দেশের মধ্যে জল ভাগাভাগির নিয়ম রয়েছে এই চুক্তিতে। তবে এবার বাংলাদেশ আরও বেশি জল পাওয়ার দাবি তুলছে। ১৯৭৭ সালের চুক্তিতে থাকা ন্যূনতম জল পাওয়ার নিশ্চয়তা ফিরিয়ে আনার পক্ষেও সওয়াল করছে ঢাকা।

এই পরিস্থিতিতে নাহিদ ইসলাম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, বাংলাদেশকে ন্যায্য জল না দিলে ভারতের পণ্য পরিবহণের জন্য বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে ফের ফারাক্কা লং মার্চেরও ডাক দিয়েছেন তিনি।

জাপানের প্রকল্প ঘিরে বিতর্ক

গত ২৬ অক্টোবর জাপান সফরে গিয়ে শিল্প ও যোগাযোগ পরিকাঠামো উন্নয়নে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করেন তারেক রহমান। মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে নতুন উদ্যোগ ঘিরে বিরোধীদের প্রশ্ন, এই প্রকল্পের আড়ালে ভারতকে কোনও বিশেষ করিডর দেওয়া হচ্ছে কি না। যদিও ঢাকা তৃতীয় কোনও দেশের অংশগ্রহণের বিষয়টি অস্বীকার করেছে।

শ্রমিক অসন্তোষ ও হাসিনার প্রত্যাবর্তন

অন্য দিকে, মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের আন্দোলনে অস্থিরতা বেড়েছে। ‘দ্য ডেইলি স্টার’-এর খবর অনুযায়ী, ৩ নভেম্বর পর্যন্ত অন্তত ৬৯০টি কারখানায় উৎপাদন বন্ধ ছিল। এই আন্দোলনের পিছনে বিদেশি ষড়যন্ত্রের অভিযোগও তুলেছে বাংলাদেশের কয়েক জন নেতা ও পুলিশকর্তা।

এরই মধ্যে ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০২৪ সালের অগস্ট থেকে তিনি ভারতে রয়েছেন। তাঁর প্রত্যাবর্তন নিয়েও বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

সব মিলিয়ে জলবণ্টন, অর্থনৈতিক সংকট ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংঘাতের আবহে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক কোন দিকে এগোয়, এখন সেদিকেই নজর।

বিক্ষোভে অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশ, জরুরি বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

‘দিল্লি নয়, ঢাকা’ স্লোগানে উত্তাল বাংলাদেশ, তারেকের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে ভারত-বিরোধী আওয়াজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *