মেয়ের বিয়ে ‘দেখে’ মরণোত্তর অঙ্গদানে তিন জনকে নবজীবন - 24 Ghanta Bangla News
Home

মেয়ের বিয়ে ‘দেখে’ মরণোত্তর অঙ্গদানে তিন জনকে নবজীবন

Spread the love

এই সময়: পথ দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ৫৪ বছরের চুমকি রায়। মাথার মারাত্মক চোটে যে জ্ঞান তিনি হারিয়েছিলেন, সেই চেতনা আর ফেরেনি। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর ব্রেন ডেথ হয়। কিন্তু তাঁর একটি শেষ ইচ্ছা অপূর্ণ থেকে যাক, তা চাননি পরিবারের সদস্যরা। মেয়ের বিয়ে দেখে যাওয়ার ইচ্ছা ছিল চুমকির। সেই ইচ্ছার কথা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানান মেয়ে। পরিবারের আবেগকে মর্যাদা দিয়ে অঙ্গ আহরণ (অর্গান রিট্রিভাল) প্রক্রিয়া শুরুর আগে চুমকিকে ভেন্টিলেটরে রেখে হাসপাতালেই মেয়ের বিয়ের ব্যবস্থা করল রুবি হাসপাতাল। এর পরেই অঙ্গদানের মাধ্যমে তিন মুমূর্ষুর জীবন বাঁচানোর সুযোগ তৈরি করলেন প্রয়াত চুমকি, ব্যবস্থা করে গেলেন দু’জনের চোখে আলো ফেরানোরও।

হালতুর বাসিন্দা চুমকি গত সোমবার পথ দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম হন। তাঁকে রুবি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের চেষ্টার পরেও তাঁর শারীরিক অবস্থার বিন্দুমাত্র উন্নতি হয়নি। বুধবার রাতে তাঁকে ব্রেন ডেড বলে ঘোষণা করা হয়। এর পরেই অঙ্গদানের সিদ্ধান্ত নেন তাঁর স্বামী দেবব্রত রায়-সহ পরিবারের সদস্যরা। রোটো (রিজিওনাল অর্গান অ্যান্ড টিস্যু ট্রান্সপ্লান্ট অর্গানাইজেশন)–তে বিষয়টি রুবি কর্তৃপক্ষ জানালে তারাই শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে অঙ্গবৈকল্যের শিকার পাঁচ রোগীর শরীরে চুমকির মরণোত্তর অঙ্গ প্রতিস্থাপনের ব্যবস্থা করে।

রোটো সূত্রে খবর, চুমকির লিভার, দু’টি কিডনি এবং দু’ চোখের কর্নিয়া দান করা হয়েছে। কর্নিয়া দু’টি সংগ্রহ করেছে শঙ্কর নেত্রালয়ের আই ব্যাঙ্ক। লিভার পেয়েছেন অ্যাপোলোর এক সিরোসিস রোগী। কিডনি দু’টি পেয়েছেন রুবি ও কম্যান্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দুই ক্রনিক রেনাল ফেলিয়োরে ভোগা রোগী। হৃদযন্ত্র ও ফুসফুস দান করা হলেও, যথাযথ গ্রহীতা মেলেনি ওই দু’টি অঙ্গের। সূত্রের খবর, অঙ্গ প্রতিস্থাপনের পরে স্থিতিশীল রয়েছেন গ্রহীতারা।

অঙ্গদানের সিদ্ধান্তের পাশাপাশি মেয়ের বিয়ের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। মায়ের শেষ ইচ্ছেপূরণে অঙ্গ সংগ্রহের আগে বিয়ের আয়োজন করা হয়। পরে অঙ্গ সংগ্রহের জন্যে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়ার সময়ে চুমকিকে গার্ড অফ অনার দেন হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। পরিবারের কঠিন সময়ে শোক ছাপিয়ে নেওয়া এই সিদ্ধান্তে একদিকে পূরণ হলো চুমকির শেষ ইচ্ছা, অন্য দিকে তাঁর দান করা অঙ্গের মাধ্যমে নতুন জীবনের সুযোগ পেলেন একাধিক রোগী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *