কারখানার কর্মী থেকে চিনের ধনীতম মহিলা! ঝৌয়ের অবিশ্বাস্য উত্থান - 24 Ghanta Bangla News
Home

কারখানার কর্মী থেকে চিনের ধনীতম মহিলা! ঝৌয়ের অবিশ্বাস্য উত্থান

Spread the love

বেজিং: ভাগ্যের চাকা কখন, কীভাবে ঘুরে যায়, তারই এক অসাধারণ উদাহরণ ঝৌ ছুনফেই(Zhou Qunfei)। একসময় সামান্য মজুরির বিনিময়ে কারখানায় কাজ করতেন তিনি। আর্থিক অনটনের কারণে…

বেজিং: ভাগ্যের চাকা কখন, কীভাবে ঘুরে যায়, তারই এক অসাধারণ উদাহরণ ঝৌ ছুনফেই(Zhou Qunfei)। একসময় সামান্য মজুরির বিনিময়ে কারখানায় কাজ করতেন তিনি। আর্থিক অনটনের কারণে কৈশোরেই পড়াশোনা ছাড়তে হয়েছিল। প্রতিদিন মাত্র ১.২০ ডলার, ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১১৪ টাকা আয় করেই দিন কাটত তাঁর। অথচ আজ সেই মহিলাই চিনের সবচেয়ে ধনী মহিলা।

তাঁর সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ১২৭ বিলিয়ন ইউয়ান, ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ১ লক্ষ ৮০ হাজার ৬৯২ কোটি টাকা। ২০২৬ সালের হুরুন রিচেস্ট উইমেন ইন চায়না তালিকায় ফের শীর্ষস্থান দখল করেছেন ৫৬ বছর বয়সি এই শিল্পপতি। একসময় যে কারখানায় কর্মী হিসেবে কাজ করতেন, আজ তিনি নিজেই বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি সংস্থার মালিক।

আরও দেখুনঃ দারিদ্র্যের হার কমিয়ে ভারত ২.৬ শতাংশে! পাকিস্তানে দারিদ্র পৌঁছল ২৩ শতাংশে

হুরুন রিচেস্ট উইমেন ইন চায়না ২০২৬-এর তালিকা প্রকাশিত হয়েছে গত ২৮ অক্টোবর(Zhou Qunfei)। সেই তালিকাতেই উঠে এসেছে ঝৌ ছুনফেইয়ের এই অবিশ্বাস্য সাফল্যের কাহিনি। তাঁর সম্পদের পরিমাণ গত এক বছরে প্রায় ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে তিনি পিছনে ফেলেছেন হানসোহ ফার্মাসিউটিক্যালের প্রতিষ্ঠাতা ঝং হুইজুয়ানকে।

ঝংয়ের মোট সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ১২৪ বিলিয়ন ইউয়ান, ভারতীয় মুদ্রায় আনুমানিক ১ লক্ষ ৭৬ হাজার ৪২৪ কোটি টাকা। দুই শিল্পপতির সম্পদের মধ্যে ব্যবধান খুব বেশি না হলেও তালিকার শীর্ষে জায়গা করে নিয়েছেন ঝৌ। এর আগে ২০১৫ সালেও চিনের সবচেয়ে ধনী মহিলার তকমা পেয়েছিলেন তিনি। প্রায় ১১ বছর পর আবারও সেই জায়গা ফিরে পাওয়া তাঁর ব্যবসায়িক সাফল্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

১৯৭০ সালে চিনের হুনান প্রদেশে জন্ম ঝৌ ছুনফেইয়ের। ছোটবেলা থেকেই দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে তাঁকে। পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতি ভালো না থাকায় কৈশোরেই পড়াশোনা ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে হয়। এরপর কাজের সন্ধানে শেনঝেনে চলে যান তিনি। সেখানে একটি ঘড়ির কাচ তৈরির কারখানায় কাজ শুরু করেন।

প্রতিদিনের মজুরি ছিল মাত্র ১.২০ ডলার। কারখানার মেঝেতে দাঁড়িয়ে দীর্ঘ সময় কাজ করেই চলত তাঁর জীবন।(Zhou Qunfei) কিন্তু আর্থিক অনটন বা সীমিত শিক্ষাগত যোগ্যতা তাঁর স্বপ্নকে থামিয়ে রাখতে পারেনি। বরং কারখানায় কাজ করতে করতেই কাচ উৎপাদন এবং তার প্রক্রিয়াকরণ সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে থাকেন তিনি।

মাত্র ২৩ বছর বয়সে নিজের উদ্যোগে কাচ প্রক্রিয়াকরণের একটি ছোট ওয়ার্কশপ শুরু করেন ঝৌ। হাতে বড় কোনও পুঁজি ছিল না, ছিল না উন্নত পরিকাঠামোও। কিন্তু নিজের পরিশ্রম এবং শেখার আগ্রহকে কাজে লাগিয়ে ধীরে ধীরে ব্যবসা বড় করতে থাকেন।

উৎপাদনের পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি এবং কাচ তৈরির উন্নত পদ্ধতি সম্পর্কেও নিজেকে দক্ষ করে তোলেন। কোনও প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়িক পরিবারের উত্তরাধিকার না থাকা সত্ত্বেও নিজের চেষ্টায় শিল্পক্ষেত্রে জায়গা তৈরি করেন তিনি। পরবর্তী সময়ে তাঁর উদ্যোগই পরিণত হয় লেন্স টেকনোলজি নামে পরিচিত বৃহৎ কাচ প্রস্তুতকারী সংস্থায়।

ঝৌয়ের জীবনে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসে স্মার্টফোন শিল্পের প্রসারের সময়। তাঁর সংস্থা লেন্স টেকনোলজি মোবাইল ফোনের স্ক্রিনের জন্য বিশেষ ধরনের কাচ তৈরি করতে শুরু করে। ২০০৭ সালে অ্যাপলের প্রথম আইফোনের জন্য কাচের কভার সরবরাহের চুক্তি পায় সংস্থাটি। এই চুক্তি ব্যবসার ক্ষেত্রে বড় সুযোগ তৈরি করে দেয়।

বিশ্বজুড়ে আইফোনের জনপ্রিয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লেন্স টেকনোলজির ব্যবসাও দ্রুত সম্প্রসারিত হয়। অ্যাপলের মতো আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি সংস্থার সঙ্গে কাজ করার ফলে বিশ্ববাজারে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করে তারা। (Zhou Qunfei)একসময় যে মহিলা সামান্য মজুরিতে ঘড়ির কাচ তৈরি করতেন, তিনিই হয়ে ওঠেন বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি সরবরাহকারী সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা।

হুরুনের প্রকাশিত তালিকায় আরও একটি উল্লেখযোগ্য তথ্য উঠে এসেছে। চিনের ৫০ জন ধনীতম মহিলার মধ্যে ৬৫ শতাংশই নিজেদের উদ্যোগে সম্পদ তৈরি করেছেন। তাঁদের সম্মিলিত সম্পত্তির পরিমাণ পৌঁছেছে রেকর্ড ১.৯৩ ট্রিলিয়ন ইউয়ানে। ভারতীয় মুদ্রায় যার আনুমানিক মূল্য ২৭ লক্ষ ৪৫ হাজার ৯৫২ কোটি টাকা।

হুরুন ১৯৯৯ সাল থেকে চিনের ধনীতম মহিলাদের তালিকা প্রকাশ করে আসছে। সংস্থাটির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই তালিকায় মহিলাদের ব্যক্তিগত সম্পদের হিসাব করা হয়। পরিবারের অন্য সদস্য বা স্বামীর সঙ্গে যৌথভাবে থাকা সম্পত্তিকে সরাসরি ব্যক্তিগত সম্পদ হিসেবে ধরা হয় না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *