ইথিওপিয়ায় ভয়াবহ হামলা ইসলামপন্থী মৌলবাদীদের! দুই দিনে প্রাণ গেল ৬০ খ্রিস্টানের
ইথিওপিয়ার ওরোমিয়া অঞ্চলে সম্প্রতি এক ভয়াবহ ট্র্যাজেডি ঘটেছে।(Ethiopia) অর্থোডক্স খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষেরা এখনও শোকগ্রস্ত। গত সপ্তাহে দুইটি পৃথক হামলায় অন্তত ৬০ জন অর্থোডক্স খ্রিস্টানকে হত্যা…
ইথিওপিয়ার ওরোমিয়া অঞ্চলে সম্প্রতি এক ভয়াবহ ট্র্যাজেডি ঘটেছে।(Ethiopia) অর্থোডক্স খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষেরা এখনও শোকগ্রস্ত। গত সপ্তাহে দুইটি পৃথক হামলায় অন্তত ৬০ জন অর্থোডক্স খ্রিস্টানকে হত্যা করেছে ইসলামপন্থী মৌলবাদীরা। ২০ অক্টোবর মের্তি জেলার গোরা সিলিঙ্গো এলাকায় ১৪ জন প্রাণ হারান।
তারপর ২৪ অক্টোবর শিরকা জেলার তেরেতা, চোলে ও বিরবো গ্রামগুলোতে আরও ৪৬ জনকে হত্যা করা হয়। চার্চের হিসাবে এ সংখ্যা ৬০। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন শিরকায় একাই প্রায় ৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। অনেকে গুরুতর আহত। অন্তত ২০টি বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
আরও দেখুনঃ ইজরায়েলের ভোটে ধাক্কা নেতানিয়াহুর! বৃহত্তম দল হয়েও সরকার গড়ার অঙ্কে পিছিয়ে লিকুদ
হামলার সময় আক্রমণকারীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে হামলা চালিয়েছে। (Ethiopia)অস্ত্র ও ছুরি ব্যবহার করেছে। নারী, বৃদ্ধ ও শিশুরাও রেহাই পায়নি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, অন্তত পাঁচটি শিশু মারা গেছে। একজন বাসিন্দা বলেছেন, “তারা চারদিক থেকে ঘিরে ফেলেছিল। আমরা কিছুই করতে পারিনি।” নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও হামলা থামাতে পারেনি বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।
মৃতদের শেষকৃত্যের দৃশ্য ছিল অত্যন্ত মর্মান্তিক। চোলে সেন্ট রাফায়েল চার্চে একসঙ্গে ৩৬-৩৭ জনকে গণকবরে সমাহিত করা হয়। অনেকে ভয়ে লুকিয়ে ছিলেন। শুধু সাহসী কয়েকজন বেরিয়ে এসে শেষকৃত্য সম্পন্ন করেন। বিরবোর মাইকেল চার্চ ও অন্যান্য স্থানেও কয়েকজনকে কবর দেওয়া হয়। পরিবারের সদস্যরা কাঁদতে কাঁদতে প্রিয়জনদের মাটির নিচে শুইয়ে দিয়েছেন। অনেক বাড়ি পুড়ে যাওয়ায় মানুষ এখন গৃহহীন। কেউ কেউ নিরাপদ জায়গায় পালিয়ে গেছেন।
ইথিওপিয়ান অর্থোডক্স তেওয়াহেদো চার্চের হোলি সিনড এই হত্যাকাণ্ডকে ‘নিষ্ঠুর ও নির্দয় গণহত্যা’ বলে অভিহিত করেছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার দাবি করেছে।(Ethiopia) ওরোমিয়া আঞ্চলিক সরকারের মুখপাত্র হাইলু আদুগনা অভিযোগ করেছেন, ওরোমো লিবারেশন আর্মিসহ একটি বিদ্রোহী জোট এই হামলা চালিয়েছে। তারা ধর্মীয় ও জাতিগত সংঘাত বাধাতে চায় বলে দাবি করা হয়েছে। তবে কোনো স্বাধীন প্রমাণ এখনো সামনে আসেনি। ওএলএ আগেও এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
ঘটনার পর শিরকায় আরও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। মৃতদের শেষকৃত্য ও আহতদের সাহায্য করার পর ৫০ জনেরও বেশি স্থানীয় বাসিন্দাকে আটক করা হয়েছে বলে রিপোর্ট এসেছে। মানুষ এখন দ্বিগুণ ভয়ে আছেন। একদিকে হামলার স্মৃতি, অন্যদিকে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোরতা।
ওরোমিয়া ইথিওপিয়ার সবচেয়ে বড় অঞ্চল। এখানে বছরের পর বছর ধরে সরকারি বাহিনী ও বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘাত চলছে। অর্থোডক্স খ্রিস্টান সম্প্রদায় বারবার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে বলে মানবাধিকার সংস্থাগুলো দাবি করে। এই অঞ্চলে মুসলিম, প্রোটেস্ট্যান্ট ও অর্থোডক্স খ্রিস্টানরা পাশাপাশি বাস করে। কিন্তু সংঘাতের কারণে সেই সহাবস্থান ভেঙে পড়ছে। চার্চ বলেছে, এ ধরনের হামলা সংবিধানের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও জীবনের অধিকার লঙ্ঘন করে।
স্থানীয়রা এখন শুধু শান্তি চান। তারা চান অপরাধীদের বিচার হোক, নিরাপত্তা নিশ্চিত হোক। পরিবারগুলো হারানো প্রিয়জনদের স্মৃতিতে দিন কাটাচ্ছে। শিশুরা বাবা-মা হারিয়েছে, বৃদ্ধরা সন্তান হারিয়েছে। এখনও পুরো অঞ্চলে শোকের ছায়া।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও ইথিওপিয়ান কর্তৃপক্ষের দিকে তাকিয়ে আছে মানুষ। তারা চায় আর কোনো নিরীহ প্রাণ যেন না যায়। এই হামলার পরেও যদি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আরও বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে।