আতশবাজি সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা কেউ মানে না! চরম ভর্ৎসনা সুপ্রিমকোর্টের
সুপ্রিম কোর্ট আবারও আতশবাজির বিষয়ে কঠোর মন্তব্য করেছে।(Supreme Court) দিল্লি-এনসিআর অঞ্চলে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রতি বছর যেসব নির্দেশ দেওয়া হয়, সেগুলো মাঠ পর্যায়ে কার্যকর না হলে…
সুপ্রিম কোর্ট আবারও আতশবাজির বিষয়ে কঠোর মন্তব্য করেছে।(Supreme Court) দিল্লি-এনসিআর অঞ্চলে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রতি বছর যেসব নির্দেশ দেওয়া হয়, সেগুলো মাঠ পর্যায়ে কার্যকর না হলে সেগুলো নিছক ‘মকরি’ বা উপহাসে পরিণত হয়ে যায় বলে সতর্ক করেছে আদালত। বিচারপতি এম এম সুন্দরেশ ও বিচারপতি প্রসন্ন বি ভারালের বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এই পর্যবেক্ষণ দিয়েছে।
আদালত বলেছে, “আমরা সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে আগ্রহী নই। কিন্তু আমাদেরকে কঠোর অবস্থান নিতে বাধ্য করবেন না।” জনসাধারণের উৎসবের অনুভূতি বুঝতে পারছে আদালত। তবে বাস্তবায়ন না হলে বারবার নির্দেশ দেওয়ার কোনো অর্থ থাকে না।
আরও দেখুনঃ নৌসেনার অস্ত্রভাণ্ডারে আসছে ৮ নতুন যুদ্ধজাহাজ, বড় বরাত পেল কলকাতার GRSE
আদালত প্রশ্ন তুলেছে, গত বছর সীমিত সময়ের জন্য গ্রিন ক্র্যাকার অনুমোদনের পর কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নিয়েছে? কতগুলো দল গঠন করা হয়েছিল? কতবার তল্লাশি হয়েছে? কতগুলো নিষিদ্ধ আতশবাজি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে? কতগুলো মামলা দায়ের হয়েছে? এই তথ্য না থাকলে নির্দেশগুলো শুধু কাগজেই সীমাবদ্ধ থাকে।
দিল্লি সরকার ও সেন্টার ফর এয়ার কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্টের (সিএকিউএম) প্রতিনিধিরা বিভিন্ন ব্যবস্থার কথা বলেছেন। কিন্তু আদালত সন্তুষ্ট হয়নি। অ্যামিকাস কিউরির রিপোর্টে দেখা গেছে, অনেক বায়ু মান নিরীক্ষণ কেন্দ্র ঠিকমতো কাজ করছে না। গ্রিন ক্র্যাকারের নামে সাধারণ উচ্চদূষণকারী আতশবাজি বিক্রি হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। কিউআর কোড ঠিকমতো কাজ করছে না বা ভুয়া থাকছে।
আদালত স্পষ্ট করেছে, সমস্যা আলোর উৎসব নয়, সমস্যা হলো আগুন ও ধোঁয়া।(Supreme Court) একসময় শুধু প্রদীপ জ্বালিয়ে উৎসব পালন করা হতো। সেটা সুন্দর ছিল। আতশবাজি এসে সমস্যা তৈরি করেছে। শিশু, বৃদ্ধ, অসুস্থ মানুষ ও গর্ভবতী নারীদের স্বাস্থ্যের ওপর এর প্রভাব পড়ে। তাই কর্তৃপক্ষকে মাঠে নামতে হবে। অফিসারদের নিজেদের উৎসব পেছনে রেখে নজরদারি করতে হবে। অবৈধ ও অপ্রমাণিত আতশবাজির বিক্রির ওপর কঠোর অভিযান চালাতে হবে।
আদালত জনসচেতনতা বাড়ানোরও পরামর্শ দিয়েছে। (Supreme Court)বিখ্যাত ব্যক্তিত্বদের, যেমন ক্রিকেটার বিরাট কোহলির মতো মানুষদের দিয়ে প্রচারণা চালানোর কথা বলেছে। যাতে মানুষ নিজে থেকেই দূষণমুক্ত উৎসব পালন করে। সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা দিলে শিল্প ও জীবিকার ওপর প্রভাব পড়তে পারে। তাই ভারসাম্য রাখতে চায় আদালত। কিন্তু বাস্তবায়ন না হলে কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হতে পারে।
প্রতি বছর দিওয়ালির আগে একই আবেদন, একই নির্দেশ আর একই সমস্যা। আদালতের হতাশা স্পষ্ট। নির্দেশ দিলেই হয় না, সেটা মাঠে কার্যকর করতে হয়। অন্যথায় আদালতের মর্যাদাই প্রশ্নবিদ্ধ হয়। দিল্লি-এনসিআরের বায়ুদূষণ প্রতি বছরই উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছায়। আতশবাজি তার অন্যতম কারণ। কর্তৃপক্ষ যদি এবারও শুধু প্রতিশ্রুতি দিয়েই থেমে যায়, তাহলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে না।