বহাল অচলাবস্থা, ‘ইফি’ থেকেও বাদ পড়ুয়ারা? - 24 Ghanta Bangla News
Home

বহাল অচলাবস্থা, ‘ইফি’ থেকেও বাদ পড়ুয়ারা?

Spread the love

এই সময়: ‘সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট’–এ (এসআরএফটিআই) অচলাবস্থা ক্রমশ তীব্র আকার ধারণ করছে। ক্যাম্পাসে পুলিশ মোতায়েন এবং নজরদারির প্রতিবাদে এ বার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার হুঁশিয়ারি দিল প্রতিষ্ঠানের ছাত্র সংসদ। অন্য দিকে, উপাচার্য সন্তোষ আজমেরার অফিসে ভাঙচুর ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় পুলিশ ডাকা আবশ্যিক ছিল বলে পালটা যুক্তি দিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। এই ডামাডোলের জেরে আসন্ন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব ‘ইফি’ থেকে সম্ভবত বাদ পড়তে চলেছেন এসআরএফটিআই-এর পড়ুয়ারা।

ছাত্র সংসদের অভিযোগ, গত ২৭ অক্টোবর ক্যাম্পাসে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত বিশিষ্ট চলচ্চিত্র নির্মাতাদের গেটেই আটকে দেওয়া হয়, অথচ ডেলিভারি কর্মীদের প্রবেশে কোনও বাধা ছিল না। ওই দিন মধ্যরাতে উপাচার্যের নিরাপত্তার কথা বলে ক্যাম্পাসে প্রচুর পুলিশ ঢোকানো হয়। পড়ুয়াদের দাবি, উপাচার্য প্রশাসনিক ভবন ছাড়ার পরেও পুলিশ ক্যাম্পাসে এবং হস্টেল চত্বরে দিনরাত টহল দিচ্ছে। প্রতিবাদরত শিক্ষার্থীদের, বিশেষ করে ছাত্রীদের ভিডিয়ো করা হচ্ছে তাঁদের অনুমতি ছাড়াই।

এর প্রতিবাদে উপাচার্যকে চিঠি দিয়ে ছাত্র সংসদ ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে। তাদের হুঁশিয়ারি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ক্যাম্পাস থেকে পুলিশ প্রত্যাহার করা না–হলে এবং পুলিশ ডাকার কারণ, সিসিটিভি ফুটেজ ও গেট রেজিস্টার সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ না–করা হলে, তারা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করবে। পাশাপাশি মানবাধিকার কমিশনেরও দ্বারস্থ হওয়ার কথা জানিয়েছে তারা।

এই আবহে প্রতিষ্ঠানের রেজিস্ট্রার দীপক কুমার পুলিশি পাহারার পক্ষে কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘উপাচার্যের অফিসে ভাঙচুর, ভয় দেখানো, শারীরিক হেনস্থা এবং গত ২৭ তারিখ পড়ুয়াদের আচমকা একটি মশাল মিছিল ক্যাম্পাসে তীব্র আতঙ্ক তৈরি করেছিল। কর্মী, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই ক্যাম্পাসে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’ তাঁর সংযোজন, ‘ক্যাম্পাস খালি করার সরকারি নির্দেশ অমান্য করে পড়ুয়ারা সেখানে থাকছেন, যা অবৈধ দখলের সামিল।

পড়ুয়ারা সিসিটিভি বসাতে বাধা দেওয়ায় ভবিষ্যতের কোনও ক্ষতি এড়াতে নিরাপত্তারক্ষীদের সাধারণ এলাকায় ভিডিয়ো ও ছবি তুলে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’ পুলিশ কতদিন থাকবে? সে বিষয়ে তিনি জানিয়েছেন, পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পুলিশ প্রশাসন নিয়ম অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবে। উপাচার্য সন্তোষ আজমেরার বক্তব্য, ‘ক্যাম্পাসে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে আমাদের শিক্ষকরা পড়ুয়াদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা চালাচ্ছেন।’

তবে এই লাগাতার অস্থিরতার বড় কোপ পড়েছে পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ সুযোগের ওপরও। উপাচার্য জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এসআরএফটিআই-এর বাইরের কোনও ফোরামে বা অনুষ্ঠানে প্রতিনিধিত্ব না করাই শ্রেয় বলে শিক্ষকরা পরামর্শ দিয়েছেন। ফলে এ বছর গোয়ায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে এসআরএফটিআই-এর পড়ুয়াদের বদলে অরুণাচল প্রদেশের এফটিআই, ইটানগরের পড়ুয়া ও শিক্ষকদের নিয়ে যাওয়া হবে। পাশাপাশি, ধর্মশালা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবেও এফটিআই, ইটানগরের ৪০ জন পড়ুয়া ও ৩ জন শিক্ষক অংশ নিচ্ছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *