ফিলিপসের ঝোড়ো সেঞ্চুরিতে কেঁপে গেল ভারত, T20-তে দ্বিতীয় বৃহত্তম হার শ্রেয়সদের
ডাফি শুধু প্রথম ওভারেই জোড়া উইকেট তুলে থেমে থাকেননি। পরে ফিরে এসে নমন ধীর ও অর্শদীপ সিংকে পরপর দু’টি বলে আউট করেন। চার ওভারে মাত্র ২৩ রান দিয়ে চার উইকেট নেন তিনি। ফলে ভারতের ইনিংসে কোনও জুটিই বড় হয়ে ওঠার সুযোগ পায়নি। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৭২ রানেই থামে ভারত। ৮৭ রানের বিশাল ব্যবধানে ম্যাচ জিতে নেয় নিউ জ়িল্যান্ড। একদিকে ফিলিপস ও ব্রেসওয়েলের বিধ্বংসী ব্যাটিং, অন্য দিকে ডাফির দুরন্ত বোলিং— দুই বিভাগেই ভারতকে কার্যত একতরফা ভাবে পিছনে ফেলে দেয় কিউয়িরা।
টি-টোয়েন্টিতে দ্বিতীয় বৃহত্তম হার ভারতের, সাত বছর পর নিউ জ়িল্যান্ডে পরাজয়
রানের ব্যবধানে টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভারতের সবচেয়ে বড় হার ১২৫ রানের। ২০২৬ সালে নাটিংহ্যামে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেই পরাজয়ের মুখ দেখেছিল টিম ইন্ডিয়া। অকল্যান্ডে ৮৭ রানে হেরে এ বার দ্বিতীয় স্থানে উঠে এল ভারত। ২০১৯ সালে ওয়েলিংটনে নিউ জ়িল্যান্ডের কাছে ৮০ রানে হেরেছিল তারা। এ বার সেই ব্যবধানও ছাপিয়ে গেল। অর্থাৎ, টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে রানের ব্যবধানে ভারতের সবচেয়ে বড় তিনটি হারের মধ্যে দু’টিই ২০২৬ সালে। এমন পরিসংখ্যান নিঃসন্দেহে চিন্তার।
পাশাপাশি, ২০১৯ সালের পর এই প্রথম নিউ জ়িল্যান্ডের মাটিতে টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ হারল ভারত। অকল্যান্ডে এর আগে তিনটি ম্যাচ খেলে তিনটিতেই জিতেছিল টিম ইন্ডিয়া। সেই রেকর্ডও এ দিন ভেঙে গেল। প্রথম তিন ম্যাচে ভারতের দাপট ছিল চোখে পড়ার মতো। কিন্তু চতুর্থ ম্যাচে কিউয়িদের সামনে সেই দলকেই সম্পূর্ণ অন্য রকম দেখাল। ২৫৯ রান হজম করার পর রান তাড়া করতে নেমে ৪ রানে ২ উইকেট হারানোই ম্যাচের শুরুতে ভারতকে কতটা চাপে ফেলে দিয়েছিল, তা স্পষ্ট।
সিরিজ় জিতেও এমন হারের ব্যাখ্যা কী?
এই ম্যাচে ভারতের একাদশেও পরিবর্তন ছিল। ঈশান কিষান দলে ফেরেন, বৈভব সূর্যবংশী ও ভুবনেশ্বর কুমার বাইরে থাকেন। মায়াঙ্ক যাদব খেলেন ভুবনেশ্বরের পরিবর্তে। সিরিজ় নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় অন্য ক্রিকেটারদের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল ঠিকই,তবে ভারত মুখ থুবড়ে পড়তেই তা নিয়ে শুরু হয়েছে কাটাছেঁড়া। ভারত অবশ্য ৩-১ ব্যবধানে সিরিজ়ে এগিয়ে রয়েছে। প্রথম তিনটি ম্যাচ জিতেই পাঁচ ম্যাচের সিরিজ় নিশ্চিত করেছিল তারা। ফলে অকল্যান্ডের হার সিরিজ়ের ফলাফলে কোনও প্রভাব ফেলেনি। কিন্তু ৪-০ ব্যবধানে সিরিজ় জয়ের সুযোগ হাতছাড়া হল। তার চেয়েও বড় কথা, এই ম্যাচে ভারতকে যে ভাবে উড়িয়ে দিল নিউ জ়িল্যান্ড, তা শেষ ম্যাচের আগে টিম ম্যানেজমেন্টকে ভাবাবে।