ছ’মাস বয়সেই বিশ্বরেকর্ড ইনায়ার, বাড়িতে এল শংসাপত্র ও মেডেল
এই সময়, আরামবাগ: মাত্র ৬ মাস বয়সেই বিশ্বরেকর্ড! খানাকুলের মুখ উজ্জ্বল করল ছয় মাসের কন্যা ইনায়া আফরোজ়। খানাকুলের পোল-২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের সাইবোনা উত্তরপাড়ায় এখন খুশির জোয়ার বইছে। এই গ্রামেই তার বাড়ি। খানাকুলের প্রত্যন্ত ও বন্যাকবলিত এলাকার বাসিন্দা একরত্তি ইনায়া। এখনও ভালো ভাবে মুখের বোল ফোটেনি। কিন্তু এক অসামান্য কৃতিত্বের অধিকারী হয়ে গিয়েছে সে এই বোল না ফোটা বয়সেই। এই অসামান্য সাফল্যে গোটা এলাকায় এখন সাজো সাজো রব ও আনন্দের পরিবেশ।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ইনায়া আফরোজ় ‘ইয়াংগেস্ট বেবি আইডেন্টিফাই ১২ ব্ল্যাক অ্যান্ড হোয়াইট ফ্ল্যাশ কার্ড’ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছিল। মাত্র পাঁচ মাস ২১ দিন বয়সে সে এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। সম্প্রতি পোস্ট অফিসের মাধ্যমে বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস-এর পক্ষ থেকে তার শংসাপত্র ও মেডেল বাড়িতে এসে পৌঁছয়। তাতেই হতবাক সবাই।
আকাশ থেকে পড়ার মত অবস্থা পরিবারে!পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, যখন ইনায়ার বয়স মাত্র তিন মাস, তখন থেকেই তার মা সাবনুর সুলতানা তাকে সাদা ও কালো কার্ডের সাহায্যে বিভিন্ন ছবি যেমন— পশুপাখি, ছাতা, ঘোড়া, আসবাব ইত্যাদি চেনানোর অনুশীলন করাতেন। ছোট্ট ইনায়া অত্যন্ত প্রতিভার পরিচয় দিয়ে ইশারার মাধ্যমেই সেই সমস্ত ছবি সঠিক ভাবে চিহ্নিত করত। মা, এই পুরো প্রক্রিয়ার ভিডিয়ো করে এই প্রতিযোগিতায় পাঠান। এর ফলস্বরূপ, বিশ্বমঞ্চে স্বীকৃতি পেয়ে দেশের ও খানাকুলের নাম উজ্জ্বল করেছে এই ছোট্ট শিশুটি। ইনায়ার বাবা শেখ নাজেস আফরোজ় বর্তমানে কর্মসূত্রে কেরলমে রয়েছেন।
দূরে থেকেও মেয়ের এই বিশাল সাফল্যে তিনি ও পরিবারের সবাই অত্যন্ত আনন্দিত। এত কম বয়সে এমন অসাধারণ মেধার পরিচয় দেওয়ায়, ইনায়াকে ঘিরে এখন প্রশংসার বন্যা বইছে পুরো সাইবোনা এলাকা জুড়ে। ছোট্ট ইনায়া আফরোজ়ের এই সাফল্যে গোটা এলাকার মানুষজন অত্যন্ত খুশি। এখন তার বাড়িতে লোক সমাগমের শেষ নেই। খবর ছড়াতেই বাড়িতে আত্মীয়,বন্ধুবান্ধব, পাড়া প্রতিবেশী সবাই বাড়ি বয়ে দেখতে আসছেন ছোট্ট ইনায়ার পুরস্কারের সম্ভার। আশীর্বাদ করে যাচ্ছেন সবাই।