সহজে মিলবে না সরকারি চাকরি! চরিত্র যাচাইয়ের নতুন নিয়মে বড় পরিবর্তন আনল রাজ্য
লখনউ: সরকারি চাকরিপ্রার্থীদের চরিত্র ও পূর্বসূরি যাচাইয়ের প্রক্রিয়ায় নিয়মে বড়সড় কড়াকড়ি আনল উত্তরপ্রদেশ সরকার। এলাহাবাদ হাইকোর্টের নির্দেশকে মান্যতা দিয়ে রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংশোধিত নির্দেশিকা…
লখনউ: সরকারি চাকরিপ্রার্থীদের চরিত্র ও পূর্বসূরি যাচাইয়ের প্রক্রিয়ায় নিয়মে বড়সড় কড়াকড়ি আনল উত্তরপ্রদেশ সরকার। এলাহাবাদ হাইকোর্টের নির্দেশকে মান্যতা দিয়ে রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংশোধিত নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বর্তমান শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন বা হিংসাত্মক উপায়ে ক্ষমতার পালাবদলে যুক্ত ব্যক্তিরা সরকারি চাকরির জন্য সম্পূর্ণ অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের সমস্ত বিভাগ, নিগম, পরিষদ এবং স্থানীয় সংস্থায় এই নতুন নীতি কার্যকর হবে।
প্রশাসনের স্পষ্ট বার্তা, কেবল নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক মতাদর্শ বা বিশ্বাসের কারণে কোনো প্রার্থীর চাকরি বাতিল করা হবে না। তবে যেসব প্রার্থী এমন কোনো সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত, যাদের মূল লক্ষ্য হিংসার মাধ্যমে বিদ্যমান ব্যবস্থাকে বদলে ফেলা, তাঁদের সরকারি চাকরিতে নিয়োগ করা হবে না।
নির্দেশিকায় তিন বছরের একটি নির্দিষ্ট মূল্যায়ন পর্বের কথা বলা হয়েছে। ২১ বছর বয়সের পর এবং তদন্তের তারিখের আগের তিন বছরের মধ্যে যদি কেউ এ ধরনের কার্যকলাপে যুক্ত থাকেন, তবে ধরে নেওয়া হবে যে তিনি এখনও সক্রিয়ভাবে এর সঙ্গে জড়িত, যতক্ষণ না তাঁর আচরণ ও মানসিকতায় পরিবর্তনের পক্ষে জোরালো প্রমাণ মিলছে।
কোন কোন অপরাধে চাকরি বাতিল?
সংশোধিত কাঠামো অনুযায়ী, খুন, ডাকাতি, ধর্ষণ, নারীর শ্লীলতাহানি, দুর্নীতি, সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং ‘সলভার গ্যাং’-এর মতো অপরাধের সঙ্গে জড়িত প্রার্থীরা সরকারি চাকরি থেকে চিরতরে বঞ্চিত হবেন। এর পাশাপাশি পরীক্ষা জালিয়াতি (যেমন ভুয়ো পরীক্ষার্থী বা জাল সার্টিফিকেট ব্যবহার), ডিজিটাল অ্যারেস্ট কেলেঙ্কারি, ইউপিআই (UPI) প্রতারণার মতো সাইবার অপরাধ, অর্থপাচার, মাদক পাচার এবং সংগঠিত অপরাধের মামলাগুলিকেও অযোগ্যতার তালিকায় রাখা হয়েছে।
তবে স্বস্তির বিষয় হলো, শুধুমাত্র এফআইআর (FIR) দায়ের হওয়া বা তদন্ত ঝুলে থাকা মানেই প্রার্থীর চাকরি বাতিল হবে না। পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে মিটে যাওয়া মামলা এবং জুভেনাইল জাস্টিস আইনের আওতাধীন ঘটনাগুলির ক্ষেত্রেও স্বয়ংক্রিয়ভাবে চাকরি আটকাচ্ছে না।
৩০ দিনের মধ্যে পুলিশ ভেরিফিকেশন ও স্বচ্ছতা
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, জেলা পুলিশ এবং স্থানীয় গোয়েন্দা বিভাগ (LIU)-কে আবেদন পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে চরিত্র যাচাইয়ের রিপোর্ট জমা দিতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ে কাজ না হলে তা নজরদারি করবে স্বরাষ্ট্র দফতর। ভেরিফিকেশনের জন্য পুলিশ আর প্রার্থীর বাড়ি যাবে না বা সশরীরে হাজিরার জন্য জোরাজুরি করবে না। যদি কোনো নেতিবাচক রিপোর্ট আসে, তবে সুপারিশ পাঠানোর আগে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট প্রার্থীকে অনলাইনে বা সরাসরি নিজের বক্তব্য রাখার সুযোগ দেবেন। এছাড়া যাঁদের ইতিমধ্যে সরকারি চাকরি রয়েছে, তাঁদের নতুন করে চরিত্র যাচাই করানোর প্রয়োজন পড়বে না।
সাম্প্রতিক সময়ে আদালতের একাধিক রায়ের প্রেক্ষিতে স্বচ্ছতা বজায় রেখেই এই নতুন এবং স্পষ্ট গাইডলাইন সামনে আনল যোগী আদিত্যনাথ প্রশাসন।
পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কে বড় জালিয়াতি! গ্রাহকদের ৩৫ কোটি টাকা গায়েব, বরখাস্ত পাঁচ কর্মী
আরএসএস গড়ে ফের ধাক্কা বিজেপির! নাগপুরে ৩২৭১ ভোটে জিতলেন কংগ্রেসের অভিজিৎ