পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কে বড় জালিয়াতি! গ্রাহকদের ৩৫ কোটি টাকা গায়েব, পাঁচ কর্মী বরখাস্ত
নয়াদিল্লি: পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক (PNB)-এর একটি শাখায় প্রায় ৩৫ কোটি টাকা গায়েব হয়ে যাওয়ার অভিযোগে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল। গ্রাহকদের অজান্তেই তাঁদের সেভিংস অ্যাকাউন্ট এবং ফিক্সড…
নয়াদিল্লি: পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক (PNB)-এর একটি শাখায় প্রায় ৩৫ কোটি টাকা গায়েব হয়ে যাওয়ার অভিযোগে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল। গ্রাহকদের অজান্তেই তাঁদের সেভিংস অ্যাকাউন্ট এবং ফিক্সড ডিপোজিট (FD)-এর টাকা বেপাত্তা হয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের তরফে শাখা ম্যানেজার-সহ মোট পাঁচ কর্মীকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। পাশাপাশি, পুলিশের পক্ষ থেকে এফআইআর (FIR) দায়ের করে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
গ্রেটার নয়ডার সেক্টর পি-১ শাখায় এই বড়সড় আর্থিক অনিয়মের ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। গ্রাহকদের দাবি, তাঁদের অজান্তেই অ্যাকাউন্ট থেকে বিশাল অঙ্কের টাকা অন্য অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরিত করা হয়েছে এবং মেয়াদের আগেই ফিক্সড ডিপোজিট ভেঙে টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। সংবাদসংস্থা পিটিআই সূত্রে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা তছরুপের অভিযোগ উঠলেও ব্যাঙ্ক বা পুলিশের তরফে এখনও সরকারিভাবে এই অঙ্ক নিশ্চিত করা হয়নি।
ক্ষোভ উগরে দিয়ে একাধিক গ্রাহক জানিয়েছেন, তাঁদের অজান্তেই সমস্ত জমানো টাকা উধাও হয়ে গিয়েছে। বিজেন্দ্র সিং নামে এক গ্রাহক জানান, তাঁর অ্যাকাউন্টে যেখানে প্রায় ৮৭-৮৮ লক্ষ টাকা ছিল, তা কমে মাত্র ১ লক্ষ টাকায় এসে দাঁড়িয়েছে। একইভাবে হনি খান ও জাকির নামে দুই গ্রাহক যথাক্রমে ৩৯ লক্ষ ও সাড়ে ৯ লক্ষ টাকা হারানোর অভিযোগ করেছেন। তাঁদের দাবি, কোনো রকম ওটিপি (OTP), বার্তা বা সম্মতি ছাড়াই এই জালিয়াতি করা হয়েছে। পাসবুক আপডেট করতে গেলে ব্যাঙ্ক কর্মীদের পক্ষ থেকে রিজার্ভ ব্যাংক (RBI)-এর অডিটের অজুহাত দেখিয়ে তাঁদের ফিরিয়ে দেওয়া হতো বলে অভিযোগ।
বিক্ষোভ ও পুলিশের পদক্ষেপ
এই ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা ব্যাঙ্ক শাখার বাইরে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখান। এমনকি একটি কৃষক সংগঠনের পক্ষ থেকেও অবিলম্বে টাকা ফেরতের দাবিতে সেখানে অবস্থান বিক্ষোভ করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যাংক চত্বরে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
বিট-২ (Beta-2) থানায় শ্রীরূপচাঁদ নামে স্থানীয় এক বাসিন্দার অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ১৮ জন গ্রাহক লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে পুরো মামলাটি অর্থনৈতিক অপরাধ শাখা (EOW)-র হাতে তুলে দেওয়া হতে পারে বলে সূত্রের খবর।
পাঁচ কর্মী বরখাস্ত ও ব্যাংকের প্রতিক্রিয়া
গ্রাহকদের প্রতিবাদের মুখে পড়ে তড়িঘড়ি পদক্ষেপ করেছে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ। শাখা ম্যানেজার সহ মোট পাঁচজন কর্মীকে বরখাস্ত করার পাশাপাশি ওই শাখার পুরো কর্মীদলকে বদলে দেওয়া হয়েছে। ব্যাঙ্কের পক্ষ থেকে গ্রাহকদের আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, তাদের সমস্ত অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং খোয়া যাওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তদন্ত সম্পন্ন হলেই জালিয়াতির আসল সত্য এবং মোট কত টাকা তছরুপ হয়েছে, তা স্পষ্ট হবে।
‘গর্বের সঙ্গে বলছি, আমি ডিমাগি নকশাল!’ জামিয়া-জেএনইউ ইস্যুতে কেন্দ্রকে নিশানা নাসিরুদ্দিনের
ভারতেই তৈরি হবে পিরেল্লির প্রিমিয়াম টায়ার! বড় চুক্তি বি কে টির