৯০০০mAh ব্যাটারি ও ১৮৫Hz ডিসপ্লে নিয়ে লঞ্চ iQOO Neo 12
মুম্বই: ৯০০০mAh ব্যাটারি, ১৮৫Hz রিফ্রেশ রেটের Super AMOLED ডিসপ্লে এবং Snapdragon 8 Elite Gen 5 প্রসেসর নিয়ে চিনে লঞ্চ হল iQOO Neo 12। গত বছরের iQOO Neo 11-এর উত্তরসূরি হিসেবে এসেছে নতুন এই স্মার্টফোন। এতে রয়েছে ২K রেজোলিউশনের ডিসপ্লে, সর্বোচ্চ ১৬GB RAM, ১TB স্টোরেজ এবং ১০০W ফাস্ট চার্জিংয়ের সুবিধা। গেমিংয়ের জন্য সংস্থাটি ফোনে বিশেষ Q3 গেমিং চিপের পাশাপাশি সক্রিয় কুলিং ফ্যান ও 3D ভেপার চেম্বার কুলিং প্রযুক্তিও দিয়েছে। চিনে Vivo-র অনলাইন স্টোরের মাধ্যমে ফোনটি বিক্রি হবে। এর দাম শুরু হচ্ছে ৪,৩৯৯ চিনা ইউয়ান থেকে, ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ৬৩,০০০ টাকা। তবে ভারতে ফোনটি লঞ্চ হবে কি না, সে বিষয়ে সংস্থা এখনও কোনও ঘোষণা করেনি।
iQOO Neo 12-এর মোট পাঁচটি RAM ও স্টোরেজ কনফিগারেশন রয়েছে। বেস মডেলে ১২GB RAM এবং ২৫৬GB স্টোরেজ পাওয়া যাবে। অন্যদিকে, ক্রেতারা ১৬GB RAM ও ২৫৬GB স্টোরেজ, ১২GB RAM ও ৫১২GB স্টোরেজ, ১৬GB RAM ও ৫১২GB স্টোরেজ এবং ১৬GB RAM ও ১TB স্টোরেজের সংস্করণও বেছে নিতে পারবেন। ফোনটি তিনটি রঙে পাওয়া যাবে, Contest, Shadow Black এবং Frost Blade Blue। শেষের রঙের নামটি চিনা ভাষা থেকে অনূদিত। সংস্থার অনলাইন স্টোরের মাধ্যমে চিনে বিক্রি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
ফোনটির অন্যতম আকর্ষণ ৬.৮৩ ইঞ্চির ২K Super AMOLED ডিসপ্লে। এর রেজোলিউশন ১,৪৪০ × ৩,২০০ পিক্সেল এবং পিক্সেল ডেনসিটি ৫১৪ppi। ডিসপ্লেটি সর্বোচ্চ ১৮৫Hz রিফ্রেশ রেট সমর্থন করে। পাশাপাশি রয়েছে HDR সাপোর্ট, ১.০৭ বিলিয়ন রং দেখানোর ক্ষমতা এবং সর্বোচ্চ ২,২০০ নিটস পিক ব্রাইটনেস। সংস্থার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ডিসপ্লের স্ক্রিন-টু-বডি রেশিও ৯৪.৮৮ শতাংশ। এর ইনস্ট্যান্টেনিয়াস টাচ স্যাম্পলিং রেট সর্বোচ্চ ৫,০০০Hz। দ্রুতগতির গেম খেলার সময় আঙুলের স্পর্শ শনাক্ত করা এবং স্ক্রিনে মসৃণ অ্যানিমেশন দেখানোর ক্ষেত্রে এই বৈশিষ্ট্যগুলি কাজে আসতে পারে। তবে সব অ্যাপ বা গেমে সর্বোচ্চ রিফ্রেশ রেট ও টাচ স্যাম্পলিং রেট ব্যবহার করা যাবে কি না, তা সংশ্লিষ্ট সফটওয়্যারের উপর নির্ভর করবে।
পারফরম্যান্সের জন্য iQOO Neo 12-তে রয়েছে ৩ ন্যানোমিটার প্রযুক্তিতে তৈরি অক্টা-কোর Snapdragon 8 Elite Gen 5 প্রসেসর। এর সর্বোচ্চ ক্লক স্পিড ৪.৬GHz। গ্রাফিক্সের দায়িত্ব সামলাবে Adreno 840 GPU। এর পাশাপাশি ফোনে রয়েছে Q3 গেমিং চিপ, যা গেমিংয়ের অভিজ্ঞতা উন্নত করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। RAM হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে LPDDR5x Ultra প্রযুক্তি এবং স্টোরেজের জন্য রয়েছে UFS 4.1। সর্বোচ্চ ১৬GB RAM ও ১TB স্টোরেজের সংস্করণটি ভারী গেম, বড় ফাইল এবং একাধিক অ্যাপ ব্যবহারের ক্ষেত্রে বেশি জায়গা দেবে। তবে প্রকৃত পারফরম্যান্স নির্ভর করবে গেমের ধরন, সফটওয়্যার অপ্টিমাইজেশন এবং ফোনের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের উপর।
দীর্ঘক্ষণ গেম খেলার সময় ফোন গরম হয়ে যাওয়ার সমস্যা কমাতে iQOO সক্রিয় কুলিং ফ্যান এবং 3D ভেপার চেম্বার কুলিং ব্যবস্থা দিয়েছে। এই কুলিং সিস্টেমের তাপ অপসারণের ক্ষেত্রফল ৮,২০০ বর্গমিলিমিটার। প্রসেসর ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ উপাদান থেকে তাপ সরিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে এই ব্যবস্থা ফোনের কার্যক্ষমতা স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করতে পারে। বিশেষ করে উচ্চ গ্রাফিক্স সেটিংসে গেম খেলার সময় তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ গুরুত্বপূর্ণ। তবে বাস্তবে ফোনটি কতটা ঠান্ডা থাকে এবং দীর্ঘক্ষণ ব্যবহারের পর পারফরম্যান্স কতটা স্থিতিশীল থাকে, তা ব্যবহারিক পরীক্ষার ফলেই বোঝা যাবে।
ক্যামেরার ক্ষেত্রে ফোনটির পিছনে রয়েছে দুটি ক্যামেরা। প্রধান ক্যামেরায় ব্যবহার করা হয়েছে Sony IMX921 সেন্সর-সহ ৫০ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা, যার অ্যাপারচার f/1.88। এতে অপটিক্যাল ইমেজ স্ট্যাবিলাইজেশন বা OIS রয়েছে। ছবি তোলার সময় হাত কেঁপে গেলে তার প্রভাব কমাতে এবং ভিডিও রেকর্ডিংয়ের সময় দৃশ্য স্থিতিশীল রাখতে OIS সাহায্য করতে পারে। প্রধান ক্যামেরাটি সর্বোচ্চ ২০ গুণ ডিজিটাল জুম সমর্থন করে। এর সঙ্গে রয়েছে ৮ মেগাপিক্সেলের আল্ট্রা-ওয়াইড ক্যামেরা, যার অ্যাপারচার f/2.2। সামনে সেলফি এবং ভিডিও কলের জন্য রয়েছে ১৬ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা, যার অ্যাপারচার f/2.45। ফোনটি সর্বোচ্চ 8K রেজোলিউশনে প্রতি সেকেন্ডে ৩০ ফ্রেমে ভিডিও রেকর্ড করতে পারে।
ব্যাটারির ক্ষেত্রে ৯০০০mAh ক্ষমতার ইউনিট দেওয়া হয়েছে। সঙ্গে রয়েছে ১০০W তারযুক্ত ফাস্ট চার্জিং সাপোর্ট। এই বড় ব্যাটারি দীর্ঘক্ষণ গেম খেলা, ভিডিও দেখা এবং অন্যান্য কাজের জন্য সুবিধা দিতে পারে। তবে একবার চার্জে কতক্ষণ ব্যাটারি চলবে, তা ব্যবহারের ধরন, ডিসপ্লের উজ্জ্বলতা, নেটওয়ার্ক এবং গেমিংয়ের সময়ের উপর নির্ভর করবে। ফোনটিতে ডুয়াল-সিম সাপোর্ট রয়েছে এবং সফটওয়্যার হিসেবে দেওয়া হয়েছে Vivo-র OriginOS 7, যা Android 17-এর উপর ভিত্তি করে তৈরি বলে জানানো হয়েছে।
সংযোগের জন্য iQOO Neo 12-তে রয়েছে 5G, 4G LTE, Wi-Fi 7, Bluetooth 5.4 এবং USB Type-C পোর্ট। পাশাপাশি GPS, BeiDou, GLONASS, Galileo ও QZSS স্যাটেলাইট নেভিগেশন সিস্টেম সমর্থন করে ফোনটি। অতিরিক্ত সুবিধার মধ্যে রয়েছে IR ব্লাস্টার, যা সামঞ্জস্যপূর্ণ কিছু ইলেকট্রনিক যন্ত্র নিয়ন্ত্রণে ব্যবহার করা যায়। নিরাপত্তার জন্য দেওয়া হয়েছে 3D আলট্রাসনিক ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর। এছাড়া ফোনে রয়েছে গ্র্যাভিটি সেন্সর, অ্যাম্বিয়েন্ট লাইট সেন্সর, প্রক্সিমিটি সেন্সর, জাইরোস্কোপ এবং ই-কম্পাস।
ফোনটির মাপ ১৬৩.৪২ × ৭৫.৮৯ × ৮.৫ মিলিমিটার এবং ওজন প্রায় ২২৬ গ্রাম। ফলে বড় ব্যাটারি ও উন্নত কুলিং ব্যবস্থার পাশাপাশি ফোনটির ওজনও উল্লেখযোগ্য। যারা দীর্ঘক্ষণ গেম খেলেন, তাঁদের কাছে ব্যাটারি, ডিসপ্লে এবং কুলিংয়ের সমন্বয় আকর্ষণীয় হতে পারে। তবে ফোনটির দামও তুলনামূলক বেশি।
iQOO Neo 12-তে বড় ব্যাটারি, উচ্চ রিফ্রেশ রেটের ডিসপ্লে, শক্তিশালী প্রসেসর এবং উন্নত কুলিং প্রযুক্তির সমন্বয় রয়েছে। চিনে এর দাম শুরু হচ্ছে ৪,৩৯৯ ইউয়ান, ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৬৩,০০০ টাকা থেকে। সর্বোচ্চ ১৬GB RAM ও ১TB স্টোরেজের সংস্করণের দাম ৬,৪৯৯ ইউয়ান, যা প্রায় ৯৩,০০০ টাকা। তবে এই ভারতীয় মূল্যগুলি আনুমানিক রূপান্তর, ভারতে সম্ভাব্য বিক্রয়মূল্য নয়। ভারতীয় বাজারে ফোনটি আসবে কি না এবং এলে কত দামে বিক্রি হবে, তা জানতে সংস্থার আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা করতে হবে।
Get your daily dose of tech news and insight. Follow us on X, Facebook, WhatsApp and Google News for instant updates. Catch all the action on our YouTube channel.