বছরে ২৫ হাজার ভ্রূণ তৈরি! গুজরাটে দুগ্ধ খাতে নতুন বিপ্লব মোদীর
গুজরাটের বনসকাণ্ঠা জেলার (India Bovine)ভিলডিতে আজকের ভারতের পশুপালন ও দুগ্ধ খাতের এক নতুন অধ্যায় শুরু হতে চলেছে। আগামীকাল ৩০ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী উদ্বোধন করবেন…
গুজরাটের বনসকাণ্ঠা জেলার (India Bovine)ভিলডিতে আজকের ভারতের পশুপালন ও দুগ্ধ খাতের এক নতুন অধ্যায় শুরু হতে চলেছে। আগামীকাল ৩০ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী উদ্বোধন করবেন ১২৭ একর জায়গা জুড়ে গড়ে ওঠা ভারত বোভাইন ব্রিডিং অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার বা বিবিবিআরসি। বনস ডেইরির উদ্যোগে নির্মিত এই কেন্দ্রটি শুধু একটি গবেষণাগার নয়, বরং দেশের কৃষকদের জীবন বদলে দেওয়ার এক সম্ভাবনাময় প্ল্যাটফর্ম।
এই কেন্দ্রে আধুনিক প্রজনন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। ওভাম পিক-আপ, ইন-ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন বা ওপিইউ-আইভিএফ এবং এমব্রিও ট্রান্সফারের মতো পদ্ধতিতে বছরে ২৫ হাজার উচ্চমানের ভ্রূণ তৈরির লক্ষ্য রাখা হয়েছে। সাধারণত একটা উন্নত জাতের গরু বছরে একটি বাছুর দেয়। কিন্তু এই প্রযুক্তিতে একই গরু থেকে এক বছরে দশ থেকে বিশটি বাছুর পাওয়া সম্ভব। ফলে জেনেটিক উন্নয়ন অনেক দ্রুত হবে।
আরও দেখুনঃ চিনা সংস্থা থেকে ২০ লক্ষ নিয়ে ভারতের কৌশলগত প্রকল্পের বিরোধিতায় আন্দোলনে অরুণাচলের অ্যাকটিভিস্ট
কেন্দ্রটি দেশীয় জাতগুলোর ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে। (India Bovine)কানক্রেজ, গির, সাহিওয়াল, থারপারকারের মতো গরুর জাত এবং মেহসানি, বান্নি, জাফরাবাদি মহিষের জাত উন্নত করা হবে। জাতীয় গোকুল মিশনের আওতায় কেন্দ্রীয় সরকারের সহায়তা এবং ন্যাশনাল ডেইরি ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের প্রযুক্তিগত নির্দেশনায় এই প্রকল্প এগোচ্ছে। খরচ প্রায় ৩২৫ কোটি টাকা।
বনসকাণ্ঠা গুজরাটের অন্যতম প্রধান দুগ্ধ উৎপাদন এলাকা। এখানকার প্রায় ২৮ লাখ গবাদিপশুর উৎপাদনশীলতা বাড়ানোই মূল লক্ষ্য। কম সংখ্যক কিন্তু বেশি দুধ দেওয়া প্রাণী পালন করে কৃষকদের খরচ কমানো এবং আয় বাড়ানোর কথা ভাবা হয়েছে। ঘাস ও খাদ্যের অভাব যখন বাড়ছে, তখন এই পদ্ধতি টেকসই সমাধান হতে পারে।
স্থানীয় কৃষকরা ইতিমধ্যেই উৎসাহিত। (India Bovine)বোভাইন ব্রিডপ্রেনার ক্লাবের মাধ্যমে শত শত দুগ্ধ চাষি যুক্ত হচ্ছেন। তারা উন্নত জাতের পশু পালন করবেন এবং রেকর্ড রাখবেন। এমব্রিওর দাম প্রাথমিকভাবে এক হাজার টাকা রাখা হয়েছে। গর্ভধারণ নিশ্চিত হলে রাজ্য সরকার, জিসিএমএমএফ ও বনস ডেইরি ভর্তুকি দেবে।
গুজরাট বিধানসভার স্পিকার ও বনস ডেইরির চেয়ারম্যান শঙ্করভাই চৌধুরী বলেছেন, এই কেন্দ্র বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে কৃষকদের কল্যাণে এক বড় পদক্ষেপ। প্রধানমন্ত্রী মোদি এদিন আরও কয়েকটি প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। এর মধ্যে রয়েছে ফ্রেঞ্চ ফ্রাইজ প্রসেসিং প্ল্যান্ট ও অটোমেটেড স্টোরেজ সিস্টেম।