পুজোর পাস জালিয়াতি কাণ্ডে কলকাতা পুলিশের হাতে গ্রেফতার ইন্দ্রনীল সেন
কলকাতা: দুর্গাপুজোর প্রিভিউ শো এবং পাস বিক্রিকে কেন্দ্র করে আর্থিক (Indranil Sen)অনিয়মের অভিযোগে গ্রেফতার হলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, সল্টলেকের…
কলকাতা: দুর্গাপুজোর প্রিভিউ শো এবং পাস বিক্রিকে কেন্দ্র করে আর্থিক (Indranil Sen)অনিয়মের অভিযোগে গ্রেফতার হলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) দফতরে হাজিরা দিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হন তিনি।
জিজ্ঞাসাবাদ শেষে দফতর থেকে বেরিয়ে আসতেই কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের আধিকারিকরা তাঁকে আটক করে নিজেদের গাড়িতে তোলেন। পরে তাঁকে গ্রেফতার করে লালবাজারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। দুর্গাপুজোর পাস-কাণ্ডে এই গ্রেফতারিকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
আরও দেখুনঃ দীপাবলির আগে মোদী সরকারের বড় উপহার! ফের বাড়ল ডিএ
ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, দুর্গাপুজোর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এবং ইউনেস্কোর নামকে কাজে লাগিয়ে ‘মাস আর্ট’ (massArt) নামের একটি সংস্থার মাধ্যমে কলকাতার একাধিক পুজোমণ্ডপে প্রিভিউ শো দেখার জন্য চড়া দামে পাস বিক্রি করা হয়েছিল।
অভিযোগকারীদের দাবি, এই পাসের মাধ্যমে সাধারণ দর্শনার্থীদের আগে নির্বাচিত মণ্ডপগুলি(Indranil Sen) ঘুরে দেখার সুযোগ দেওয়ার কথা বলে অর্থ সংগ্রহ করা হয়। অথচ ওই সংস্থার সঙ্গে ইউনেস্কোর আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক ছিল কি না, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। তদন্তকারীরা এই আর্থিক লেনদেনের প্রকৃতি, অর্থের উৎস এবং সংগৃহীত টাকার ব্যবহার খতিয়ে দেখছেন।
এই মামলার সূত্রপাত চলতি বছরের জুন মাসে। অভিযোগের ভিত্তিতে কলকাতার বৌবাজার থানায় এফআইআর দায়ের হয়। ইন্দ্রনীল সেনের পাশাপাশি তাঁর স্ত্রী মধুচ্ছন্দা সেন এবং ‘মাস আর্ট’-এর সঙ্গে যুক্ত কয়েকজনের নামও অভিযোগে উঠে আসে।
অভিযোগকারীদের বক্তব্য, ২০২২ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত নির্বাচিত দুর্গাপুজোর মণ্ডপে প্রিভিউ শো দেখার জন্য বিভিন্ন ধরনের পাস বিক্রি করা হয়েছিল। পাস বিক্রির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহের অভিযোগ সামনে আসার পর তদন্ত শুরু করে কলকাতা পুলিশ। পরে একই ঘটনার আর্থিক দিক খতিয়ে দেখতে তদন্তে নামে ইডিও।
তদন্তের অংশ হিসেবে সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ইডি ইন্দ্রনীল সেনের বাড়ি-সহ কলকাতা ও হুগলির একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালায়। এরপর তাঁকে সিজিও কমপ্লেক্সে হাজির হওয়ার জন্য তলব করা হয়। তদন্তকারী সূত্রের দাবি, পাস বিক্রির হিসাব, ইউনেস্কোর নাম ব্যবহারের বিষয় এবং অর্থের লেনদেন নিয়ে তাঁকে একাধিক প্রশ্ন করা হয়েছে।
সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, তদন্তকারীরা কয়েক কোটি টাকার সম্ভাব্য আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও খতিয়ে দেখছেন। তবে অভিযোগে উল্লিখিত অর্থের পরিমাণ বা আর্থিক অনিয়মের প্রকৃত চিত্র তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
এই মামলায় ইন্দ্রনীল সেনের আইনি লড়াইও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। (Indranil Sen )গ্রেফতারির আশঙ্কায় তিনি আগাম জামিনের আবেদন করেছিলেন। ১৫ অক্টোবর কলকাতা হাইকোর্ট তাঁর আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দেয়। পরে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার বিষয়টিও সংবাদমাধ্যমে উঠে আসে। ফলে তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে জল্পনা বাড়ছিল। বুধবার ইডির দফতরে হাজিরার পর কলকাতা পুলিশের পদক্ষেপ সেই পরিস্থিতিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।