Supreme Court on : দলবদল করে ইস্তফা,তারপর জনগণের টাকায় কেন হবে উপনির্বাচন? মামলা উঠতেই নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রের জবাব চাইল সুপ্রিম কোর্ট | Supreme court mla defection resignation bypoll public money
সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর মামলা Image Credit: TV9 Bangla
নয়া দিল্লি: দলবদল নতুন কোনও বিষয় নয়। এক দল থেকে জিতে পরে অন্য দলে যোগদান করার প্রবণতা বরাবরই রয়েছে এই দেশে। এবার কেন্দ্রের জবাব চাইল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme court)। সোমবার এই মামলা ওঠে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চে। এই সংক্রান্ত বিষয়ে নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রকে নোটিস পাঠিয়েছে কোর্ট।
মামলার ব্যাকগ্রাউন্ড
আইনজীবী কে সুধান এই মামলা করেছেন। মাদ্রাজ হাইকোর্টের ২৪ সেপ্টেম্বরের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানিয়েছেন তিনি। আদালতে তাঁর হলে সওয়াল করছেন আইনজীবী মার্লিন র্যাচেল জে।
দল কোন কোন বিধায়ক বদল করেছেন?
এস জয়কুমার, মরগথম কুমারভেল,পি সত্যভামা,ই সুব্বাইয়া, এমআর বিজয়ভাস্কর এবং সি বিজয়ভাস্কর।
আবেদনকারীর দাবি,২০২৬ সালের মে মাসে তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশিত হয়। এরপর আস্থা ভোটে দলের নির্দেশ অমান্য করে ভোট দিয়েছিলেন এআইএডিএমকে-র কয়েক জন বিধায়ক। তাঁদের বিরুদ্ধে দলত্যাগবিরোধী আইনে বিধায়ক পদ খারিজের আবেদন জমা পড়ে স্পিকারের কাছে। সেই আবেদনের নিষ্পত্তি হওয়ার আগেই সংশ্লিষ্ট বিধায়করা পদত্যাগ করেন। একই দিনে তাঁদের ইস্তফা গ্রহণ করা হয়। পরে তাঁরা শাসকদলে যোগ দেন। এমনকি, ধরপুরম এবং মদুরান্তকম কেন্দ্র থেকে ইস্তফা দেওয়া বিধায়কদেরই ফের ওই শূন্য আসনগুলিতে শাসকদলের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
আবেদনকারীর বক্তব্য, দলত্যাগের অভিযোগে বিধায়ক পদ খারিজ হওয়ার আশঙ্কা থাকলে ইস্তফা দিয়ে দিলে সেই প্রক্রিয়া এড়িয়ে যাওয়া যায়। এরপর আবার নতুন দলের প্রার্থী হয়ে একই আসনে উপনির্বাচনে লড়াই করার সুযোগ তৈরি হয়। এ ভাবে দলত্যাগবিরোধী আইনের উদ্দেশ্য ব্যর্থ হচ্ছে বলে দাবি তাঁর।
মামলাকারীর প্রশ্ন, শুধুমাত্র রাজনৈতিক দলবদলের জেরে উপনির্বাচন হলে তার খরচ কেন সরকারি কোষাগার থেকে মেটানো হবে? এতে একই আসনের জন্য দু’বার ভোট দেওয়ার আর্থিক বোঝা চাপছে সাধারণ মানুষের উপর। বিধানসভার আসন কোনও বিধায়কের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। পাঁচ বছরের জন্য ভোট দিয়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করেন মানুষ। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই বিধায়ক পদ ছেড়ে দিলে সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের প্রতিনিধিত্বও ব্যাহত হয়।
কে সুধান আরও জানিয়েছেন, বিধায়কেরা ইস্তফা দেওয়ায় বাজেট অধিবেশন চলাকালীন ওই ছয়টি বিধানসভা কেন্দ্রের মানুষের কণ্ঠস্বর রুদ্ধ হয়ে গিয়েছিল। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কোনও দলই একক ভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১১৮টি আসন কোনও দলের হাতে না থাকায় জোটসঙ্গী ও অন্য দল থেকে আসা বিধায়কদের সমর্থনের উপরেই সরকার টিকে রয়েছে। আর তাই প্রতিটি ভোট মূল্যবান।
এরপর কেন্দ্র ও জাতীয় নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি তামিলনাড়ুর মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক, বিধানসভার সচিব এবং দলবদলকারী ছয় প্রাক্তন এআইএডিএমকে বিধায়ককে নোটিস পাঠিয়েছে শীর্ষ আদালত।