বাংলাদেশের পিরোজপুরে হিন্দু মন্দিরের জমি দখল করে ধান চাষ জামাত নেতা শফিকুলের - 24 Ghanta Bangla News
Home

বাংলাদেশের পিরোজপুরে হিন্দু মন্দিরের জমি দখল করে ধান চাষ জামাত নেতা শফিকুলের

Spread the love

ঢাকা: পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় একটি পুরনো হিন্দু মন্দিরের (Hindu temple)জমি দখল করে ধান চাষের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় জামায়াতে ইসলামী নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ব্যক্তি সমুদয়কাঠী ইউনিয়নের…

ঢাকা: পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় একটি পুরনো হিন্দু মন্দিরের (Hindu temple)জমি দখল করে ধান চাষের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় জামায়াতে ইসলামী নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ব্যক্তি সমুদয়কাঠী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি শফিকুল ইসলাম হাওলাদার। স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বলছেন, প্রায় ৬০ বছরের পুরনো দক্ষিণপাড়া সর্বজনীন শীতলা মন্দিরের ৪২ শতক জমি তিনি দখল করে সেখানে ধান চাষ শুরু করেছেন।

মন্দিরটি স্থানীয়ভাবে সর্বজনীন শীতলা মন্দির নামে পরিচিত। (Hindu temple )কয়েক দশক ধরে এখানে শীতলা পূজাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়ে আসছিল। জমিটির দাগ নম্বর ৯৫২ এবং খতিয়ান নম্বর ১৩০। সর্বশেষ বিএস রেকর্ডেও জমিটি আটজন শরিকের নামে রেকর্ডভুক্ত রয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।

আরও দেখুনঃ চলতি বছরেই সৌদি থেকে বাংলাদেশে ফিরল গর্ভবতী ৯৭৯ যৌ*নদাসী

তাঁদের অভিযোগ, আট শরিকের একজন সমীর রঞ্জন আইচের অংশ নিয়ে করা একটি অনিবন্ধিত বায়নাচুক্তির ভিত্তিতে শফিকুল ইসলাম হাওলাদার জমিটির দাবি তুলেছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগে তিনি জমিটি দখলে নেন এবং চাষাবাদ শুরু করেন।

মন্দির সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকা অবস্থাতেই এই দখল কার্যক্রম চলছে। সমীর রঞ্জন আইচ বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। (Hindu temple )অন্য শরিকদের একজন ননী লাল বিশ্বাসের ছেলে মনোজ বিশ্বাস জানিয়েছেন, জমিটি আটজনের নামে রেকর্ড করা। একজনের সঙ্গে বায়না হয়েছে বলে দাবি করে পুরো জমি দখল করে ধান চাষ করা হচ্ছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, মন্দিরের জমি দখল করে চাষাবাদ ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানছে।

এই ঘটনা স্থানীয়ভাবে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপাসনালয়ের জমি রক্ষায় প্রশাসনের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। মন্দির কমিটির সদস্যরা দাবি করেছেন, তাঁরা প্রশাসনের কাছে বিষয়টি জানিয়েছেন। তবে এখনও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাঁদের। শফিকুল ইসলাম হাওলাদারের পক্ষ থেকে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। স্থানীয় জামায়াত নেতারাও বিষয়টি নিয়ে খোলাখুলি কথা বলতে রাজি হননি।

পিরোজপুরের এই ঘটনা দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও সংখ্যালঘু সম্পত্তি দখলের অভিযোগের সঙ্গে মিলে যায় বলে অনেকে মনে করছেন। (Hindu temple )বিশেষ করে ২০২৪ সালের আগস্টের পর বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের অভিযোগ বেড়েছে বলে মানবাধিকার সংগঠনগুলো দাবি করে আসছে। তবে প্রশাসন বলছে, প্রতিটি অভিযোগ তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। নেছারাবাদ উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মন্দিরের জমি দখলের এই অভিযোগ শুধু একটি স্থানীয় ঘটনা নয়, বরং সামাজিক সম্প্রীতির প্রশ্নও তুলে ধরছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বলছেন, তাঁদের পূজার স্থান এখন ধানখেতে পরিণত হয়েছে। কয়েক প্রজন্ম ধরে যে জমিতে ধর্মীয় আচার পালিত হতো, সেখানে এখন ফসল ফলানো হচ্ছে। এতে তাঁদের মনে ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় প্রবীণরা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন, একসময় এলাকায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় ছিল। এখন সেই পরিবেশ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন তাঁরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *