নতুন Hyundai Bayon কেনার আগে জানুন ৫টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় - 24 Ghanta Bangla News
Home

নতুন Hyundai Bayon কেনার আগে জানুন ৫টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

Spread the love

গুরুগাঁও: ভারতের SUV বাজারে নতুন কমপ্যাক্ট SUV নিয়ে হাজির হয়েছে Hyundai। ২০২৬ Hyundai Bayon-কে সংস্থার SUV লাইনআপে Venue ও Creta-র মাঝামাঝি অবস্থানে রাখা হয়েছে। ১০ লক্ষ টাকা থেকে শুরু হওয়া এই গাড়িতে রয়েছে আধুনিক ডিজাইন, বড় ডিজিটাল ডিসপ্লে, একাধিক প্রিমিয়াম ফিচার এবং Level-2 Plus ADAS-এর মতো উন্নত চালক-সহায়ক প্রযুক্তি। পাশাপাশি রয়েছে পেট্রল ইঞ্জিনের বিকল্প এবং ভবিষ্যতে CNG সংস্করণ আনার পরিকল্পনা। নতুন Bayon কেনার কথা ভাবলে আগে জেনে নিন গাড়িটির পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।

১. পেশিবহুল ডিজাইন ও একাধিক রঙের বিকল্প

Hyundai Bayon-এর সামনের অংশে রয়েছে মিনিমালিস্ট ডিজাইন। গ্রিলের বড় অংশ বন্ধ রাখা হয়েছে এবং উল্টো ‘L’ আকৃতির LED DRL-কে একটি সরু কালো স্ট্রিপের মাধ্যমে যুক্ত করা হয়েছে। এর নীচে বসানো হয়েছে LED প্রজেক্টর হেডল্যাম্প। সামনের বাম্পারে মোটা কালো ক্ল্যাডিং এবং সিলভার স্কিড প্লেট SUV-টিকে আরও শক্তপোক্ত চেহারা দিয়েছে।

গাড়ির পাশের অংশে রয়েছে একাধিক কাট ও ক্রিজ, মোটা বডি ক্ল্যাডিং এবং বড় হুইল আর্চ। ১৭ ইঞ্চির ডুয়াল-টোন অ্যালয় হুইল এর স্পোর্টি চেহারা আরও বাড়িয়েছে। কালো রঙের পিলার গাড়ির ছাদকে ভাসমান ডিজাইনের মতো দেখায়।

পিছনে রয়েছে সরু উল্টো ‘L’ আকৃতির টেলল্যাম্প, বড় অক্ষরে BAYON ব্যাজিং এবং সিলভার স্কিড প্লেট-সহ পেশিবহুল বাম্পার।

Bayon-এর দৈর্ঘ্য ৪,২৪৫ মিমি, প্রস্থ ১,৮১০ মিমি, উচ্চতা ১,৬০৫ মিমি এবং হুইলবেস ২,৬০০ মিমি। উচ্চতার পরিমাপে রুফ রেল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

hyundai-bayon-buying-guide-five-key-things-to-know-2026

রঙের বিকল্পের মধ্যে রয়েছে আটটি মনোটোন শেড: Fiery Red, Atlas White, Ecotronic Grey, Golden Bronze, Titanium Black, Classy Blue, Titanium Black Matte এবং Classy Blue Matte। ডুয়াল-টোন রঙ চাইলে Fiery Red অথবা Atlas White-এর সঙ্গে Titanium Black ছাদ বেছে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

২. অভিনব কেবিন ও আধুনিক ড্যাশবোর্ড

Hyundai Bayon-এর কেবিনে রয়েছে মিনিমালিস্ট ড্যাশবোর্ড এবং কিছু স্বতন্ত্র ডিজাইন উপাদান। সরবরাহ করা তথ্য অনুযায়ী, এর ড্যাশবোর্ডের নকশা বিদেশের বাজারে বিক্রি হওয়া চতুর্থ প্রজন্মের Hyundai i20 থেকে নেওয়া হয়েছে।

কেবিনে উল্লম্বভাবে সাজানো AC ভেন্ট এবং মাঝখানে ক্লাইমেট কন্ট্রোলের বোতাম রয়েছে। দরজার হ্যান্ডল ও স্পিকার গ্রিলের মতো অংশে গোলাকার নকশার ব্যবহার কেবিনে কিছুটা রেট্রো চেহারা এনেছে। স্টিয়ারিং হুইলে রয়েছে ড্রাইভ মোড পরিবর্তনের বোতাম।

ইন্টেরিয়রের জন্য দুটি রঙের সমন্বয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। একটি কালো ও অলিভ গ্রে, অন্যটি কালো রঙের সঙ্গে লাল হাইলাইট। ফলে ক্রেতারা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী কেবিনের চেহারা বেছে নিতে পারবেন।

hyundai-bayon-buying-guide-five-key-things-to-know-2026

৩. বড় ডিসপ্লে, প্রিমিয়াম ফিচার ও ADAS

Hyundai Bayon-এর অন্যতম আকর্ষণ এর প্রযুক্তিনির্ভর কেবিন। গাড়িতে রয়েছে ১২.৩ ইঞ্চির ডিজিটাল ড্রাইভার ডিসপ্লে এবং ১২.৩ ইঞ্চির টাচস্ক্রিন ইনফোটেনমেন্ট সিস্টেম। এর সঙ্গে রয়েছে ওয়্যারলেস Android Auto ও Apple CarPlay, সাবউফার-সহ ৭-স্পিকার BOSE সাউন্ড সিস্টেম, ওয়্যারলেস ফোন চার্জার এবং অটোমেটিক ক্লাইমেট কন্ট্রোল।

অন্যান্য ফিচারের মধ্যে রয়েছে অ্যাম্বিয়েন্ট লাইটিং, সামনের ভেন্টিলেটেড আসন, প্যানোরামিক সানরুফ এবং পাওয়ারড ড্রাইভার সিট।

নিরাপত্তার জন্য ছয়টি এয়ারব্যাগ স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া রয়েছে ISOFIX চাইল্ড-সিট মাউন্ট, ABS ও EBD, TPMS, অটো হোল্ড-সহ ইলেকট্রনিক পার্কিং ব্রেক, ৩৬০ ডিগ্রি ক্যামেরা, ব্লাইন্ড-স্পট ভিউ মনিটর, হিল-স্টার্ট অ্যাসিস্ট এবং ইলেকট্রনিক স্ট্যাবিলিটি কন্ট্রোল।

Bayon-এ Level-2 Plus ADAS-ও রয়েছে। এর মধ্যে অ্যাডাপ্টিভ ক্রুজ কন্ট্রোল, ফরোয়ার্ড কলিশন অ্যাভয়ডেন্স এবং লেন-কিপিং অ্যাসিস্টের মতো ফিচার রয়েছে। তবে চালক-সহায়ক প্রযুক্তি থাকলেও নিরাপদে গাড়ি চালানোর দায়িত্ব চালকেরই।

৪. ১.৫ লিটার পেট্রল ইঞ্জিন, ভবিষ্যতে CNG-র সম্ভাবনা

বর্তমানে Hyundai Bayon-এ একটি ১.৫ লিটারের চার-সিলিন্ডার ন্যাচারালি অ্যাসপিরেটেড পেট্রল ইঞ্জিনের বিকল্প রয়েছে। ইঞ্জিনটির ক্ষমতা ও গিয়ারবক্সের বিবরণ নিচে দেওয়া হল।

বৈশিষ্ট্য বিবরণ
ইঞ্জিন ১.৫ লিটার ন্যাচারালি অ্যাসপিরেটেড পেট্রল
সর্বোচ্চ শক্তি ১১৫ PS
সর্বোচ্চ টর্ক ১৪৪ Nm
ম্যানুয়াল গিয়ারবক্স ৬-স্পিড MT
অটোমেটিক গিয়ারবক্স CVT

ম্যানুয়াল ও CVT অটোমেটিক, দুই ধরনের গিয়ারবক্সের বিকল্প থাকায় ক্রেতারা নিজেদের চালানোর অভ্যাস অনুযায়ী গাড়ি বেছে নিতে পারবেন।

যাঁরা জ্বালানির খরচ কমানোর কথা ভাবছেন, তাঁদের জন্য আরও একটি সম্ভাবনার কথা রয়েছে। সরবরাহ করা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, Hyundai ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে Bayon-এর CNG সংস্করণও আনতে পারে। তবে এই সময়সূচি ও সংস্করণ সম্পর্কে সংস্থার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা যাচাই করা প্রয়োজন।

৫. দাম ১০ লক্ষ থেকে ১৮ লক্ষ টাকা, প্রতিদ্বন্দ্বী একাধিক SUV

Hyundai Bayon-এর এক্স-শোরুম দাম ১০ লক্ষ টাকা থেকে শুরু হয়ে ১৮ লক্ষ টাকা পর্যন্ত। এই দামের পরিসরে গাড়িটির সঙ্গে একাধিক কমপ্যাক্ট SUV-র প্রতিযোগিতা হবে।

প্রতিদ্বন্দ্বীদের তালিকায় রয়েছে Hyundai Creta, Kia Seltos, Maruti Suzuki Grand Vitara, Renault Duster, Honda Elevate, Tata Sierra, Skoda Kushaq, Volkswagen Taigun, Maruti Suzuki Victoris এবং Toyota Urban Cruiser Hyryder।

Bayon-এর বড় ডিজিটাল ডিসপ্লে, আধুনিক কেবিন, ADAS এবং একাধিক আরামদায়ক ফিচার ক্রেতাদের আকর্ষণ করতে পারে। তবে গাড়ি কেনার আগে পছন্দের ভ্যারিয়েন্টে কোন ফিচারগুলি রয়েছে, অন-রোড দাম কত এবং টেস্ট ড্রাইভে গাড়ির চালানোর অভিজ্ঞতা কেমন, তা যাচাই করা উচিত।

নতুন Hyundai Bayon এমন ক্রেতাদের জন্য বিবেচনাযোগ্য, যাঁরা ১০ থেকে ২০ লক্ষ টাকার বাজেটে প্রযুক্তিনির্ভর ও স্বতন্ত্র ডিজাইনের কমপ্যাক্ট SUV খুঁজছেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে একই দামের প্রতিদ্বন্দ্বী মডেলগুলির ফিচার, ইঞ্জিন, রক্ষণাবেক্ষণের খরচ ও বিক্রয়োত্তর পরিষেবা তুলনা করে নেওয়াই ভালো।

Essential Business Intelligence, Sharp Market Insights, Practical Personal Finance Advice, Daily Fuel, Gold and Silver Prices and Latest Stories – On Kolkata24x7 Business

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *