চতুর্থবার ব্রাজ়িলের প্রেসিডেন্ট লুলা দ্য সিলভা, মোকাবিলা করতে হবে এই ৫ অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের
চতুর্থবারের জন্য ব্রাজ়িলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন লুইজ় ইনাসিও লুলা দ্য সিলভা। ২৫ অক্টোবরের নির্বাচনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ফ্লাভিও বলসোনারোকে হারিয়েছেন তিনি। গত কয়েক বছরে ব্রাজ়িলের অর্থনীতি প্রত্যাশার তুলনায় ভাল করলেও, নতুন মেয়াদে লুলার সামনে রয়েছে বেশ কিছু কঠিন অর্থনৈতিক সমস্যা। সরকারি ঋণ থেকে মূল্যবৃদ্ধি— কোন পাঁচটি চ্যালেঞ্জ সামলাতে হবে তাঁকে?
১. বাড়ছে সরকারি ঋণ
ব্রাজ়িলের সরকারি ঋণ দেশের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বা GDP-র ৮২ শতাংশ ছাড়িয়েছে। সরকারি খরচের বড় অংশ পেনশন ও বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পে ব্যয় হয়। ফলে বাজেটের অন্য খাতে খরচ কমানো কঠিন। সামাজিক প্রকল্প চালিয়ে ঋণের বোঝা সামলানোই বড় চ্যালেঞ্জ।
২. মূল্যবৃদ্ধি ও চড়া সুদের হার
দেশে বার্ষিক মূল্যবৃদ্ধির হার ৪.৬ শতাংশ। অন্য দিকে, সুদের হার ১৩.৭৫ শতাংশ। এতে ঋণ নেওয়ার খরচ বেশি হচ্ছে। তাই মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে রেখে সুদের হার কমানোর পথ খুঁজতে হবে ব্রাজ়িলের নতুন সরকারকে।
৩. ঋণের চাপে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসা
ক্রেডিট ব্যুরো Serasa-র তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৮ কোটি ৪০ লক্ষ মানুষ এবং ৯৩ লক্ষ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে সমস্যায় রয়েছে। ঋণের বোঝা কমাতে নতুন ছাড়ের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে সাময়িক স্বস্তি মিললেও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নাও হতে পারে।
৪. সংস্কারে রাজনৈতিক বাধা
কংগ্রেসের দুই কক্ষেই রক্ষণশীল দলগুলির প্রভাব বেশি। ফলে করনীতি-সহ অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রস্তাব পাশ করানো লুলার পক্ষে কঠিন হতে পারে।
৫. কর সংস্কার নিয়ে অনিশ্চয়তা
জানুয়ারি থেকে নতুন ভ্যালু অ্যাডেড ট্যাক্স বা VAT চালু হওয়ার কথা। কিন্তু করের কার্যকর হার এখনও স্পষ্ট নয়। পাশাপাশি পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর পণ্যের উপর নতুন কর চালুর কাজও পিছিয়ে রয়েছে। ফলে রাজস্ব আদায় নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।