Serbia Election Results: প্রেসিডেন্টের গদি উল্টে দিল ছাত্ররা! আরও এক দেশে বিরাট পালাবদল | Serbia Election Results: Serbia’s Student List Wins Election Against President
সার্বিয়ায় নির্বাচন জয়ের পর উচ্ছ্বাস।Image Credit: PTI
সার্বিয়া: সার্বিয়ার রাজনীতিতে বিরাট পরিবর্তন। ছাত্রদের কাছে হেরে গেলেন প্রেসিডেন্ট! প্রায় এক দশক ধরে দেশের রাজনীতিতে আধিপত্য বজায় রাখা প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভুসিচ নির্বাচনে পরাজয় স্বীকার করলেন। প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী, সংসদীয় নির্বাচনে জয় পেয়েছে ছাত্র আন্দোলনের সমর্থনে গড়ে ওঠা ‘স্টুডেন্ট লিস্ট’। এই ফলাফল সার্বিয়ার রাজনীতিতে ঐতিহাসিক ঘটনা।
রবিবার টেলিভিশনে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ভুসিচ বলেন, “এটা স্পষ্ট যে আমরা এই নির্বাচনে হেরে গিয়েছি। স্টুডেন্ট লিস্ট জিতেছে।”
জানা গিয়েছে, ২৫০ আসনের সংসদে স্টুডেন্ট লিস্ট ১৩৫ থেকে ১৪০টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে, ভুসিচের দল সার্বিয়ান প্রোগ্রেসিভ পার্টি পেতে পারে ১০৫টি আসন।
এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই রাজধানী বেলগ্রেডের রাস্তায় উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে হাজার হাজার মানুষ। ২০১৪ সাল থেকে প্রধানমন্ত্রী কিংবা প্রেসিডেন্ট হিসেবে সার্বিয়ার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন ভুসিচ। ফলে এই ফলাফল তাঁর রাজনৈতিক আধিপত্যে বড় ধাক্কা বলে মনে করা হচ্ছে।
কীভাবে তৈরি হল ছাত্র আন্দোলন?
২০২৪ সালে সার্বিয়ার নোভি সাদ শহরের একটি রেলস্টেশনের ছাউনি ভেঙে ১৬ জনের মৃত্যু হয়। এই ঘটনার পর থেকেই প্রায় দু’বছর ধরে বিক্ষোভ চলে। দুর্ঘটনার দায়, প্রশাসনিক জবাবদিহি এবং দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে ছাত্রছাত্রীদের আন্দোলন ক্রমশ বড় আকার নেয়। সেই আন্দোলনের সূত্র ধরেই তৈরি হয় স্টুডেন্ট লিস্ট।
তবে এই দলের প্রার্থীরা সরাসরি ছাত্রছাত্রী নন। ছাত্র সংগঠনগুলির সমর্থনে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের মানুষ এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ৫৬ বছর বয়সী হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইলিয়া স্রদানোভিচ।
ইউরোপ জুড়েও বাড়ছে ছাত্র বিক্ষোভ
সার্বিয়ার এই নির্বাচনের ফলাফল এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন ইউরোপের একাধিক দেশে ছাত্র আন্দোলন রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। শিক্ষা ব্যবস্থা, জীবনযাত্রার খরচ, সরকারি ব্যয় এবং সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ হচ্ছে।
ফ্রান্সেও সম্প্রতি ছাত্র বিক্ষোভ বড় আকার নিয়েছে। পড়ুয়ারা শিক্ষকের অভাব, অতিরিক্ত ভিড় এবং স্কুলের পরিকাঠামোর খারাপ অবস্থা নিয়ে প্রতিবাদ শুরু করে। পরে সেই আন্দোলনে শ্রমিক সংগঠন এবং মূল্যবৃদ্ধিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষেরাও যোগ দেন। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ১৭ অক্টোবর থেকে পরের সপ্তাহে দেশজুড়ে ১১০টি বিক্ষোভে প্রায় ৫ লক্ষ ৫০ হাজার মানুষ অংশ নেন। তবে আন্দোলনকারীদের দাবি, বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৮ লক্ষ।