Scindia Family's Contribution to Daly College: ডেলি কলেজের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা সিন্ধিয়া পরিবারের, সামনে এল যে যে তথ্য | Scindia Family's Historic Contribution to Daly College in Indore - 24 Ghanta Bangla News
Home

Scindia Family’s Contribution to Daly College: ডেলি কলেজের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা সিন্ধিয়া পরিবারের, সামনে এল যে যে তথ্য | Scindia Family’s Historic Contribution to Daly College in Indore

Spread the love

ডেলি কলেজের ইতিহাস ও নির্মাণে সিন্ধিয়া পরিবারের অবদান নিয়ে বাড়ছে চর্চাImage Credit: TV9 Bangla

ইন্দোর: মধ্য প্রদেশের রাজনীতিতে গত সপ্তাহে ইন্দোরের ডেলি কলেজকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। কংগ্রেস নেতা তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী দিগ্বিজয় সিং ডেলি কলেজে একটি সংগঠনের কর্মসূচি এবং কলেজের ইতিহাস ও নির্মাণসংক্রান্ত তথ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলার পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া কড়া ভাষায় পাল্টা জবাব দেন। জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া বলেন, “দিগ্বিজয় সিং যেন ভুলে না যান, ডেলি কলেজও সিন্ধিয়া পরিবারের প্রতিষ্ঠান। সিন্ধিয়া পরিবারই এটি প্রতিষ্ঠা করেছে। দিগ্বিজয় সিং মাঝেমধ্যেই অনেক কিছু ভুলে যান। তাঁকে সময়ে সময়ে মনে করিয়ে দেওয়াই আমার কাজ।” সিন্ধিয়ার এই মন্তব্যের পর ডেলি কলেজের প্রতিষ্ঠা, নির্মাণ এবং তাতে বিভিন্ন রাজপরিবারের অবদান নিয়ে ইতিহাস ফের আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। ঐতিহাসিক নথি ও প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত বিভিন্ন বিবরণে ডেলি কলেজ নির্মাণে সিন্ধিয়া পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার উল্লেখ রয়েছে।

ডেলি কলেজ নির্মাণের কাহিনি: ১১৮ একরের ক্যাম্পাসের ঐতিহাসিক যাত্রা-

ডেলি কলেজের বর্তমান ক্যাম্পাস নির্মাণের কাজ এগিয়ে যায় বিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে। প্রায় ১১৮ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত এই ক্যাম্পাসের নির্মাণে দেড় দশকেরও বেশি সময় লাগে। ১৯১৬ সালে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন ভবনের উদ্বোধন হয়। মধ্য ভারতে শিক্ষার প্রসার এবং তৎকালীন রাজপরিবারগুলির শিক্ষাক্ষেত্রে অবদানের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয় এই প্রতিষ্ঠান।

নির্মাণে সবচেয়ে বেশি আর্থিক অনুদান সিন্ধিয়া পরিবারের-

ডেলি কলেজ নির্মাণে বিভিন্ন দেশীয় রাজ্য ও রাজপরিবার আর্থিক সহায়তা দিয়েছিল। ১৯০৬ সালে লন্ডনে প্রকাশিত ‘সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং রিপোর্ট অব বিল্ডিং’-র উল্লেখ করে পাওয়া বিবরণ অনুযায়ী, নির্মাণের জন্য সিন্ধিয়া পরিবার সর্বাধিক পাঁচ লক্ষ টাকা অনুদান দিয়েছিল।

অন্যদিকে, ইন্দোরের হোলকর পরিবার দিয়েছিল দু’লক্ষ টাকা এবং রেওয়ার রাজপরিবার দিয়েছিল দেড় লক্ষ টাকা। ওই বিবরণে আরও দাবি করা হয়েছে, এই দুই রাজপরিবারকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণে অনুদান দেওয়ার জন্য সঙ্গে এনেছিল সিন্ধিয়া পরিবার। এই পরিসংখ্যান ডেলি কলেজ নির্মাণে সিন্ধিয়া পরিবারের আর্থিক ভূমিকার বিষয়টি তুলে ধরে। মহারাজা শ্রীমন্ত মাধবরাও সিন্ধিয়া এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম প্রধান দাতা ও প্রতিষ্ঠাতা-অভিভাবকদের মধ্যে ছিলেন।

সিন্ধিয়া পরিবারের অবদান শুধু আর্থিক সহায়তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। প্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসে থাকা গ্বালিয়র হাউস এবং সিন্ধিয়া প্যাভিলিয়নের মতো স্থাপত্যও এই ঐতিহাসিক সম্পর্কের পরিচয় বহন করে। বিখ্যাত চিত্রশিল্পী হার্বার্ট আর্নল্ড অলিভিয়ের আঁকা মহারাজা সিন্ধিয়ার একটি প্রতিকৃতি আজও ডেলি কলেজের হলে বিশিষ্ট স্থানে প্রদর্শিত রয়েছে।

কীভাবে শুরু হয়েছিল ডেলি কলেজের পরিকল্পনা?

ডেলি কলেজ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার সূত্রপাত প্রায় ১৮৭০ সালের একটি ঐতিহাসিক আলোচনার সঙ্গে যুক্ত বলে মনে করা হয়। সেই সময় স্যার হেনরি ডেলি এবং গ্বালিয়রের মহারাজা জয়াজিরাও সিন্ধিয়ার মধ্যে মধ্যভারতে শিক্ষার প্রসার নিয়ে আলোচনা হয়েছিল।

সেই আলোচনায় অঞ্চলের শিক্ষাগত উন্নয়নের জন্য একটি মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে মতবিনিময় হয়। উপলব্ধ ঐতিহাসিক বিবরণ অনুযায়ী, জয়াজিরাও সিন্ধিয়া এই উদ্যোগে অগ্রণী ভূমিকা নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। স্যার হেনরি ডেলি দীর্ঘদিন গ্বালিয়রে কর্মরত ছিলেন। তাঁর নামেই প্রতিষ্ঠিত এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরবর্তী সময়ে মধ্যভারতে আধুনিক শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ স্থান অর্জন করে।

এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের ভিত্তিতে ডেলি কলেজ নির্মাণে সিন্ধিয়া পরিবারের ভূমিকা কেবল একজন দাতার পরিবারের ভূমিকা ছিল না, বরং প্রতিষ্ঠানের পরিকল্পনা ও বিকাশের সঙ্গে যুক্ত অন্যতম প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবেও তাদের উল্লেখ পাওয়া যায়।

ডেলি কলেজের বাইরেও শিক্ষাক্ষেত্রে সিন্ধিয়া পরিবারের অবদান-

ভারতে শিক্ষার প্রসারে সিন্ধিয়া পরিবারের অবদান শুধু ডেলি কলেজেই সীমাবদ্ধ ছিল না। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের বিকাশেও এই পরিবারের ভূমিকার উল্লেখ রয়েছে।

বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় (বিএইচইউ) নির্মাণের জন্য সিন্ধিয়া পরিবার পাঁচ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা অনুদান দিয়েছিল। উপলব্ধ বিবরণ অনুযায়ী, বেনারসের রাজপরিবারের পর এটি ছিল অন্যতম বড় অনুদান। মহারাজা মাধবরাও সিন্ধিয়াকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবেও নিযুক্ত করা হয়েছিল।

একইভাবে উজ্জয়িনীর বিক্রম বিশ্ববিদ্যালয়, গ্বালিয়রের জীবাজি বিশ্ববিদ্যালয়, গজরারাজা মেডিক্যাল কলেজ, মাধব ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, সিন্ধিয়া পাবলিক স্কুল এবং সিন্ধিয়া কন্যা বিদ্যালয়ের বিকাশেও সিন্ধিয়া পরিবারের অবদানের কথা উল্লেখ করা হয়।

জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানে গ্বালিয়র রাজপরিবারের অবদানের ঐতিহাসিক উল্লেখ-

গ্বালিয়র রাজপরিবারের শিক্ষাগত, সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক অবদান বর্ণনা করতে গিয়ে একটি ইংরেজি বিবরণে বলা হয়েছে: “গ্বালিয়র রাজপরিবার অর্থাৎ সিন্ধিয়া পরিবারের উদারতা একাধিক জনসাধারণের প্রতিষ্ঠানের স্থাপন ও পরিচালনায় সহায়ক হয়েছে। পরিবারের বিখ্যাত গঙ্গাজলি তহবিল, যার মোট অর্থের পরিমাণ ছিল ২৫ কোটি টাকা, থেকে গ্বালিয়রের জীবাজি বিশ্ববিদ্যালয়, উজ্জয়িনীর বিক্রম বিশ্ববিদ্যালয়, গজরারাজা মেডিক্যাল কলেজ, মাধব ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, সিন্ধিয়া পাবলিক স্কুল ও সিন্ধিয়া কন্যা বিদ্যালয় এবং বিদিশার সম্রাট অশোক ইনস্টিটিউটকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও, পরিবারের প্রতিষ্ঠিত ৩০টিরও বেশি ট্রাস্ট ধর্মীয় কাজ, সামাজিক কল্যাণ এবং বিভিন্ন জনহিতকর কর্মকাণ্ডে অবদান রাখে।” এই বিবরণে শিক্ষা, সামাজিক কল্যাণ এবং জনসাধারণের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিকাশে সিন্ধিয়া পরিবারের ঐতিহাসিক অবদানের কথা তুলে ধরা হয়েছে।

ইতিহাসের তথ্যের ভিত্তিতেই হওয়া উচিত আলোচনা-

ডেলি কলেজ নির্মাণে বিভিন্ন রাজপরিবারের ভূমিকা ছিল। তবে উপলব্ধ ঐতিহাসিক বিবরণে সিন্ধিয়া পরিবারের পাঁচ লক্ষ টাকার অনুদান এবং প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পরিকল্পনার সঙ্গে তাদের যুক্ত থাকার বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই ডেলি কলেজের ইতিহাস নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ককে শুধু অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে ঐতিহাসিক নথি, আর্থিক অনুদান এবং প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত তথ্যের ভিত্তিতে বিচার করা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্ট মহলের বক্তব্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *