ড্রাইভিং লাইসেন্সে নতুন নিয়মের খসড়া! ৬০ থেকে পাস মার্ক ৭৫%
নয়াদিল্লি: ভারতের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রক ড্রাইভিং লাইসেন্স (Driving Licence)সংক্রান্ত নিয়মে বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে। কেন্দ্রীয় মোটর যান বিধিমালায় সংশোধনী এনে নতুন খসড়া প্রকাশ…
নয়াদিল্লি: ভারতের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রক ড্রাইভিং লাইসেন্স (Driving Licence)সংক্রান্ত নিয়মে বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে। কেন্দ্রীয় মোটর যান বিধিমালায় সংশোধনী এনে নতুন খসড়া প্রকাশ করা হয়েছে, যা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। এই প্রস্তাবে সাধারণ মানুষের মতামত চাওয়া হয়েছে এবং ৩০ দিনের মধ্যে মতামত জানাতে বলা হয়েছে।
প্রস্তাবিত পরিবর্তনের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সেফ-ড্রাইভিং টিউটোরিয়ালের পাস মার্ক বাড়ানো। এতদিন ৬০ শতাংশ নম্বর পেলেই পাস করা যেত। (Driving Licence)এখন সেই নম্বর বাড়িয়ে ৭৫ শতাংশ করা হচ্ছে। টিউটোরিয়াল কমপক্ষে ৩০ মিনিট চলবে এবং আবেদনকারীদের ১৫ দিনের মধ্যে এটি সম্পন্ন করতে হবে। সড়ক নিরাপত্তা ও ট্রাফিক নিয়ম সম্পর্কে আরও ভালো ধারণা তৈরির জন্য এই কঠোরতা আনা হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
আরও দেখুনঃ লাভ জিহাদের অভিযোগ! আমির খানকে প্রাণ নাশের হুমকি বিশ্নোই গ্যাংয়ের
আরেকটি বড় পরিবর্তন হলো ভারতীয় ও বিদেশি নাগরিকদের জন্য আলাদা ধরনের লাইসেন্স। নতুন লাইসেন্স ল্যামিনেটেড বা পিভিসি কার্ড আকারে ইস্যু করা হবে। ভারতীয় ও বিদেশিদের জন্য আলাদা ফরম্যাট ও রঙের স্কিম রাখা হচ্ছে, যাতে সহজেই পার্থক্য করা যায়। (Driving Licence)কার্ডে রক্তের গ্রুপ, মোবাইল নম্বর, জরুরি যোগাযোগের নম্বর এবং অঙ্গদানের ইচ্ছা থাকবে। পিছনের দিকে কিউআর কোড থাকবে, যেখানে চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য, অ্যালার্জি বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিবরণ সংরক্ষিত থাকবে।
নাম বা ঠিকানা পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও স্বস্তি আসছে। আধার প্রমাণীকরণের মাধ্যমে অনলাইনে এই পরিষেবা নিলে কোনো ফি লাগবে না। আগে নাম বা ঠিকানা বদলাতে ২০০ টাকা দিতে হতো। এখন সেই ফি তুলে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। লাইসেন্সিং অথরিটিকে ১৫ দিনের মধ্যে আবেদন মঞ্জুর বা নাকচ করতে হবে। ঠিকানা পরিবর্তনের আবেদন ৩০ দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত না হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মঞ্জুর হয়ে যাবে।
নতুন নিয়মে পরিচয়, বয়স ও ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে কী কী কাগজপত্র গ্রহণযোগ্য হবে, তাও স্পষ্ট করা হয়েছে। আধার, পাসপোর্ট, ভোটার আইডি, জন্ম সনদসহ কয়েকটি নির্দিষ্ট নথি গ্রহণযোগ্য হবে। আগে অ্যাফিডেভিট বা কিছু বীমা পলিসি গ্রহণ করা হতো, সেগুলো এখন সীমিত বা বাদ দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে যাতে জাল নথির ব্যবহার কমে।
মন্ত্রক জানিয়েছে, এই পরিবর্তনের উদ্দেশ্য হল সড়ক নিরাপত্তা বাড়ানো, জাল কাগজপত্র রোধ করা এবং অনলাইন পরিষেবাকে আরও সহজ ও স্বচ্ছ করা। সাধারণ মানুষ যাতে সহজেই মতামত দিতে পারেন, তার জন্য মন্ত্রকের ইমেইলে মতামত পাঠানোর সুযোগ রাখা হয়েছে। খসড়াটি গেজেটে প্রকাশিত হয়েছে এবং চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি হলেই নতুন নিয়ম কার্যকর হবে।