বিধানসভায় পেশ ওবিসি সংক্রান্ত জোড়া বিল, অধিবেশনে জোর চর্চা
কলকাতা: রাজ্যের অনগ্রসর শ্রেণির মানুষের অধিকার সুনিশ্চিত করতে এবং অতীত সরকারের ভুল ত্রুটি শুধরে নিতে এবার বিধানসভায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিল পেশ করল সরকার। বিধানসভায়…
কলকাতা: রাজ্যের অনগ্রসর শ্রেণির মানুষের অধিকার সুনিশ্চিত করতে এবং অতীত সরকারের ভুল ত্রুটি শুধরে নিতে এবার বিধানসভায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিল পেশ করল সরকার। বিধানসভায় ওবিসি (OBC) বা অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি আইন সংশোধনে এবং এর ক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই নতুন বিলটি পেশ করেছেন রাজ্যের বর্তমান অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণমন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ। বিলটি পেশ হওয়ার পর থেকেই বিধানসভায় এই নিয়ে শাসক ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে জোরদার আলোচনা ও বিতর্ক শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই বিল পাশ হলে রাজ্যের সংরক্ষণ ব্যবস্থায় একটি বড়সড় রদবদল আসতে চলেছে। (West Bengal OBC Amendment Bill 2026)
এই নতুন বিল পেশ করার মূল কারণ হিসেবে পূর্বতন সরকারের বিরুদ্ধে অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ এনেছে বর্তমান সরকার। অভিযোগ, বিগত সরকার ২০১২ সালে যখন অনগ্রসর শ্রেণি সংক্রান্ত বিলটি বিধানসভায় পাশ করিয়েছিল, তখন তা সম্পূর্ণ একতরফাভাবে করা হয়েছিল। শাসকদলের দাবি, সেই পুরনো আইনে রাজ্যের হিন্দু সম্প্রদায়কে সংরক্ষণের অধিকার থেকে ব্যাপকভাবে বঞ্চিত করা হয়েছিল এবং একটি বিশেষ সম্প্রদায়কে তোষণ করার লক্ষ্যেই সেই আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল। সেই বৈষম্য দূর করতেই ২০১২ সালের ওই ত্রুটিপূর্ণ আইন সংশোধন করার লক্ষ্য নিয়েছে বর্তমান সরকার।
মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষের বক্তব্য
বিধানসভায় বিলটি পেশ করে অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণমন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, বিগত সরকারের আমলে ওবিসি তালিকাভুক্ত করার ক্ষেত্রে চরম স্বজনপোষণ এবং বঞ্চনার ঘটনা ঘটেছে। প্রকৃত অনগ্রসর শ্রেণির মানুষ, বিশেষ করে হিন্দু সমাজের পিছিয়ে পড়া অংশকে তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছিল। নতুন এই সংশোধনী বিলের মাধ্যমে সেই বঞ্চনার অবসান ঘটানো হবে। পাশাপাশি, এই বিল পাশ হলে অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দপ্তরের ক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে, যার ফলে স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রকৃত প্রাপকদের চিহ্নিত করা অনেক বেশি সহজ হবে।
বিধানসভায় জোরদার বিতর্ক ও আলোচনা
সোমবার বিধানসভায় এই বিলটি পেশ হওয়ার পর থেকেই তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। পূর্বতন সরকারের আনা ২০১২ সালের আইন নিয়ে বর্তমান সরকারের এই কড়া সমালোচনায় স্বাভাবিকভাবেই সরগরম হয়ে উঠেছে রাজ্য রাজনীতির অন্দরমহল। বর্তমান সরকারের দাবি, তারা ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’ নীতিতে বিশ্বাসী, তাই ধর্মের ভিত্তিতে নয়, বরং প্রকৃত সামাজিক ও শিক্ষাগত অনগ্রসরতার ভিত্তিতেই ওবিসি শংসাপত্র প্রদান করা উচিত।
সামাজিক ন্যায়বিচারের পথে নতুন পদক্ষেপ
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজ্যে ওবিসি সংরক্ষণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা মহলে অসন্তোষ এবং আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছিল। অনেকেই অভিযোগ করেছিলেন যে, ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির কারণেই ওবিসি তালিকায় অস্বচ্ছতা আনা হয়েছিল। এবার সেই বিতর্কিত আইন সংশোধন করে প্রকৃত সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথে হাঁটতে চাইছে সরকার। বিধানসভায় এই বিলের ওপর আলোচনা শেষে এটি আইনে পরিণত হলে রাজ্যের অসংখ্য বঞ্চিত মানুষ নতুন করে আশার আলো দেখতে পাবেন বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।