মাদকের আঁতুরঘর উত্তরপূর্বে অপারেশন ট্রাইডেন্ট চালিয়ে বাজেয়াপ্ত ১০০ কোটির হাওয়ালা
নয়াদিল্লি: উত্তর-পূর্বাঞ্চলে মাদক পাচারের বিরুদ্ধে এক বড় ধরনের অভিযান চালানো হয়েছে(Operation Trident)। অপারেশন ট্রাইডেন্ট নামে পরিচিত এই অভিযানে আন্তর্জাতিক মাদক চক্রের ওপর কঠোর আঘাত হানা…
নয়াদিল্লি: উত্তর-পূর্বাঞ্চলে মাদক পাচারের বিরুদ্ধে এক বড় ধরনের অভিযান চালানো হয়েছে(Operation Trident)। অপারেশন ট্রাইডেন্ট নামে পরিচিত এই অভিযানে আন্তর্জাতিক মাদক চক্রের ওপর কঠোর আঘাত হানা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সংস্থা ও রাজ্য পুলিশের যৌথ উদ্যোগে অসম, মিজোরাম ও মণিপুরের ৩৮টি স্থানে একযোগে তল্লাশি চালানো হয়।
২৩ অক্টোবর পরিচালিত এই অভিযানে ১৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একশো কোটি টাকার হাওয়ালা লেনদেনের সূত্র পাওয়া গিয়েছে। এক হাজার চারশো চব্বিশটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এবং সতেরো কোটি বায়ান্ন লাখ টাকার সম্পত্তি ক্রোক করা হয়েছে। এছাড়া পাঁচশো ডেটোনেটর ও বারো লাখ টাকা নগদ উদ্ধার হয়েছে।
আরও দেখুনঃ নিরস্ত্র করতে হবে মণিপুর! মোদী সরকার শুরু করল ‘অপারেশন মণিপুর’
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এই অভিযানের সাফল্য ঘোষণা করেছেন। (Operation Trident)তিনি বলেছেন, মোদী সরকার মাদকের বিরুদ্ধে আরও এক মারাত্মক আঘাত হেনেছে। অপারেশন ট্রাইডেন্টের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক নারকো-কার্টেলকে ধ্বংস করা হয়েছে। এই চক্র ভারত, মিয়ানমার ও বাংলাদেশের সীমান্ত দিয়ে মাদক পাচার করত। তারা ‘ডেথ ট্রায়াঙ্গেল করিডর’ নামে পরিচিত পথ ব্যবহার করত।
এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি-র নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়। মিজোরামের আইজল, চামফাই, লংতলাই এবং মণিপুরের চুরাচাঁদপুরসহ বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালানো হয়। তদন্তে দেখা গেছে, হেরোইন, ব্রাউন সুগার ও মেথামফেটামিন ট্যাবলেট মিয়ানমার থেকে এনে পাচার করা হচ্ছিল। মাদকের টাকা হাওয়ালা পদ্ধতিতে পাঠানো হতো।
উত্তর-পূর্বাঞ্চল মায়ানমারের সঙ্গে প্রায় ১৬৪৩ কিলোমিটার সীমান্ত ভাগ করে। এই অঞ্চল গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেল থেকে আসা মাদকের প্রধান স্থলপথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। মাদক স্থানীয়ভাবে বিক্রি হয় এবং অসম হয়ে দেশের অন্যান্য অংশে ও বাংলাদেশে পাঠানো হয়। টাকা আবার সীমান্তবর্তী শহরগুলোতে ফিরে আসে যোগানদারদের কাছে।
অমিত শাহ জানিয়েছেন, এই অভিযান ২০২৯ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সব মাদক নেটওয়ার্ক নির্মূল করার লক্ষ্যের অংশ। তিনি কেন্দ্রীয় সংস্থা ও তিন রাজ্যের পুলিশ বাহিনীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। মাদক চক্রের বিরুদ্ধে ভারতের দৃঢ় অবস্থানের কথাও তিনি তুলে ধরেছেন।
এই অভিযান শুধু মাদক পাচার নয়, এর আর্থিক নেটওয়ার্ককেও লক্ষ্য করেছে। (Operation Trident)ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ ও সম্পত্তি ক্রোকের মাধ্যমে চক্রের অর্থনৈতিক ভিত্তি দুর্বল করা হয়েছে। ইডি তিনটি মানি লন্ডারিং মামলার সূত্র ধরে তদন্ত চালাচ্ছিল।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলে মাদক সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগের কারণ। তরুণ প্রজন্মের ওপর এর প্রভাব ভয়াবহ। সীমান্তের খোলামেলা চরিত্র ও আন্তর্জাতিক সংযোগ এই সমস্যাকে জটিল করে তোলে। অপারেশন ট্রাইডেন্টের মতো সমন্বিত অভিযান এই চক্র ভাঙতে সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।