ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর প্রভাব, মঙ্গলবার থেকে বৃষ্টি বাড়বে দক্ষিণবঙ্গে
কলকাতা: বঙ্গোপসাগরে শক্তি বাড়াচ্ছে নিম্নচাপ। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, পূর্ব-মধ্য ও সংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরের উপর তৈরি হওয়া নিম্নচাপটি (Cyclone Arnab) শনিবার সকালে সুস্পষ্ট নিম্নচাপে পরিণত…
কলকাতা: বঙ্গোপসাগরে শক্তি বাড়াচ্ছে নিম্নচাপ। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, পূর্ব-মধ্য ও সংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরের উপর তৈরি হওয়া নিম্নচাপটি (Cyclone Arnab) শনিবার সকালে সুস্পষ্ট নিম্নচাপে পরিণত হয়। পরে তা গভীরতর হয়ে নিম্নচাপের পরবর্তী পর্যায়, অর্থাৎ ডিপ্রেশনে পরিণত হয়েছে। অনুকূল পরিস্থিতি থাকলে সোমবার, ২৬ অক্টোবর সকালে সেটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। ঘূর্ণিঝড় তৈরি হলে তার নাম হবে ‘অর্ণব’। এই আবহাওয়া ব্যবস্থার প্রভাবে মঙ্গলবার থেকে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বুধবার ও বৃহস্পতিবার বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে পারে। কয়েকটি জেলায় ভারী বৃষ্টির সতর্কতাও জারি করা হয়েছে।
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টি ২৮ অক্টোবরের মধ্যে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে। তার প্রভাবে মঙ্গলবার থেকে বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গের উপকূলবর্তী এলাকায় দমকা হাওয়া বইতে পারে। দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জেলায় ২৮ থেকে ৩০ অক্টোবরের মধ্যে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কলকাতায় বৃষ্টি শুরু হতে পারে মঙ্গলবার থেকেই। শহরে একটানা ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা আপাতত কম হলেও ২৮ ও ২৯ অক্টোবর মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
মঙ্গলবার থেকেই মেঘলা আকাশ, বাড়বে বৃষ্টির দাপট
আঞ্চলিক আবহাওয়া কেন্দ্রের আবহাওয়াবিদ সৌরিশ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, মঙ্গলবার থেকে কলকাতার আকাশ মেঘলা থাকতে পারে। ঘূর্ণিঝড়ের বাইরের মেঘের বলয় মঙ্গলবার সকাল থেকেই দক্ষিণবঙ্গের দিকে এগিয়ে আসতে পারে। তার প্রভাবে কলকাতা ও আশপাশের জেলাগুলিতে বৃষ্টি শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তাঁর পূর্বাভাস অনুযায়ী, বুধবার ও বৃহস্পতিবার কলকাতায় বৃষ্টির ঘনত্ব এবং তীব্রতা বাড়তে পারে। শুক্রবারও বৃষ্টি চলতে পারে, তবে ঘূর্ণিঝড় উপকূলে আছড়ে পড়ে স্থলভাগের দিকে এগিয়ে গেলে বৃষ্টির তীব্রতা কমার সম্ভাবনা রয়েছে। ঘূর্ণিঝড়টি অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে ২৮ অক্টোবর সন্ধ্যার মধ্যে, এমনকী তার আগেও পৌঁছতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
উপকূলবর্তী এলাকায় ঘণ্টায় ৩০-৪০ কিলোমিটার বেগে হাওয়ার আশঙ্কা
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দক্ষিণবঙ্গের উপকূলবর্তী এলাকায় দমকা হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি হতে পারে। বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। ফলে উপকূলবর্তী এলাকায় সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
শনিবার আঞ্চলিক আবহাওয়া কেন্দ্রের বিশেষ বুলেটিনে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, কলকাতা, হাওড়া এবং হুগলির এক বা দুই জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি ও বজ্রবিদ্যুতের সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামের কিছু এলাকায় বজ্রপাত, বিদ্যুৎ-সহ ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
বুধবার ভারী বৃষ্টির সতর্কতা, তালিকায় একাধিক জেলা
২৮ অক্টোবর, বুধবারও দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টি ও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামের কয়েকটি জায়গায় ভারী বৃষ্টি হতে পারে। বৃষ্টির পরিমাণ ৭০ থেকে ১১০ মিলিমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের অন্যান্য এলাকাতেও বজ্রপাত ও দমকা হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
২৯ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি চলতে পারে। অন্যদিকে, মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম এবং পুরুলিয়ার কয়েকটি জায়গায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরে বজ্রপাত ও দমকা হাওয়া বইতে পারে।
জল জমা ও ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা
আবহাওয়া দফতরের বিশেষ বুলেটিনে ২৮ ও ২৯ অক্টোবর খোলা মাঠে বজ্রপাতের আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ভারী বৃষ্টির জেরে নিচু এলাকায় জল জমে যাওয়া এবং জমিতে দাঁড়িয়ে থাকা ফসলের কিছু ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
তাই কৃষকদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও আবহাওয়ার সতর্কবার্তার দিকে নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বজ্রপাতের আশঙ্কা থাকলে খোলা মাঠে থাকা এড়ানো এবং দমকা হাওয়ার সময় সতর্ক থাকা জরুরি।
আপাতত গরম ও শুষ্ক আবহাওয়া
শনিবার কলকাতায় আবহাওয়া ছিল শুষ্ক ও উষ্ণ। শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রবিবারও শুষ্ক আবহাওয়া বজায় থাকতে পারে এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বেড়ে ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছতে পারে বলে পূর্বাভাস।
তবে সপ্তাহের শুরু থেকেই আবহাওয়ার পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ তৈরি হলে তার গতিপথ ও শক্তির উপর নির্ভর করবে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির প্রকৃত পরিমাণ। তাই ২৮ থেকে ৩০ অক্টোবরের মধ্যে যাঁদের উপকূলবর্তী এলাকা বা দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে যাতায়াতের পরিকল্পনা রয়েছে, তাঁদের নিয়মিত আবহাওয়ার আপডেট দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।