নতুন Lexus NX ফেসলিফটে কমল বোতাম, ইলেকট্রিক রেঞ্জ পেরোল ১০০ কিমি
কলকাতা: লেক্সাস তাদের দ্বিতীয় প্রজন্মের এনএক্স এসইউভিতে মাঝামাঝি সময়ে বড়সড় আপডেট এনেছে। নতুন ২০২৬ লেক্সাস এনএক্স (Lexus NX) ফেসলিফটে ডিজাইন, ইন্টেরিয়র, ফিচার এবং পাওয়ারট্রেনে বেশ…
কলকাতা: লেক্সাস তাদের দ্বিতীয় প্রজন্মের এনএক্স এসইউভিতে মাঝামাঝি সময়ে বড়সড় আপডেট এনেছে। নতুন ২০২৬ লেক্সাস এনএক্স (Lexus NX) ফেসলিফটে ডিজাইন, ইন্টেরিয়র, ফিচার এবং পাওয়ারট্রেনে বেশ কিছু পরিবর্তন করা হয়েছে। বিশেষ করে প্লাগ-ইন হাইব্রিড মডেল এনএক্স ৪৫০এইচ+ এবার আগের তুলনায় বেশি শক্তিশালী ব্যাটারি পেয়েছে এবং এর ইলেকট্রিক-অনলি রেঞ্জও বেড়ে ১০০ কিলোমিটারের বেশি হয়েছে। তবে ভারতে নতুন মডেলটি কবে লঞ্চ হবে, সে বিষয়ে এখনও কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করেনি জাপানি গাড়ি নির্মাতা লেক্সাস।
নতুন এনএক্সের সামগ্রিক বডি ডিজাইন আগের মডেলের মতোই রাখা হয়েছে। তবে সামনের অংশে বেশ কিছু পরিবর্তন এসেছে। নতুন মডেলে ফ্রেমলেস স্পিন্ডল-আকৃতির গ্রিল দেওয়া হয়েছে। নতুন এলইডি হেডল্যাম্পের ডিজাইনও বদলেছে এবং এগুলি এমন একটি হাউজিংয়ের মধ্যে রয়েছে, যা নিচের দিকে বাম্পার পর্যন্ত নেমে এসেছে। প্রতিটি হেডল্যাম্পে এবার দুটি করে ডিআরএল স্ট্রিপ রয়েছে, যেখানে আগের মডেলে একটি করে ডিআরএল স্ট্রিপ ছিল।
পিছনের অংশেও পরিবর্তন চোখে পড়বে। এখানে আলোকিত ‘লেক্সাস’ লেখা এবং নতুন ডিজাইনের এলইডি টেল-ল্যাম্প দেওয়া হয়েছে। দুটি টেল-ল্যাম্পকে একটি লাইট বার সংযুক্ত করেছে। বাজার ও ভ্যারিয়েন্ট অনুযায়ী নতুন এনএক্সে ১৮ থেকে ২০ ইঞ্চি পর্যন্ত মাল্টি-স্পোক অ্যালয় হুইল পাওয়া যাবে। পাশাপাশি সনিক প্ল্যাটিনাম এবং সনিক টেলাসের মতো নতুন পেইন্ট অপশনও যুক্ত করেছে লেক্সাস।

ইন্টেরিয়রের ক্ষেত্রে নতুন এনএক্সে অনেক বেশি পরিষ্কার এবং মিনিমাল ডিজাইনের দিকে এগিয়েছে লেক্সাস। নতুন ইএস সেডান এবং টিজেড এসইউভি থেকে ডিজাইনের অনুপ্রেরণা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থা। আগের মডেলের তুলনায় কেবিনে বেশ কিছু ফিজিক্যাল বোতাম সরিয়ে টাচ-সেনসিটিভ কন্ট্রোল ব্যবহার করা হয়েছে। কিছু ফাংশন এখন সরাসরি টাচস্ক্রিনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। টাচ-সেনসিটিভ সুইচগুলিতে আলো জ্বলে এবং স্পর্শ করলে ফিডব্যাকও পাওয়া যায়। ড্রাইভ মোড সিলেক্টরেও পরিবর্তন এসেছে। আগের গিয়ার লিভারের মতো ডিজাইনের বদলে এবার টগল সুইচ ব্যবহার করা হয়েছে। নতুন স্টিয়ারিং হুইলে লেক্সাসের প্রচলিত লোগোর বদলে ‘লেক্সাস’ লেখা রয়েছে।
২০২৬ লেক্সাস এনএক্স মোট চারটি ট্রিমে পাওয়া যাবে—বিজনেস, এক্সিকিউটিভ, লাক্সারি এবং এফ স্পোর্ট। অবশ্য কোন বাজারে কোন ট্রিম পাওয়া যাবে, তা অঞ্চলভেদে আলাদা হবে। সব ট্রিমেই পাওয়ারড এবং হিটেড ফ্রন্ট সিট, ১২.৩ ইঞ্চির ডিজিটাল ড্রাইভার ডিসপ্লে এবং ১৪ ইঞ্চির বড় টাচস্ক্রিন রয়েছে। টাচস্ক্রিনের আকার আগের মতোই থাকলেও এবার এতে লেক্সাসকানেক্ট মাল্টিমিডিয়া সিস্টেম ব্যবহার করা হয়েছে। নতুন সিস্টেমে আগের তুলনায় চার গুণ দ্রুত প্রসেসিং এবং ২৫৬ জিবি মেমোরি রয়েছে।
এক্সিকিউটিভ ট্রিমে ফ্রন্ট সিট মেমোরি ফাংশন, ইলেকট্রিক লাম্বার অ্যাডজাস্টমেন্ট, ভেন্টিলেটেড ফ্রন্ট সিট, জেসচার-কন্ট্রোলড টেলগেট, ৩৬০ ডিগ্রি ক্যামেরা, ওয়্যারলেস ফোন চার্জার এবং মাল্টিকালার অ্যাম্বিয়েন্ট লাইটিং পাওয়া যায়। লাক্সারি ট্রিমে রয়েছে ২০ ইঞ্চির অ্যালয় হুইল, লেদার আপহোলস্ট্রি, হিটেড রিয়ার সিট এবং হেড-আপ ডিসপ্লে। অন্যদিকে এফ স্পোর্ট ট্রিমে স্পোর্টিয়ার এক্সটেরিয়র ও ইন্টেরিয়র ডিজাইন, পিয়ানো-ব্ল্যাক এক্সটেরিয়র ডিটেলিং, ২০ ইঞ্চির টুইন-স্পোক অ্যালয় হুইল এবং আলাদা এক্সটেরিয়র ও ইন্টেরিয়র রঙের বিকল্প রয়েছে।
এক্সিকিউটিভ ট্রিমেও আলাদাভাবে ২০ ইঞ্চির হুইল বেছে নেওয়া যাবে। লাক্সারি এবং এফ স্পোর্ট ট্রিমে অপশনাল প্যাকেজের মাধ্যমে ১৭-স্পিকার মার্ক লেভিনসন সাউন্ড সিস্টেম এবং ডিজিটাল রিয়ারভিউ মিরর যোগ করা যায়। নিরাপত্তার দিক থেকেও সব এনএক্স মডেলে অ্যাডভান্সড ড্রাইভার অ্যাসিস্ট্যান্স সিস্টেম বা এডিএএস রয়েছে।
পাওয়ারট্রেনের ক্ষেত্রে নতুন এনএক্স ৪৫০এইচ+ প্লাগ-ইন হাইব্রিড এবং এনএক্স ৩৫০এইচ স্ট্রং হাইব্রিড—এই দুটি সংস্করণে পাওয়া যাবে। এনএক্স ৪৫০এইচ+ মডেলে ২.৫ লিটারের পেট্রল-প্লাগ-ইন হাইব্রিড সেটআপ ব্যবহার করা হয়েছে। এর সম্মিলিত পাওয়ার এখন ৩০৭ এইচপি, যা আগের মডেলের ২৯২ এইচপির তুলনায় ১৫ এইচপি বেশি। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে ব্যাটারিতে। নতুন লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির ক্ষমতা ১৮ কিলোওয়াট-আওয়ার থেকে বেড়ে ২৩ কিলোওয়াট-আওয়ার হয়েছে।
এনএক্স ৪৫০এইচ+ শুধুমাত্র অল-হুইল-ড্রাইভ সংস্করণে পাওয়া যাবে। সংস্থার দাবি অনুযায়ী, এই মডেল স্থির অবস্থা থেকে ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার গতিতে পৌঁছতে মাত্র ৬.১ সেকেন্ড সময় নেয়। নতুন আপডেটের সঙ্গে এতে ডিসি ফাস্ট-চার্জিংয়ের সুবিধাও যোগ হয়েছে। লেক্সাসের দাবি, ১০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ করতে প্রায় ৩০ মিনিট সময় লাগবে। এছাড়া নতুন ১,৫০০ ওয়াটের এসি আউটলেট দেওয়া হয়েছে, যার ফলে প্রয়োজন হলে এনএক্স ৪৫০এইচ+কে মোবাইল পাওয়ার সোর্স হিসেবেও ব্যবহার করা যাবে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এর ইলেকট্রিক-অনলি রেঞ্জ আগের ৭২ কিলোমিটার থেকে বেড়ে ১০০ কিলোমিটারের বেশি হয়েছে।
এনএক্স ৩৫০এইচ মডেলে রয়েছে ২.৫ লিটারের পেট্রল-স্ট্রং হাইব্রিড সেটআপ, যা সম্মিলিতভাবে ১৯৯ এইচপি পাওয়ার উৎপন্ন করে। এই মডেলেও ব্যাটারিতে পরিবর্তন করা হয়েছে। হাইব্রিড ব্যাটারির ওজন ৩২.৭ কেজি থেকে কমিয়ে ২৩.৫ কেজি করা হয়েছে। লেক্সাসের দাবি অনুযায়ী, এনএক্স ৩৫০এইচ-এর ফ্রন্ট-হুইল-ড্রাইভ সংস্করণ স্থির অবস্থা থেকে ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার গতিতে পৌঁছতে ৭.৭ সেকেন্ড নেয়। অল-হুইল-ড্রাইভ সংস্করণে এই সময় আরও কম, ৭.৩ সেকেন্ড।
ভারতে বর্তমানে লেক্সাস এনএক্স ৩৫০এইচ-এর প্রি-ফেসলিফট সংস্করণ বিক্রি করে। এর এক্স-শোরুম দাম ৬৭.৫৯ লাখ টাকা থেকে ৭৪.৫০ লাখ টাকার মধ্যে। নতুন ফেসলিফটেড এনএক্স ভারতে আনা হলে আপডেটেড ডিজাইন, অতিরিক্ত ফিচার এবং পরিবর্তিত পাওয়ারট্রেনের কারণে এর দাম বাড়তে পারে। বাজারে এটি আগের মতোই মার্সিডিজ-বেঞ্জ জিএলসি, বিএমডব্লিউ এক্স৩, অডি কিউ৫ এবং ভলভো এক্সসি৬০-এর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।