Hyundai Bayon লঞ্চের আগে ফাঁস ৭ ভ্যারিয়েন্টের ফিচার ও দাম
গুরুগাঁও: ২৬ অক্টোবর লঞ্চের আগে Hyundai Bayon-এর ভ্যারিয়েন্টভিত্তিক ফিচার ও গাড়ির মাপসংক্রান্ত একাধিক তথ্য সামনে এল। একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, নতুন Bayon মোট সাতটি ট্রিমে বাজারে আসতে পারে। বেস ভ্যারিয়েন্ট থেকে শুরু করে টপ-স্পেক HX10 পর্যন্ত থাকছে বিভিন্ন স্তরের প্রযুক্তি ও আরামদায়ক ফিচার। তবে এই তথ্য এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত নয়। গাড়ি সংক্রান্ত সংবাদমাধ্যম Car Duniya-র প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতেই সামনে এসেছে সম্ভাব্য ফিচারের তালিকা।
Hyundai-র এই গাড়িটি Venue ও Creta-র মাঝামাঝি অবস্থানে রাখা হতে পারে। রিপোর্ট অনুযায়ী, এতে থাকছে ১.৫ লিটারের চার সিলিন্ডার MPI পেট্রল ইঞ্জিন, যা সর্বোচ্চ ১১৫ PS শক্তি এবং ১৪৩.৮ Nm টর্ক উৎপন্ন করবে। ট্রান্সমিশন হিসেবে ছয়-গতির ম্যানুয়াল এবং iVT অটোমেটিকের বিকল্প থাকতে পারে।
Hyundai Bayon: ইঞ্জিন, মাপ ও অন্যান্য তথ্য
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, Hyundai Bayon-এর দৈর্ঘ্য ৪,২৪৫ মিমি, প্রস্থ ১,৮১০ মিমি এবং ছাদের রেল-সহ উচ্চতা ১,৬০৫ মিমি। গাড়িটির হুইলবেস ২,৬০০ মিমি। টার্নিং রেডিয়াস ৫.১৬ মিটার এবং গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স ২০৫ মিমি বলে দাবি করা হয়েছে।
গাড়িতে ৪৩ লিটারের জ্বালানি ট্যাঙ্ক এবং ৫০৫ লিটারের বুট স্পেস থাকতে পারে। তবে এই মাপ ও স্পেসিফিকেশনগুলি চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করতে Hyundai-র আনুষ্ঠানিক তথ্যের অপেক্ষা করতে হবে।
সম্ভাব্য সাতটি ভ্যারিয়েন্ট হল HX2, HX3, HX3+, HX5, HX6, HX8 এবং HX10। HX2, HX3 ও HX3+ শুধুমাত্র ম্যানুয়াল গিয়ারবক্সে আসতে পারে। অন্যদিকে HX5, HX6, HX8 এবং HX10-এ ম্যানুয়াল ও iVT অটোমেটিক, দুই ধরনের বিকল্প থাকার কথা জানানো হয়েছে।
HX2: বেস ভ্যারিয়েন্টেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ফিচার
Bayon-এর সম্ভাব্য বেস ভ্যারিয়েন্ট HX2-তে থাকতে পারে R16 স্টিলের চাকা এবং ফুল হুইল কভার। বাইরে থাকছে LED প্রজেক্টর হেডল্যাম্প, H-স্টাইল LED DRL, LED টেলল্যাম্প এবং শার্ক-ফিন অ্যান্টেনা।
কেবিনে ইনফোটেনমেন্ট সিস্টেম না থাকলেও ৪.২ ইঞ্চির TFT ইন্সট্রুমেন্ট ক্লাস্টার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সঙ্গে থাকছে ম্যানুয়াল এয়ার কন্ডিশনিং, পিছনের যাত্রীদের জন্য AC ভেন্ট, বৈদ্যুতিকভাবে নিয়ন্ত্রণযোগ্য ORVM এবং টিল্ট ও টেলিস্কোপিক অ্যাডজাস্টমেন্ট-সহ D-কাট স্টিয়ারিং হুইল।
এ ছাড়া চালকের আসনের উচ্চতা নিয়ন্ত্রণ, সামনে ও পিছনে Type-C চার্জিং পোর্ট এবং চারটি দরজাতেই পাওয়ার উইন্ডো থাকতে পারে।
নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও বেস ভ্যারিয়েন্টকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি। সব ভ্যারিয়েন্টে ৩৫টি নিরাপত্তা ফিচার স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে দেওয়া হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে ছয়টি এয়ারব্যাগ, হিল স্টার্ট অ্যাসিস্ট, ইলেকট্রনিক স্টেবিলিটি কন্ট্রোল, ভেহিকল স্টেবিলিটি ম্যানেজমেন্ট, টায়ার প্রেসার মনিটরিং সিস্টেম, রোলওভার সেন্সর, হেডল্যাম্প এসকর্ট ফাংশন এবং বার্গলার অ্যালার্ম।
HX3 ও HX3+: টাচস্ক্রিন থেকে ইলেকট্রিক সানরুফ
HX3 ভ্যারিয়েন্টে বড় আপগ্রেড হিসেবে থাকতে পারে ১০.২৫ ইঞ্চির টাচস্ক্রিন ইনফোটেনমেন্ট সিস্টেম। এর সঙ্গে চারটি স্পিকার ও দুটি টুইটার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। আরও থাকতে পারে রিয়ার ক্যামেরা, ড্রাইভার রিয়ার ভিউ মনিটর, স্মার্ট কি এবং পুশ-বাটন স্টার্ট।
এর পরের স্তর HX3+ ভ্যারিয়েন্টে যুক্ত হতে পারে ইলেকট্রিক সানরুফ, ব্রিজ-টাইপ রুফ রেল এবং ১৭ ইঞ্চির স্টাইলড হুইল। রিপোর্ট অনুযায়ী, HX3 ও HX3+ উভয়ই ছয়-গতির ম্যানুয়াল ট্রান্সমিশনের সঙ্গে পাওয়া যাবে।
HX5: iVT অটোমেটিকের এন্ট্রি ভ্যারিয়েন্ট
HX5-কে Bayon-এর iVT অটোমেটিক গিয়ারবক্স-সহ প্রাথমিক ভ্যারিয়েন্ট হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ট্রিমে OTA সফটওয়্যার আপডেট, ৭০টিরও বেশি ফিচার-সহ Bluelink কানেক্টিভিটি, ওয়্যারলেস চার্জার এবং ক্রুজ কন্ট্রোল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
এ ছাড়া অটো হেডল্যাম্প, রিয়ার ডিফগার, ফুল অটোমেটিক টেম্পারেচার কন্ট্রোল এবং বৈদ্যুতিকভাবে ভাঁজ করা যায় এমন ORVM দেওয়া হতে পারে। ডুয়াল-টোন এক্সটেরিয়র ও ইন্টেরিয়রের বিকল্পও থাকতে পারে।
HX5-এর iVT সংস্করণে বিশেষভাবে ড্যাশ বুস্ট মোড, প্যাডল শিফটার এবং Eco, Sport ও Normal ড্রাইভ মোড থাকার কথা বলা হয়েছে।
HX6: প্যানোরামিক সানরুফ ও প্রিমিয়াম কেবিন
HX6 ভ্যারিয়েন্টে আরও বেশি আরামদায়ক ও প্রিমিয়াম ফিচার যুক্ত হতে পারে। সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে প্যানোরামিক সানরুফ, স্লাইডিং ফ্রন্ট আর্মরেস্ট, রিয়ার ওয়াইপার ও ওয়াশার এবং লাগেজ ল্যাম্প।
বাইরের দিকে ডুয়াল LED প্রজেক্টর হেডল্যাম্প, পাডল ল্যাম্প এবং R17 ডায়মন্ড-কাট অ্যালয় হুইল থাকতে পারে। কেবিনে অ্যাম্বিয়েন্ট লাইটিং, লেদারেট স্টিয়ারিং হুইল ও গিয়ার নব দেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
এই ফিচার তালিকা অনুযায়ী, HX3+ থেকে HX6-এ আপগ্রেড করলে সানরুফের পাশাপাশি কেবিন ও আলোকসজ্জার ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সুবিধা পাওয়া যেতে পারে।
HX8: ভেন্টিলেটেড সিট ও ৮-ওয়ে পাওয়ার ড্রাইভার সিট
HX8 ভ্যারিয়েন্টে পার্কিং ও কেবিনের সুবিধার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। এতে সামনে ও পাশে পার্কিং সেন্সর, পিছনের ডিস্ক ব্রেক, ড্যাশক্যাম এবং আট-দিকে অ্যাডজাস্ট করা যায় এমন পাওয়ার ড্রাইভার সিট থাকতে পারে।
কেবিনে লেদারেট সিট, সামনের ভেন্টিলেটেড সিট, পিছনের উচ্চতা-নিয়ন্ত্রণযোগ্য হেডরেস্ট, রিয়ার আর্মরেস্ট এবং ৬০:৪০ অনুপাতে ভাগ করা যায় এমন পিছনের আসনের সম্ভাবনা রয়েছে। পিছনের আসনে দুই-ধাপের রিক্লাইন সুবিধাও দেওয়া হতে পারে।
HX8-এর iVT সংস্করণে ইলেকট্রনিক পার্কিং ব্রেক যুক্ত হওয়ার কথা জানানো হয়েছে। তবে এই ফিচারগুলির চূড়ান্ত প্রাপ্যতা বাজার ও ভ্যারিয়েন্ট অনুযায়ী বদলাতে পারে।
HX10: জেনারেটিভ AI, ডুয়াল ১২.৩ ইঞ্চি স্ক্রিন ও ADAS
Bayon-এর সম্ভাব্য টপ-স্পেক HX10 ভ্যারিয়েন্টে সবচেয়ে উন্নত প্রযুক্তি ও প্রিমিয়াম সরঞ্জাম দেওয়ার দাবি করা হয়েছে। এর অন্যতম আকর্ষণ জেনারেটিভ AI-ভিত্তিক সহায়ক ব্যবস্থা, যা Perplexity এবং SoundHound AI প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারে। এর সাহায্যে চালক স্বাভাবিক কথোপকথনের মতো প্রশ্ন করতে এবং বিভিন্ন তথ্য জানতে পারবেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
ড্যাশবোর্ডে থাকতে পারে দুটি বাঁকানো স্ক্রিন। একটি ১২.৩ ইঞ্চির ইনফোটেনমেন্ট ডিসপ্লে এবং অন্যটি ১২.৩ ইঞ্চির ইন্সট্রুমেন্ট ক্লাস্টার। অডিও ব্যবস্থায় আটটি স্পিকার-সহ Bose সাউন্ড সিস্টেম দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এ ছাড়া ৩৬০ ডিগ্রি ক্যামেরা, ব্লাইন্ড ভিউ মনিটর এবং ইলেকট্রোক্রোমিক রিয়ার-ভিউ মিররের মতো ফিচার থাকতে পারে। ম্যানুয়াল ও iVT, দুই সংস্করণেই ইলেকট্রনিক পার্কিং ব্রেক দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
নিরাপত্তার ক্ষেত্রে HX10-এ ২৩টি ফিচার-সহ Level 2 Pro ADAS থাকার দাবি করা হয়েছে। এই ব্যবস্থায় তিনটি রাডার ও ১২টি সেন্সর ব্যবহার করা হতে পারে। HX10-এর iVT সংস্করণে অতিরিক্তভাবে স্মার্ট ক্রুজ কন্ট্রোল এবং NVIDIA-চালিত Connected Car Navigation Cockpit বা ccNC থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
Hyundai Bayon-এর সম্ভাব্য দাম কত?
Hyundai এখনও Bayon-এর আনুষ্ঠানিক দাম ঘোষণা করেনি। গাড়িটি ২৬ অক্টোবর লঞ্চ হওয়ার কথা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী, বেস HX2 ভ্যারিয়েন্টের দাম প্রায় ৯.৫ লক্ষ টাকা থেকে শুরু হতে পারে। অন্যদিকে, সর্বোচ্চ ভ্যারিয়েন্ট HX10-এর দাম প্রায় ১৭ লক্ষ টাকা হতে পারে।
তবে এগুলি সম্ভাব্য দাম, নিশ্চিত মূল্য নয়। এগুলি এক্স-শোরুম দাম কি না, কোন ভ্যারিয়েন্টে কী কী ফিচার থাকবে এবং ম্যানুয়াল ও অটোমেটিক সংস্করণের মধ্যে দামের পার্থক্য কত হবে, তা Hyundai-র আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পরই স্পষ্ট হবে।
সাতটি ভ্যারিয়েন্ট, একাধিক ট্রান্সমিশন বিকল্প এবং টপ-স্পেক মডেলে উন্নত কানেক্টিভিটি ও ADAS দেওয়ার দাবি সত্যি হলে Hyundai Bayon-এর প্রধান আকর্ষণ হবে বিভিন্ন বাজেট ও চাহিদা অনুযায়ী বিকল্প বেছে নেওয়ার সুযোগ। তবে লঞ্চের আগে ফাঁস হওয়া এই তথ্যকে চূড়ান্ত স্পেসিফিকেশন হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
Essential Business Intelligence, Sharp Market Insights, Practical Personal Finance Advice, Daily Fuel, Gold and Silver Prices and Latest Stories – On Kolkata24x7 Business