২০৩০ র মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ১০০ বিলিওনে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা পুতিন-মোদীর
নয়াদিল্লি: ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা (Trade target)আরও গভীর করার লক্ষ্যে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন নির্দেশ…
নয়াদিল্লি: ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা (Trade target)আরও গভীর করার লক্ষ্যে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন নির্দেশ দিয়েছেন যাতে ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ১০০ বিলিয়ন ডলারে বাড়িয়ে নিয়ে যাওয়া যায়। রাশিয়ায় ভারতের রাষ্ট্রদূত বিনয় কুমার পিটিআইকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
গত মাসে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনের সাইডলাইনে দুই নেতার মধ্যে আলোচনা হয়েছিল। সেখানে তাঁরা বাণিজ্য, বাণিজ্যিক সম্পর্ক ও শিল্প সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। রাষ্ট্রদূত কুমার জানিয়েছেন, দুই দেশ ২০৩০ সালের মধ্যে পারস্পরিক বিনিয়োগও ৫০ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যেতে চায়।
আরও দেখুনঃ বস্ত্র শিল্পে নয়া অধ্যায়! বারাণসীতে ১০০ কোটির নতুন ইউনিট অরবিন্দ মিলসের
ভারত ও রাশিয়ার সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। প্রতিরক্ষা, জ্বালানি ও প্রযুক্তি খাতে দুই দেশের সহযোগিতা সুপ্রতিষ্ঠিত। এখন অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত করার চেষ্টা চলছে। বর্তমানে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে রাশিয়া থেকে তেল ও সার আমদানির কারণে বাণিজ্যের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে ভারত চায় রফতানি বাড়াতে এবং বাণিজ্য ভারসাম্য উন্নত করতে।
রাষ্ট্রদূত কুমার বলেছেন, দুই নেতা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাকে নির্দেশ দিয়েছেন যাতে বাণিজ্য ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা আরও এগিয়ে নেওয়া যায়। (Trade target)ব্রিকস ব্যবসায়িক সম্মেলনে দুই নেতার অংশগ্রহণ এবং নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত প্রথম রুশ শিল্প প্রদর্শনী ইন্নোপ্রম-ইন্ডিয়া পরিদর্শনকে এই সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ ফল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
শ্রমিক সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। রাশিয়ায় দক্ষ কর্মীর চাহিদা রয়েছে। ভারত সেই চাহিদা মেটাতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রদূত। রুশ বিদেশি কর্মী কোটার প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশই ভারতীয় নাগরিক। ভারতের বিপুল জনসংখ্যা ও তরুণ কর্মশক্তিকে বিশ্বব্যাপী দক্ষ জনবলের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে বেশ কিছু ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পরিকাঠামো, জ্বালানি, প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা ও সংস্কৃতি। ভারতীয় পণ্যের জন্য রুশ বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়ানো এবং বাণিজ্য বাধা কমানোর চেষ্টা চলছে। ইউরেশিয়ান অর্থনৈতিক ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনাও এগিয়ে চলছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই লক্ষ্য অর্জন করতে হলে দুই দেশকে বাণিজ্যের পরিসর বাড়াতে হবে। শুধু জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা নয়, কৃষিপণ্য, ওষুধ, তথ্যপ্রযুক্তি ও অন্যান্য খাতেও সহযোগিতা বাড়াতে হবে। পারস্পরিক বিনিয়োগ বাড়লে যৌথ উদ্যোগ গড়ে উঠবে এবং উভয় দেশের অর্থনীতি উপকৃত হবে।
ভারত-রাশিয়া সম্পর্ক কৌশলগত গুরুত্ব বহন করে। (Trade target)বিশ্বব্যাপী পরিস্থিতিতে দুই দেশ একে অপরের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। বাণিজ্য ও বিনিয়োগের এই লক্ষ্য দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো এখন কাজ শুরু করেছে। আগামী বছরগুলোতে এই সহযোগিতার ফল দেখা যাবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।