জম্মুতে বেআইনি বসবাসের মামলা, ৫০ পাক-নাগরিকের বিরুদ্ধে চার্জশিট - 24 Ghanta Bangla News
Home

জম্মুতে বেআইনি বসবাসের মামলা, ৫০ পাক-নাগরিকের বিরুদ্ধে চার্জশিট

Spread the love

নয়াদিল্লি: জম্মু বিভাগের (Jammu Kashmir) চার জেলায় পাকিস্তানি নাগরিকদের বেআইনি বসবাসের অভিযোগে বড় পদক্ষেপ করল জম্মু ক্রাইম ব্রাঞ্চ। আটটি পৃথক ঘটনার তদন্ত শেষ করে মোট…

নয়াদিল্লি: জম্মু বিভাগের (Jammu Kashmir) চার জেলায় পাকিস্তানি নাগরিকদের বেআইনি বসবাসের অভিযোগে বড় পদক্ষেপ করল জম্মু ক্রাইম ব্রাঞ্চ। আটটি পৃথক ঘটনার তদন্ত শেষ করে মোট ৫০ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দিয়েছে স্পেশাল ক্রাইম উইং (SCW)। পাশাপাশি, চার্জশিট দাখিলের আগেই মৃত্যু হওয়া আরও ১৫ জনের কথিত সংশ্লিষ্টতার বিষয়টিও তদন্তের নথিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। শনিবার তদন্তকারী সংস্থার এক মুখপাত্র এই তথ্য জানিয়েছেন।

জম্মু, পুঞ্চ, রাজৌরি এবং কাঠুয়া জেলার উপযুক্ত আদালতে এই চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে। জম্মুর স্পেশাল ক্রাইম উইং, ক্রাইম ব্রাঞ্চ থানায় নথিভুক্ত একটি মামলার অধীনে বিশেষ তদন্তকারী দল বা SIT তদন্ত চালায়।

ALSO READ | বিহারের রাজনীতিতে বড় সিদ্ধান্ত! জনতা দল থেকে বহিস্কৃত বাহুবলি বিধায়ক

কী অভিযোগ উঠেছে?

ক্রাইম ব্রাঞ্চের দাবি, নির্ভরযোগ্য সূত্রে তারা জানতে পারে যে পাকিস্তানের কয়েকজন নাগরিক, যাঁদের মধ্যে পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরের (PoK) বাসিন্দারাও রয়েছেন, ১৯৭০-এর দশকের শেষ দিক থেকে বৈধ ভ্রমণ নথি নিয়ে ভারতে আসার পর জম্মু বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় বেআইনিভাবে বসবাস করছিলেন।

তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, তাঁদের মধ্যে কয়েকজন নিজেদের বিদেশি নাগরিকত্বের পরিচয় গোপন করে প্রতারণার মাধ্যমে ভারতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করেছিলেন। এমনকি, ওই জাল বা জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি নথি ব্যবহার করে কয়েকজন সরকারি দফতরে চাকরিও পেয়েছিলেন বলে অভিযোগ।

এই তথ্যের ভিত্তিতে বিদেশি আইন, ১৯৪৬, পাসপোর্ট (ভারতে প্রবেশ) আইন, ১৯২০-এর প্রাসঙ্গিক বিধান এবং পাসপোর্ট (ভারতে প্রবেশ) বিধি, ১৯৫০-এর ৬ নম্বর বিধি-সহ প্রযোজ্য আইনে মামলা রুজু করা হয়। পাশাপাশি, তৎকালীন রণবীর পেনাল কোড বা RPC-র প্রাসঙ্গিক ধারাও প্রয়োগ করা হয়েছে বলে সংস্থার মুখপাত্র জানিয়েছেন।

ALSO READ | সোশ্যাল মিডিয়ায় দেশবিরোধী প্রচার, জইশ যোগ! মুম্বই থেকে গ্রেফতার সন্দেহভাজন জঙ্গি

পাকিস্তানের একাধিক এলাকা থেকে আসা পরিবারের সন্ধান

তদন্তে পাকিস্তানের সিন্ধ, লাহোর, গুজরানওয়ালা ও সারগোধা এবং পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরের মিরপুর, রাওয়ালকোট ও কোটলি এলাকার সঙ্গে সম্পর্কিত কয়েকটি পরিবারের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে বলে ক্রাইম ব্রাঞ্চের দাবি।

তদন্তকারীদের বক্তব্য, এই পরিবারগুলির কয়েকটি জম্মু বিভাগের আখনুর, মেন্ধর, থানামান্ডি, দারহাল এবং কাঠুয়া এলাকায় বসবাস শুরু করেছিল। তাঁদের ভারতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহের ক্ষেত্রে বিদেশি নাগরিকত্ব গোপন করা হয়েছিল কি না, সেই বিষয়টি তদন্তে খতিয়ে দেখা হয়েছে।

ভারতীয় পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ

ক্রাইম ব্রাঞ্চের মুখপাত্রের দাবি, কথিত ষড়যন্ত্রে যুক্ত থাকার অভিযোগে কয়েকজন ভারতীয় স্বামী বা স্ত্রী, পরিবারের সদস্য এবং অন্য ব্যক্তির বিরুদ্ধেও চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার মতে, পরিচয় গোপন করে নথি সংগ্রহের প্রক্রিয়ায় তাঁদের ভূমিকা ছিল।

তবে চার্জশিট জমা দেওয়া মানেই অভিযুক্তদের অপরাধ আদালতে প্রমাণিত হয়ে যাওয়া নয়। অভিযোগগুলির সত্যতা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায় বিচারপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

আটটি ঘটনার তদন্ত শেষ করে এই পদক্ষেপ জম্মু বিভাগের নিরাপত্তা ও পরিচয়পত্র সংক্রান্ত জালিয়াতির অভিযোগকে ফের আলোচনায় এনেছে। এখন সংশ্লিষ্ট আদালতে মামলাগুলির পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার দিকে নজর থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *