কম বাজেটে প্রিমিয়াম কেবিন! অ্যাম্বিয়েন্ট লাইটিং-সহ সেরা ১০ গাড়ি
গুরুগাঁও: গাড়ির ইন্টিরিয়রকে আরও আকর্ষণীয় ও প্রিমিয়াম করে তুলতে এখন অ্যাম্বিয়েন্ট লাইটিং (Ambient Lighting) গুরুত্বপূর্ণ ফিচার হয়ে উঠেছে। আগে মূলত দামি গাড়িতে এই সুবিধা দেখা গেলেও বর্তমানে তুলনামূলক কম দামের হ্যাচব্যাক, SUV ও সেডানেও মিলছে এই ব্যবস্থা। উৎসবের মরশুমে নতুন গাড়ি কেনার পরিকল্পনা থাকলে অ্যাম্বিয়েন্ট লাইটিং-সহ কয়েকটি মডেল আপনার পছন্দের তালিকায় রাখতে পারেন। Tata Altroz থেকে Hyundai Verna, এই তালিকায় রয়েছে বিভিন্ন দামের ১০টি গাড়ি।
অ্যাম্বিয়েন্ট লাইটিং বলতে গাড়ির ড্যাশবোর্ড, দরজার প্যানেল বা সেন্টার কনসোলের আশপাশে থাকা LED আলোকে বোঝায়। এই আলো কেবিনের চেহারায় আলাদা মাত্রা যোগ করে। নিচে দেওয়া দামগুলি মূল প্রতিবেদনে উল্লেখিত নির্দিষ্ট ভ্যারিয়েন্টের এক্স-শোরুম মূল্য। শহর, ভ্যারিয়েন্ট ও সময় অনুযায়ী দাম পরিবর্তিত হতে পারে।
১. Tata Altroz
দাম: ৮.১০ লক্ষ টাকা থেকে
Tata Altroz এই তালিকার সবচেয়ে সাশ্রয়ী গাড়ি, যেখানে অ্যাম্বিয়েন্ট লাইটিংয়ের সুবিধা পাওয়া যায় বলে মূল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রিমিয়াম হ্যাচব্যাকটির ড্যাশবোর্ডের প্রায় পুরো প্রস্থ জুড়ে রয়েছে সরু LED অ্যাম্বিয়েন্ট লাইট, যা কেবিনকে আধুনিক চেহারা দেয়।
ইঞ্জিনের বিকল্প হিসেবে রয়েছে ১.২ লিটারের ন্যাচারালি অ্যাসপিরেটেড পেট্রল ইঞ্জিন, পেট্রল-CNG সংস্করণ এবং ১.৫ লিটারের ডিজেল ইঞ্জিন। ভ্যারিয়েন্ট অনুযায়ী ম্যানুয়াল, AMT ও DCT গিয়ারবক্সের বিকল্প পাওয়া যায়। কম বাজেটে হ্যাচব্যাকের ব্যবহারিক সুবিধার সঙ্গে প্রিমিয়াম ইন্টিরিয়র চাইলে Altroz বিবেচনা করা যেতে পারে।
২. Renault Kiger
দাম: ৮.৫০ লক্ষ টাকা থেকে
Renault Kiger একটি কমপ্যাক্ট SUV, যার ফেসলিফট সংস্করণে ডিজাইন ও ফিচারে পরিবর্তন আনা হয়েছে। গাড়িটির কেবিনে ফ্যাক্টরি-ফিটেড অ্যাম্বিয়েন্ট লাইটিং রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এতে রয়েছে ১.০ লিটারের ন্যাচারালি অ্যাসপিরেটেড পেট্রল এবং ১.০ লিটারের টার্বো-পেট্রল ইঞ্জিন। ভ্যারিয়েন্ট অনুযায়ী ম্যানুয়াল, AMT অথবা CVT গিয়ারবক্সের বিকল্প রয়েছে। SUV-র মতো বসার অবস্থান এবং তুলনামূলক কম দামের মধ্যে আধুনিক কেবিন চাইলে Kiger নজরে রাখতে পারেন।
৩. Nissan Magnite
দাম: ৮.৭৬ লক্ষ টাকা থেকে
Nissan Magnite দেশের সাশ্রয়ী সাব-কমপ্যাক্ট SUV-গুলির মধ্যে অন্যতম। গাড়িটির ড্যাশবোর্ডের যাত্রীর পাশের অংশ এবং দরজার প্যানেলে সাদা LED অ্যাম্বিয়েন্ট লাইটিং দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ইন্টিরিয়রের অন্যান্য ফিনিশের সঙ্গে এই আলো কেবিনকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।
Magnite-এ রয়েছে ১.০ লিটারের ন্যাচারালি অ্যাসপিরেটেড পেট্রল এবং ১.০ লিটারের টার্বো-পেট্রল ইঞ্জিন। ইঞ্জিন ও ভ্যারিয়েন্ট অনুযায়ী ম্যানুয়াল, AMT অথবা CVT গিয়ারবক্স পাওয়া যায়। শহরে দৈনন্দিন যাতায়াতের জন্য কমপ্যাক্ট SUV খুঁজছেন, এমন ক্রেতাদের কাছে এটি একটি বিকল্প হতে পারে।
৪. Citroen Basalt X
দাম: ৯.৯৯ লক্ষ টাকা থেকে
Citroen Basalt X-এর ডিজাইন এবং কেবিনের আরাম এই গাড়ির অন্যতম আকর্ষণ। ড্যাশবোর্ডের বহুস্তরীয় নকশার সঙ্গে সাদা LED অ্যাম্বিয়েন্ট লাইটিং যুক্ত করা হয়েছে বলে মূল প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
এতে রয়েছে ১.২ লিটারের ন্যাচারালি অ্যাসপিরেটেড পেট্রল এবং টার্বো-পেট্রল ইঞ্জিনের বিকল্প। ভ্যারিয়েন্ট অনুযায়ী ম্যানুয়াল ও অটোমেটিক গিয়ারবক্স পাওয়া যায়। SUV-ধাঁচের ডিজাইন, প্রশস্ত কেবিন এবং আলাদা স্টাইলের গাড়ি পছন্দ হলে Basalt X বিবেচনা করতে পারেন।
৫. Citroen Aircross X
দাম: ৯.৯৯ লক্ষ টাকা থেকে
Citroen Aircross X এই তালিকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প, বিশেষ করে যাঁরা পাঁচ আসনের পাশাপাশি সাত আসনের SUV-ও বিবেচনা করছেন। গাড়িটির ড্যাশবোর্ডে Basalt X-এর মতো সাদা LED অ্যাম্বিয়েন্ট লাইটিং রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এতে ১.২ লিটারের ন্যাচারালি অ্যাসপিরেটেড পেট্রল ইঞ্জিনের সঙ্গে ম্যানুয়াল গিয়ারবক্স এবং টার্বো-পেট্রল ইঞ্জিনের সঙ্গে ম্যানুয়াল ও অটোমেটিক গিয়ারবক্সের বিকল্প রয়েছে। বড় পরিবারের জন্য সাত আসনের সংস্করণটি বিশেষভাবে বিবেচনাযোগ্য। তবে আসনসংখ্যা ও গিয়ারবক্স অনুযায়ী দাম আলাদা হবে।
৬. Maruti Suzuki Brezza
দাম: ১০.০৯ লক্ষ টাকা থেকে
Maruti Suzuki Brezza-র কেবিনে অ্যাম্বিয়েন্ট লাইটিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। অন্যান্য কয়েকটি গাড়ির মতো পুরো ড্যাশবোর্ড জুড়ে LED স্ট্রিপের পরিবর্তে দরজার প্যানেলে আলো এবং ড্যাশবোর্ডের নীচের অংশে ফুটওয়েল লাইটিং দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
ইঞ্জিনের বিকল্প হিসেবে প্রতিবেদনে ১.০ লিটারের টার্বো-পেট্রল, ১.৫ লিটারের ন্যাচারালি অ্যাসপিরেটেড পেট্রল এবং পেট্রল-CNG সংস্করণের কথা বলা হয়েছে। ভ্যারিয়েন্ট অনুযায়ী ম্যানুয়াল ও অটোমেটিক গিয়ারবক্সের বিকল্পও রয়েছে।
তবে Brezza-র ইঞ্জিন, ভ্যারিয়েন্ট এবং দাম সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের আগে Maruti Suzuki-র বর্তমান অফিসিয়াল তালিকার সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া জরুরি।
৭. Skoda Kylaq
দাম: ১১.৩৫ লক্ষ টাকা থেকে
Skoda Kylaq সাব-কমপ্যাক্ট SUV বিভাগে পারফরম্যান্স ও ড্রাইভিং অভিজ্ঞতায় আগ্রহী ক্রেতাদের নজর কাড়ে। গাড়িটির ড্যাশবোর্ডের যাত্রীর পাশের অংশে সাদা LED অ্যাম্বিয়েন্ট লাইটিং রয়েছে। আলোটি কাপড়ের মতো নকশাযুক্ত অংশের নীচে বসানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
Kylaq-এ রয়েছে ১.০ লিটারের টার্বো-পেট্রল ইঞ্জিন। সঙ্গে পাওয়া যায় ছয়-গতির ম্যানুয়াল এবং ছয়-গতির টর্ক কনভার্টার অটোমেটিক গিয়ারবক্সের বিকল্প। SUV-র ব্যবহারিক সুবিধার সঙ্গে টার্বো-পেট্রল ইঞ্জিন চাইলে এটি বিবেচনা করা যেতে পারে।
৮. Hyundai Venue
দাম: ১১.৯৪ লক্ষ টাকা থেকে
Hyundai Venue-র নতুন প্রজন্মে ডিজাইন ও ইন্টিরিয়রের পাশাপাশি ফিচারেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। কেবিনে যাত্রীর পাশের ড্যাশবোর্ড এবং সেন্টার কনসোলের নীচের অংশ ঘিরে সাদা অ্যাম্বিয়েন্ট লাইটিং রয়েছে বলে মূল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইঞ্জিনের বিকল্প হিসেবে রয়েছে ১.২ লিটারের ন্যাচারালি অ্যাসপিরেটেড পেট্রল, ১.০ লিটারের টার্বো-পেট্রল এবং ১.৫ লিটারের ডিজেল ইঞ্জিন। ভ্যারিয়েন্ট অনুযায়ী ম্যানুয়াল, DCT বা অটোমেটিক গিয়ারবক্স পাওয়া যায়।
শহরের রাস্তায় চলাচল, পরিবার নিয়ে ভ্রমণ এবং আধুনিক ফিচারের সমন্বয় যাঁরা চান, তাঁদের কাছে Venue একটি বিকল্প হতে পারে। তবে কেনার আগে নির্দিষ্ট ভ্যারিয়েন্টে অ্যাম্বিয়েন্ট লাইটিং রয়েছে কি না, তা যাচাই করা উচিত।
৯. Honda City
দাম: ১২ লক্ষ টাকা থেকে
Honda City দীর্ঘদিন ধরে সেডানপ্রেমীদের পরিচিত একটি নাম। গাড়িটির ড্যাশবোর্ডের যাত্রীর পাশের অংশে এবং টাচস্ক্রিন ইনফোটেনমেন্ট সিস্টেমের নীচে LED লাইটিং দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এতে রয়েছে ১.৫ লিটারের ন্যাচারালি অ্যাসপিরেটেড পেট্রল ইঞ্জিন, যার সঙ্গে ম্যানুয়াল ও CVT গিয়ারবক্সের বিকল্প পাওয়া যায়। পাশাপাশি রয়েছে ১.৫ লিটারের পেট্রল-হাইব্রিড সংস্করণ, যেখানে e-CVT ট্রান্সমিশন ব্যবহার করা হয়েছে।
যাঁরা SUV-র পরিবর্তে সেডানের আরাম, পরিচিত ব্র্যান্ড এবং পরিমিত ডিজাইনের কেবিন পছন্দ করেন, তাঁদের জন্য Honda City বিবেচনাযোগ্য।
১০. Hyundai Verna
দাম: ১৩.২৫ লক্ষ টাকা থেকে
এই তালিকার অন্যতম আকর্ষণীয় ইন্টিরিয়র রয়েছে Hyundai Verna-তে। গাড়িটির ড্যাশবোর্ডের পুরো প্রস্থ জুড়ে কাস্টমাইজযোগ্য LED অ্যাম্বিয়েন্ট লাইটিং রয়েছে। সামনের দরজার প্যানেলেও তিনটি করে আলোর স্ট্রিপ রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে কেবিনে আরও প্রিমিয়াম পরিবেশ তৈরি হয়।
Verna-তে রয়েছে ১.৫ লিটারের ন্যাচারালি অ্যাসপিরেটেড পেট্রল এবং ১.৫ লিটারের টার্বো-পেট্রল ইঞ্জিন। ভ্যারিয়েন্ট অনুযায়ী ম্যানুয়াল, CVT অথবা সাত-গতির DCT গিয়ারবক্সের বিকল্প পাওয়া যায়।
যাঁরা সেডানের সঙ্গে আধুনিক ইন্টিরিয়র, একাধিক ফিচার এবং টার্বো-পেট্রল ইঞ্জিনের বিকল্প চান, তাঁদের জন্য Verna এই তালিকার অন্যতম বিকল্প। তবে নির্দিষ্ট ভ্যারিয়েন্টের দাম ও ফিচার যাচাই করে কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
কোন গাড়িটি আপনার জন্য উপযুক্ত?
কম বাজেটে হ্যাচব্যাক চাইলে Tata Altroz দিয়ে খোঁজ শুরু করা যেতে পারে। SUV-র ডিজাইন পছন্দ হলে Renault Kiger, Nissan Magnite বা Skoda Kylaq বিবেচনা করতে পারেন। বড় পরিবারের জন্য Citroen Aircross X-এর সাত আসনের সংস্করণ এবং সেডানপ্রেমীদের জন্য Honda City বা Hyundai Verna নজরে রাখতে পারেন।
তবে শুধু অ্যাম্বিয়েন্ট লাইটিং দেখে গাড়ি কেনা উচিত নয়। নিরাপত্তা ব্যবস্থা, এয়ারব্যাগ, ক্র্যাশ-টেস্টের ফল, জ্বালানি খরচ, রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয় এবং নিজের দৈনন্দিন ব্যবহারের প্রয়োজনের সঙ্গে মিলিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়াই ভালো।
Essential Business Intelligence, Sharp Market Insights, Practical Personal Finance Advice, Daily Fuel, Gold and Silver Prices and Latest Stories – On Kolkata24x7 Business