বেতন কমিশনে ৬৯ হাজার ন্যূনতম বেতনের দাবি, পেনশনেও বড় প্রস্তাব - 24 Ghanta Bangla News
Home

বেতন কমিশনে ৬৯ হাজার ন্যূনতম বেতনের দাবি, পেনশনেও বড় প্রস্তাব

Spread the love

নয়াদিল্লি: অষ্টম কেন্দ্রীয় বেতন কমিশনের (8th Pay Commission) কাছে ন্যূনতম বেতন ও পেনশন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর প্রস্তাব পেশ করেছে কর্ণাটকের Posts and Telecommunications Pensioners’ Association। সংগঠনটির দাবি, ন্যূনতম বেতন নির্ধারণে ৩.৮৩৩ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর প্রয়োগ করা হোক এবং কর্মীদের বার্ষিক বেতনবৃদ্ধির হার বর্তমান ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৬ শতাংশ করা হোক। প্রস্তাব কার্যকর হলে বর্তমান ১৮,০০০ টাকার ন্যূনতম বেসিক বেতন বেড়ে প্রায় ৬৯,০০০ টাকা হতে পারে। তবে এগুলি পেনশনভোগী সংগঠনের দাবি, অষ্টম বেতন কমিশনের চূড়ান্ত সুপারিশ বা কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদিত সিদ্ধান্ত নয়।

ন্যূনতম বেতন ও পেনশন কত করার দাবি?

সংগঠনটির স্মারকলিপিতে বেতন, পেনশন ও বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের ক্ষেত্রে একাধিক পরিবর্তনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

বেতন ও পেনশনের বিষয় বর্তমান স্তর সংগঠনের প্রস্তাব
ন্যূনতম বেসিক বেতন ₹১৮,০০০ প্রায় ₹৬৯,০০০
ন্যূনতম বেসিক পেনশন ₹৯,০০০ প্রায় ₹৩৪,৫০০
বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট ৩% ৬%
ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর চূড়ান্ত নয় ৩.৮৩৩

এখানে উল্লেখিত অঙ্কগুলি সংগঠনের প্রস্তাবের ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে। এগুলিকে অষ্টম বেতন কমিশনে অনুমোদিত বেতন বা পেনশন হিসেবে ধরা যাবে না।

৩.৮৩৩ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরে বেতন কত হতে পারে?

ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর হল পুরনো বেসিক বেতনকে নতুন বেতন কাঠামোয় রূপান্তরের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত একটি গুণক। সংগঠনটির প্রস্তাবিত ৩.৮৩৩ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর বর্তমান ১৮,০০০ টাকার ন্যূনতম বেসিক বেতনে প্রয়োগ করলে হিসাব দাঁড়ায়:

১৮,০০০ × ৩.৮৩৩ = ৬৮,৯৯৪ টাকা।

অর্থাৎ, প্রস্তাবিত হিসাব অনুযায়ী ন্যূনতম বেসিক বেতন প্রায় ৬৯,০০০ টাকা হতে পারে। তবে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর বাড়লেই প্রত্যেক কর্মীর হাতে পাওয়া মোট বেতন একই অনুপাতে বাড়বে, এমন নয়। চূড়ান্ত বেতন কাঠামো, ভাতা এবং অন্যান্য নিয়মের উপর প্রকৃত অঙ্ক নির্ভর করবে।

ন্যূনতম পেনশন ৩৪ হাজার টাকার বেশি করার দাবি

বর্তমানে ৯,০০০ টাকার ন্যূনতম বেসিক পেনশনকে একই ৩.৮৩৩ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরে গুণ করলে হিসাব দাঁড়ায় ৩৪,৪৯৭ টাকা। সেই হিসাবে সংগঠনটির প্রস্তাবিত ন্যূনতম বেসিক পেনশন প্রায় ৩৪,৫০০ টাকা।

এই দাবি বাস্তবায়িত হলে সংশ্লিষ্ট পেনশনভোগীদের বেসিক পেনশনে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হতে পারে। তবে পেনশন পুনর্নির্ধারণের চূড়ান্ত পদ্ধতি কী হবে, তা কমিশনের সুপারিশ এবং কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করবে।

বার্ষিক বেতনবৃদ্ধি ৩% থেকে ৬% করার প্রস্তাব

সংগঠনটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি হল বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের হার ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৬ শতাংশ করা। তাদের বক্তব্য, বেতনবৃদ্ধির হার বাড়লে মূল্যবৃদ্ধির চাপ সামলাতে কর্মীদের সুবিধা হবে এবং কাজের প্রতি উৎসাহও বাড়তে পারে।

তবে বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের হার বাড়ানোর প্রস্তাব এখনও আলোচনাধীন দাবির পর্যায়ে রয়েছে। অষ্টম বেতন কমিশন এই বিষয়ে কী সুপারিশ করবে, তা এখনও জানা যায়নি।

ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে বদলাতে পারে Aykroyd Formula

ন্যূনতম বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত Aykroyd Formula সংশোধনেরও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। তাদের মতে, বর্তমান সময়ের পরিবারের জীবনযাত্রার খরচ নির্ধারণে শুধু খাদ্য, পোশাক ও বাসস্থানের মতো প্রচলিত খরচ বিবেচনা করলেই হবে না। ইন্টারনেট, অনলাইন যোগাযোগ এবং অন্যান্য ডিজিটাল পরিষেবার খরচও যথাযথভাবে হিসাবের মধ্যে আনতে হবে।

ডিজিটাল পরিষেবা এখন দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। তাই ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের পদ্ধতিতে পরিবারের প্রকৃত খরচের প্রতিফলন থাকা উচিত বলে সংগঠনটির দাবি।

পরিবারভিত্তিক হিসাবেও পরিবর্তনের প্রস্তাব

বর্তমান তিন-ইউনিটের পরিবারভিত্তিক হিসাবের পরিবর্তে আরও বিস্তৃত কাঠামো গ্রহণের প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি। তাদের প্রস্তাবে কর্মী, স্বামী বা স্ত্রী, সন্তান এবং নির্ভরশীল বাবা-মায়ের খরচ বিবেচনার কথা বলা হয়েছে।

প্রস্তাবিত হিসাব অনুযায়ী, কর্মীর জন্য ১ ইউনিট, স্বামী বা স্ত্রীর জন্য ১ ইউনিট, দুই সন্তানের জন্য মোট ২ ইউনিট এবং প্রত্যেক নির্ভরশীল অভিভাবকের জন্য ০.৮ ইউনিট ধরা হতে পারে। এর মাধ্যমে পরিবারের আকার ও নির্ভরশীল সদস্যদের খরচ ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে আরও বাস্তবসম্মতভাবে প্রতিফলিত হবে বলে সংগঠনটির মত।

অষ্টম বেতন কমিশন কবে চূড়ান্ত রিপোর্ট দেবে?

প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, অষ্টম বেতন কমিশন ৩ নভেম্বর ২০২৫-এ গঠিত হয়েছিল। কমিশনের তিন সদস্যের প্যানেলের নেতৃত্বে রয়েছেন বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাই। ২০২৬ সালের ৮ অক্টোবর বেঙ্গালুরুতে বিভিন্ন কর্মচারী ও পেনশনভোগী সংগঠনের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মুম্বইয়ে ২২ অক্টোবর থেকে আরও বৈঠকের কর্মসূচির কথাও জানানো হয়েছে।

কমিশনের Terms of Reference বা কার্যপরিধি অনুযায়ী, গঠনের ১৮ মাসের মধ্যে চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা হলে সম্ভাব্য সময়সীমা ২০২৭ সালের মে মাসের শুরু থেকে জুনের মধ্যে পড়ে। তবে চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দিষ্ট তারিখ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন।

কমিশন বিভিন্ন সংগঠন, কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের প্রস্তাব পর্যালোচনা করে সুপারিশ তৈরি করবে। এরপর কেন্দ্রীয় সরকার সেই সুপারিশ বিবেচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়: ন্যূনতম বেসিক বেতন ৬৯,০০০ টাকা, ন্যূনতম বেসিক পেনশন প্রায় ৩৪,৫০০ টাকা এবং ৬ শতাংশ বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের প্রস্তাব এখনও সংগঠনের দাবি মাত্র। অষ্টম বেতন কমিশনের সুপারিশ এবং কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদন না আসা পর্যন্ত এগুলিকে নিশ্চিত সুবিধা হিসেবে ধরা উচিত নয়।

Essential Business Intelligence, Sharp Market Insights, Practical Personal Finance Advice, Daily Fuel, Gold and Silver Prices and Latest Stories – On Kolkata24x7 Business

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *