Weight loss tips: হু হু করে কমবে মেদ, মেনে চলুন এই কয়েকটি সহজ নিয়ম | Easy Post Puja Detox Tips to Lose Weight Fast
ষষ্ঠীর দিন যে জিন্সটা অনায়াসে গলে গিয়েছিল, একাদশীতে এসে সেটা পরতেই রীতিমতো কালঘাম ছুটছে! পুজোর ক’দিন প্যান্ডেল হপিংয়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলেছে এগরোল, বিরিয়ানি আর মণ্ডপের ভোগ সাঁটানো। আর দশমীর পর থেকেই শুরু হয়েছে দেদার মিষ্টিমুখ। পেট বেচারাও উৎসবের এই ম্যারাথনে বেশ ক্লান্ত। ফলস্বরূপ, আয়নার সামনে দাঁড়ালেই পেটের কাছে উঁকি দিচ্ছে বাড়তি মেদ। ঘরে ঘরে এখন এই ছবি। তবে উৎসবের শেষে এই ওজন বাড়া নিয়ে অযথা আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। মেদ ঝরাতে না খেয়ে থাকা বা জিমে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘাম ঝরানোরও প্রয়োজন নেই। বরং দৈনন্দিন জীবনে কয়েকটি ছোট বদল আনলেই ম্যাজিকের মতো কাজ হবে।
কী কী করবেন?
ডিটক্স পানীয়
দিনের শুরুতে চা বা কফির বদলে হালকা গরম জল ও পাতিলেবুর রস বেছে নিতে পারেন। এর সঙ্গে সামান্য মধু মিশিয়ে নিলে তা শরীরের জমে থাকা টক্সিন বের করতে দারুণ কাজ করে। মেটাবলিজম রেট বাড়িয়ে ওজন কমাতেও এর জুড়ি মেলা ভার। সারাদিন সাধারণ জলের বদলে শসা ও পুদিনা পাতা ভেজানো ডিটক্স ওয়াটার খেলেও শরীর সতেজ থাকে।
বাড়ির খাবার
পুজোর ক’দিন তো দেদার বাইরের খাবার খাওয়া হয়েছে। এবার রেস্তোরাঁ বা স্ট্রিট ফুডকে পুরোপুরি বিদায় জানান। ভরসা রাখুন বাড়ির তৈরি হালকা ও সহজপাচ্য খাবারে। তেল-মশলা যুক্ত খাবারের বদলে সেদ্ধ বা কম তেলে রান্না করা খাবার খেলে দ্রুত মেদ ঝরে এবং হজমশক্তিও বাড়ে।
মিষ্টি থেকে শতহস্ত দূরে
বিজয়ার মিষ্টিমুখ তো শেষ। এবার চিনি বা মিষ্টি জাতীয় খাবার থেকে দূরে থাকার পালা। প্যাকেটজাত পানীয়, কোল্ড ড্রিংকস বা অতিরিক্ত চিনি দেওয়া চা-কফি খাওয়া কখনও উচিত নয়। এতে হু হু করে ক্যালোরি বাড়ে। মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছা হলে আপেল, পেয়ারা বা পেঁপের মতো মরশুমি ফল বেছে নিন।
ফাইবার ও প্রোটিন
শরীরকে ভেতর থেকে পরিষ্কার করতে ফাইবার যুক্ত খাবারের কোনও বিকল্প নেই। রোজকার ডায়েটে প্রচুর পরিমাণে সবুজ শাকসবজি, শসা এবং গাজর রাখা প্রয়োজন। ফাইবার পেট অনেকক্ষণ ভরতি রাখে, ফলে বারবার খিদে পাওয়ার প্রবণতা কমে। পাশাপাশি, ডাল, সোয়াবিন, ডিম বা মাছের মতো প্রোটিন যুক্ত খাবার পেশি গঠনে এবং মেদ ঝরাতে দারুণ সাহায্য করে।
পর্যাপ্ত ঘুম এবং শরীরচর্চা
পুজোর সময় রাত জাগার ফলে শরীরের স্বাভাবিক রুটিন অনেকটাই ঘেঁটে গিয়েছে। তাই এখন প্রতিদিন অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা টানা ঘুম অত্যন্ত জরুরি। পর্যাপ্ত ঘুম শরীরের ক্লান্তি দূর করার পাশাপাশি ওজন কমাতেও সাহায্য করে। এর সঙ্গে প্রতিদিন নিয়ম করে অন্তত ৩০ থেকে ৪০ মিনিট দ্রুত পায়ে হাঁটার অভ্যাস তৈরি করলে বাড়তি মেদ দ্রুত গায়েব হয়ে যায়।
হঠাৎ করে না খেয়ে ওজন কমানোর চেষ্টা করা আদতে বোকামি। বরং সঠিক খাদ্যাভ্যাস আর স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই হল ফিট থাকার আসল চাবিকাঠি। একটু নিয়ম মেনে চললেই পুজোর আগের সেই ফিট চেহারা ফিরে পাওয়া একদম সহজ।