গ্রাহকের দায় ও RBI-এর নতুন নিয়ম কী বলছে? - 24 Ghanta Bangla News
Home

গ্রাহকের দায় ও RBI-এর নতুন নিয়ম কী বলছে?

Spread the love

নয়াদিল্লি: সম্প্রতি স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (SBI)-র একটি ডেটা লিক বা তথ্য ফাঁসের ঘটনা গ্রাহকদের তথ্য সুরক্ষা ও অননুমোদিত লেনদেন বা জালিয়াতি নিয়ে নতুন করে…

নয়াদিল্লি: সম্প্রতি স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (SBI)-র একটি ডেটা লিক বা তথ্য ফাঁসের ঘটনা গ্রাহকদের তথ্য সুরক্ষা ও অননুমোদিত লেনদেন বা জালিয়াতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। তবে ব্যাঙ্কের দাবি, এই ঘটনায় খুব অল্প সংখ্যক গ্রাহকই প্রভাবিত হয়েছেন এবং গ্রাহকদের অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত রয়েছে।

কিন্তু যদি আপনার অ্যাকাউন্ট থেকে ওটিপি (OTP) শেয়ার না করেই বা আপনার অনুমোদন ছাড়াই টাকা কেটে নেওয়া হয়, সে ক্ষেত্রে কী নিয়ম প্রযোজ্য? ইলেকট্রনিক ব্যাঙ্কিং জালিয়াতির ক্ষেত্রে গ্রাহকের দায়বদ্ধতা ও ব্যাঙ্কের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নিয়মগুলি নিয়ন্ত্রণ করে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (RBI)। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যাঙ্কের দুর্বল ফ্রড মনিটরিং সিস্টেম, অপর্যাপ্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা বা ডেটা ফাঁসের মতো ঘটনায় ব্যাঙ্কগুলিরও গাফিলতি থাকতে পারে।

এই কাঠামো অনুযায়ী, যদি জালিয়াতির জন্য ব্যাঙ্কের গাফিলতি থাকে, তবে গ্রাহকের ‘জিরো লায়াবিলিটি’ বা কোনো দায় থাকে না। এছাড়া তৃতীয় পক্ষের (Third-party) ডেটা ফাঁসের ঘটনা ৩ কার্যদিবসের মধ্যে জানালে গ্রাহক কোনো আর্থিক ক্ষতির দায় থেকে মুক্ত থাকেন।

রিজার্ভ ব্যাঙ্কের ‘কমার্শিয়াল ব্যাঙ্কস – রেসপনসিবল বিজনেস কন্ডাক্ট থার্ড অ্যামেন্ডমেন্ট ডিরেকশনস, ২০২৬’ আগামী ১ জানুয়ারি, ২০২৭ থেকে কার্যকর হতে চলেছে।

এই সংশোধিত নিয়মে জালিয়াতি রিপোর্টের সময়সীমা ৩ দিন থেকে বাড়িয়ে ৫ ক্যালেন্ডার দিন করা হচ্ছে৷ এর আওতা কেবল অননুমোদিত লেনদেন নয়, বরং চুরি যাওয়া ক্রেডেনশিয়াল বা জবরদস্তিমূলক জালিয়াতিকেও কভার করবে।

এছাড়া সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো প্রমাণের ভার (Burden of Proof), এখন থেকে গ্রাহকই দায়ী, তা প্রমাণ করার দায়িত্ব থাকবে ব্যাঙ্কের ওপর।

অনলাইন ব্যাঙ্কিং জালিয়াতির শিকার হলে তৎক্ষণাৎ কী করবেন?

অ্যাকাউন্ট থেকে অপরিচিত কোনো ডেবিট বা টাকা কেটে যাওয়ার নোটিস পেলে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি-

অ্যাক্সেস ব্লক করুন: অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড, ইউপিআই (UPI) বা নেট ব্যাঙ্কিং পরিষেবা ব্লক বা ডিজেবল করে দিন, যাতে আর কোনো লেনদেন না হতে পারে।

ব্যাঙ্ককে জানান: ব্যাঙ্কের অফিসিয়াল অ্যাপ, হেল্পলাইন বা শাখায় যোগাযোগ করে ঘটনাটি জানান। লিখিত অভিযোগের স্বীকৃতি (Acknowledgement) ও সময়-তারিখের রেকর্ড নিজের কাছে রাখুন।

সাইবার ক্রাইম হেল্পলাইনে যোগাযোগ করুন: অবিলম্বে ১৯৩০ নম্বরে ফোন করুন এবং cybercrime.gov.in পোর্টালে অভিযোগ दर्ज করুন। দ্রুত অভিযোগ জানালে পুলিশ ফান্ড ফ্রিজ করার সুযোগ পায়।

প্রমাণ সংরক্ষণ করুন: লেনদেনের মেসেজ, ব্যাঙ্কের বার্তা, সন্দেহজনক লিঙ্ক বা ফিশিং কমিউনিকেশন এবং অভিযোগের রেফারেন্স নম্বর সংরক্ষণ করুন। প্রয়োজনে থানায় এফআইআর করুন।

এসবিআই ডেটা ফাঁসের ঘটনায় কি ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত?

ডেটা লিক মানেই যে পরবর্তী কোনো জালিয়াতিতে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি গ্রাহক স্বয়ংক্রিয়ভাবে ক্ষতিপূরণ পাবেন, এমনটা নয়। ফাঁদ থেকে ফাঁস হওয়া তথ্য এবং আর্থিক ক্ষতির মধ্যে যোগসূত্র এবং ঘটনার সামগ্রিক পরিস্থিতি যাচাই করে দেখা হয়।

গ্রাহকদের সবসময় পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা, ট্রানজ্যাকশন অ্যালার্ট চালু রাখা এবং ব্যক্তিগত বা ব্যাঙ্কিং তথ্য চাওয়া ফোন কল বা বার্তার বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত দ্রুত অভিযোগ জানানো এবং প্রমাণের সঠিক রেকর্ডই আরবিআই-এর নিয়মের আওতায় ক্ষতিপূরণ পাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সহায়ক।

২০২৬ সালে বিশ্বব্যাপী জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে আমেরিকাকে পিছনে ফেলে ২ নম্বরে ভারত

ফের ইতিহাস ভারতীয় রেলের! মুম্বই–আহমেদাবাদ রুটে চলল দেশের প্রথম বৈদ্যুতিক ডাবল-স্ট্যাক ট্রেন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *