আ জার্নি অফ লাভ’-এর প্রথম ঝলক
নয়াদিল্লি: অবশেষে ইনস্টাগ্রামে আত্মপ্রকাশ করলেন কংগ্রেসের প্রাক্তন সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী। বৃহস্পতিবার ছবি ও ভিডিও শেয়ারিংয়ের এই জনপ্রিয় মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট খুলেই নিজের বহু প্রতীক্ষিত আত্মজীবনী ‘বিলিঙ্গ:…
নয়াদিল্লি: অবশেষে ইনস্টাগ্রামে আত্মপ্রকাশ করলেন কংগ্রেসের প্রাক্তন সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী। বৃহস্পতিবার ছবি ও ভিডিও শেয়ারিংয়ের এই জনপ্রিয় মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট খুলেই নিজের বহু প্রতীক্ষিত আত্মজীবনী ‘বিলিঙ্গ: আ জার্নি অফ লাভ’ (Belonging: A Journey of Love)-র প্রথম লুক প্রকাশ্যে এনেছেন তিনি। বইটি সম্পর্কে বলতে গিয়ে ভিডিওবার্তায় তিনি এটিকে “ভালোবাসা, কর্তব্য, ক্ষতি এবং নিজের সঠিক জায়গা খুঁজে পাওয়ার এক অনন্য গল্প” বলে অভিহিত করেছেন। অ্যাকাউন্ট খোলার মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই তাঁর অনুগামীর সংখ্যা সাড়ে চার হাজার ছাড়িয়ে যায়। বর্তমানে তিনি মাত্র তিনটি অ্যাকাউন্ট ফলো করছেন, রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র এবং কংগ্রেসের অফিসিয়াল পেজ।
সোনিয়ার ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে শেয়ার করা ওই ভিডিওটিতে দেখা গেছে, অত্যন্ত উৎসাহের সঙ্গে ৫৪৪ পাতার নিজের এই দীর্ঘ স্মৃতিকথার মোড়ক উন্মোচন করছেন তিনি। বইটি হাতে পাওয়ার পর পাতা উল্টে উল্টে ছোটবেলায় ছেলে রাহুল ও মেয়ে প্রিয়াঙ্কার কিছু দুর্লভ ছবিও দেখতে পাওয়া যায়। ভিডিওতে প্রিয়াঙ্কার উদ্দেশে তাঁকে বলতে শোনা যায়, “অনেক ছবি রয়েছে, প্রিয়াঙ্কা!” আগামী ১০ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে বইবাজারের তাকে আসতে চলা এই আত্মজীবনীটি ভারতে প্রকাশ করছে স্বনামধন্য প্রকাশনা সংস্থা হার্পার কলিন্স ইন্ডিয়া (HarperCollins India)। অন্যদিকে, বিশ্বজুড়ে এর আন্তর্জাতিক সংস্করণ প্রকাশের দায়িত্বে রয়েছে মার্কিন সংস্থা ‘আলফ্রেড এ. কনপ’ (Alfred A. Knopf)।
প্রকাশনা বদলের বিতর্ক ও অতীতের জলঘোলা
রাজনৈতিক মহলের মতে, সোনিয়া গান্ধীর এই আত্মজীবনী নিয়ে কম জলঘোলা হয়নি। এর আগে পেঙ্গুইন র্যান্ডম হাউস ইন্ডিয়া (PRHI)-র সঙ্গে সম্পাদকীয় পরিবর্তন সংক্রান্ত কিছু মতপার্থক্য তৈরি হওয়ায় বইটি প্রকাশ করা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছিল। সেই সময় কংগ্রেসের তরফে জোরালো অভিযোগ তোলা হয়েছিল যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (RSS) এবং ভারত-চীন সম্পর্ক সংক্রান্ত কিছু নির্দিষ্ট অংশ বই থেকে বাদ দেওয়ার জন্যই পেঙ্গুইনের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল। যদিও সেই অভিযোগ সম্পূর্ণ খারিজ করে পেঙ্গুইন জানিয়েছিল যে, বইটিকে তারা অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে অধিগ্রহণ করতে চেয়েছিল। অবশেষে সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে হার্পার কলিন্সের হাত ধরেই বাজারে আসছে বহুচর্চিত এই গ্রন্থ।
বইয়ে কী কী উঠে আসার সম্ভাবনা?
রাজনৈতিক ও সাহিত্য মহলের ধারণা, এই স্মৃতিকথায় যুদ্ধবিধ্বস্ত ইতালিতে সোনিয়া গান্ধীর প্রারম্ভিক শৈশব, পরবর্তী সময়ে ভারতে আগমন এবং ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর সঙ্গে তাঁর জীবনযাত্রার নানান অজানা অধ্যায় মূর্ত হয়ে উঠবে। পাশাপাশি, ইন্দিরা গান্ধী ও রাজীব গান্ধীর মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের মতো বড় ব্যক্তিগত বিপর্যয় এবং শাশুড়ি তথা স্বামীর মৃত্যুর পর অনিচ্ছাসত্ত্বেও রাজনীতিতে তাঁর প্রবেশ, সবকিছুই বিশদভাবে তুলে ধরা হয়েছে বলে অনুমান। বিশেষ করে, ২০০৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ইউপিএ (UPA)-র ঐতিহাসিক জয়ের পরেও তাঁর প্রধানমন্ত্রী পদ গ্রহণে অস্বীকৃতির নেপথ্যে ঠিক কী সমীকরণ কাজ করেছিল, সেই রহস্যের জটও এই বইয়ে খুলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
ডি-কোম্পানিকে ‘ভারতীয়’ আখ্যা! রাষ্ট্রসংঘে কড়া ভাষায় তোপ ভারতের
রাইহান বঢ়ড়া প্রদর্শনীতে সেন্সরশিপ! বিকানের হাউসে ৭৫টি ছবি সরানোর নির্দেশ নিয়ে বিতর্ক